প্রকাশিত: ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ০৯:১৫ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরূপ সমাহার বরগুনা জেলা। বিশেষ করে তালতলী উপজেলার 'শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত' এবং পাথরঘাটার 'হরিণঘাটা ইকোপার্ক' বর্তমানে পর্যটকদের কাছে নতুন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। শীতের আমেজ শেষে বসন্তের এই সময়ে প্রকৃতি যখন নবরূপে সেজেছে, ঠিক তখনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠছে এই পর্যটন কেন্দ্রগুলো।
শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকতের রূপ:
তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নে অবস্থিত শুভসন্ধ্যা সৈকতটি প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ। একদিকে বিশাল জলরাশি আর অন্যদিকে ঝাউবনের সারি—এই দুইয়ের মিতালী পর্যটকদের অন্য এক জগতে নিয়ে যায়। বিশেষ করে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য এটি অন্যতম সেরা স্থান। স্থানীয়রা জানান, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এটি কুয়াকাটার মতোই জনপ্রিয়তা পেতে পারে।
হরিণঘাটার বন্য সৌন্দর্য:
পাথরঘাটার বিষখালী ও বলেশ্বর নদীর মোহনায় অবস্থিত হরিণঘাটা ইকোপার্ক। এখানে রয়েছে বিশাল ম্যানগ্রোভ বন, যেখানে সুন্দরবনের মতোই কেওড়া, গেওয়া ও গোলপাতার বন দেখা যায়। বনের ভেতরে তৈরি করা হয়েছে দীর্ঘ কাঠের ব্রিজ বা ট্রেইল, যেখান দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে পর্যটকরা বনের গহীন সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। ভাগ্য ভালো হলে দেখা মেলে চিত্রা হরিণ, বানর ও নানা প্রজাতির পাখির।
বিরাজমান সমস্যা ও স্থানীয়দের দাবি:
পর্যটন সম্ভাবনা প্রচুর থাকলেও কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। ঢাকা থেকে আসা এক পর্যটক বলেন, "সৈকতের সৌন্দর্য মুগ্ধ করার মতো, কিন্তু এখানে থাকার ভালো হোটেল বা রেস্টুরেন্টের অভাব রয়েছে। এছাড়া পাথরঘাটা ও তালতলীর অভ্যন্তরীণ রাস্তাগুলোর অবস্থা আরও উন্নত করা প্রয়োজন।"
স্থানীয়রা দাবি তুলেছেন যে, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে 'ট্যুরিস্ট পুলিশ' মোতায়েন করা জরুরি। একইসঙ্গে যাতায়াত ব্যবস্থা আধুনিকায়ন এবং মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে বরগুনার অর্থনীতিতে এই পর্যটন খাত বড় ভূমিকা রাখতে পারবে।
লেখক পরিচিতি:
গবেষক, ইসলামিক ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ
সরকারি বিএম কলেজ, বরিশাল (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়)।