প্রকাশিত: ২৭ ডিসেম্বার ২০২৫ , ০৮:৫২ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ইসলামের দুই পবিত্রতম স্থান মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে গত এক মাসে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের অভাবনীয় সমাগম ঘটেছে। হিজরি ১৪৪৭ সনের জুমাদিউস সানি মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সময়ে প্রায় ৬ কোটি ৯০ লাখ মানুষ দুই পবিত্র মসজিদে ইবাদত ও জিয়ারত সম্পন্ন করেছেন। সৌদি আরবের দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধান কর্তৃপক্ষের দেওয়া এই তথ্য গত মাসের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি, যা দেশটির ধর্মীয় ও পর্যটন ব্যবস্থাপনার সক্ষমতার এক নতুন দৃষ্টান্ত।
বিস্তারিত তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আলোচিত সময়ে মক্কার মসজিদুল হারামে প্রায় ৩ কোটি মুসল্লি ইবাদত করেছেন। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৭০০ জন মুসল্লি পবিত্র কাবা শরিফ সংলগ্ন মাতাফ এলাকায় নামাজ আদায়ের বিরল সুযোগ পান। অন্যদিকে, মদিনার মসজিদে নববীতে সমবেত হয়েছিলেন ২ কোটি ৩১ লাখ মানুষ। সেখানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারতের সুযোগ পেয়েছেন ১৩ লাখ মুসল্লি এবং মহানবী (সা.) ও তাঁর দুই সাহাবির পবিত্র কবর জিয়ারত করেছেন আরও ২৩ লাখ মানুষ। এই বিশাল জনস্রোত সামাল দিতে ডিজিটাল সেবা ও লজিস্টিক ব্যবস্থার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু এই এক মাসেই ১ কোটি ১৯ লাখের বেশি মানুষ ওমরাহ পালন করেছেন। যার মধ্যে ১৭ লাখ ছিলেন আন্তর্জাতিক যাত্রী। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর হওয়া এবং উন্নত পরিবহন ব্যবস্থার ফলে বিদেশিদের আগমন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়েছে। মূলত সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ অর্জনের অংশ হিসেবে হজ ও ওমরাহ প্রক্রিয়াকে বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের জন্য আরও নিরাপদ ও সহজসাধ্য করার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুসল্লিদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও প্রশান্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুরো প্রক্রিয়াকে ডিজিটাল নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। আবাসন থেকে যাতায়াত পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ওমরাহ যাত্রীদের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা মাথায় রেখে বর্তমানে মক্কা ও মদিনার অবকাঠামো উন্নয়নের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।