ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০২৬ , ০১:৫১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ঋণচুক্তিতে জনস্বার্থকে সামনে রাখছে বাংলাদেশ, ভিসানীতিতেও আসছে পরিবর্তন

বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় অর্থের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বার্তা দিয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন বাড়াতে দেশের ভিসানীতি আধুনিক করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সরকার।

রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নতুন কোনো আইএমএফ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগে দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও জনগণের স্বার্থ নিশ্চিত করা হবে। এমন কোনো শর্ত সরকার মেনে নেবে না, যা দেশের মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী।

অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য, আগের সরকারের সময়ে নেওয়া আইএমএফ কর্মসূচিতে এমন কিছু শর্ত ছিল, যা একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের জন্য গ্রহণযোগ্য ছিল না। সে কারণেই বর্তমান সরকার ওই কর্মসূচি থেকে সরে এসেছে।

তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু বৈদেশিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা নয়, বরং এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে জনগণের স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকবে। নতুন কর্মসূচি নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা হলেও বাংলাদেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের জন্য বাংলাদেশকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে ভিসানীতিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, সহজ ও আধুনিক ভিসাব্যবস্থা চালু হলে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে, বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসার পরিবেশ আরও অনুকূল হবে এবং বৈশ্বিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতি আস্থা আরও জোরদার হবে।

সরকারের এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকলেও ভবিষ্যৎ ঋণ কর্মসূচিতে জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক নীতিগত স্বাধীনতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চায় বাংলাদেশ।