এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ , ০১:৫২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ফিলিস্তিন সফরে বন্দুকের মুখে মার্কিন কংগ্রেসম্যান, সেটলারদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ফিলিস্তিন সফরের সময় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) হাতে বন্দুকের মুখে আটকে থাকার অভিযোগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির কংগ্রেসম্যান রো খান্না। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে পৌঁছেও ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) তাঁদের মুক্ত করার পরিবর্তে সেটলারদের পক্ষ নেয় এবং পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত করে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে খান্না বলেন, আইডিএফ ঘটনাস্থলে এসে তাঁদের উদ্ধারের বদলে সেটলারদের অবস্থানকে সমর্থন করে। তিনি জানান, পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শিগগিরই প্রকাশ করবেন।

পরে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, ঘটনার আগের দিন মেশিনগানধারী কয়েকজন সেটলার তাঁদের সফরদলের পথরোধ করে। তারা রাস্তা বন্ধ করে দেয় এবং পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে ডাকে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেনারা এসে সেটলারদের পক্ষ নেয় এবং তাঁদের আটকে রাখে। তিনি আরও দাবি করেন, সেটলারদের হাতে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি অ্যাসল্ট রাইফেল ছিল।

খান্নার সফরসঙ্গী ও সহকারী ক্যামেরন কাস্কি জানান, তাঁদের এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। এ সময় তাঁরা জেরুজালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কাছে সহায়তা চান। পরে পুলিশ সদস্য বলে ধারণা করা কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিলে তাঁরা মুক্ত হন।

ডিআরএম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খান্না বলেন, পশ্চিম তীর ও ইসরায়েলে সাম্প্রতিক সফরে এই প্রথম তিনি বর্ণগত বৈষম্যের অনুভূতি এত গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তাঁর দাবি, ২১ থেকে ২২ বছর বয়সী সশস্ত্র সেটলাররা তাঁদের আটকে রেখে হাসছিল। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা ইসরায়েলি সেনাদের আচরণেও তিনি ঔদ্ধত্য দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মার্কিন নাগরিকদের আটকে রাখার বিষয়েও তাদের মধ্যে কোনো ধরনের শ্রদ্ধাবোধ দেখা যায়নি।

তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, খিরবেত জানুতা এলাকার কাছে বসতি স্থাপনকারীরা সড়ক অবরোধ করেছে বলে খবর পেয়ে সেনা ও পুলিশ সদস্যরা সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। খিরবেত জানুতা পশ্চিম তীরের একটি ছোট ফিলিস্তিনি জনপদ, যার বাসিন্দারা ২০২৩ সালে সহিংস সেটলার হামলার কারণে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন।

এই ঘটনার পর আবারও পশ্চিম তীরে সেটলারদের সহিংসতা আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিম তীরে সেটলার হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং ইসরায়েলি সরকারের নীরব সমর্থন তাদের আরও বেপরোয়া করে তুলেছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও অভিযোগ করেছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ ও জাতিগত নির্মূলের নীতি বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় সমর্থন দেওয়া হচ্ছে। গত মাসে কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সেটলারদের সহিংসতার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি ও নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। দীর্ঘদিনের দ্বিদলীয় সমর্থন থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের কিছু আইনপ্রণেতা ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি তুলেছেন।

রো খান্না এবং রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টমাস ম্যাসি এ দাবির অন্যতম প্রধান মুখ। বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেস নতুন সামরিক ব্যয়সংক্রান্ত একটি বিল পর্যালোচনা করছে, যা পাস হলে ইসরায়েলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। তবে খান্না সম্প্রতি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের জন্য মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের লক্ষ্যে টমাস ম্যাসি উত্থাপিত একটি বিলের ওপর প্রতিনিধি পরিষদের রুলস কমিটি ভোটাভুটি হতে দেয়নি। ওই বিলের সহ-উদ্যোক্তাদের একজন ছিলেন তিনি নিজেও।

এদিকে ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন রো খান্না। তাঁর মতে, ফিলিস্তিন সফরের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ক এবং পশ্চিম তীরের বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।