এখন সময় ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবার ২০২৫ , ০৫:০৮ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচন: শেষ সপ্তাহে উত্তেজনা চরমে, আক্রমণের মুখে জোহরান মামদানী

নিউইয়র্ক সিটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে অনিশ্চিত মেয়র নির্বাচন শেষ সপ্তাহে ঢুকে পড়েছে। নির্বাচনের আগে থেকেই শহরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোহরান মামদানী ও সাবেক গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমো। ইতোমধ্যে লাখো ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন, আর বাকি সময়টুকুতে দুই শিবিরের প্রচারণা জোরদার হয়েছে।

৩৪ বছর বয়সি রাজ্য আইনপ্রণেতা জোহরান মামদানী ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কুয়োমোকে হারিয়ে এখন মেয়র পদে স্পষ্ট অগ্রগামী। তরুণদের বিশাল স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক, শক্তিশালী তৃণমূল প্রচারণা ও উদারনৈতিক নীতির কারণে তিনি এখন অনেকের কাছে নিউইয়র্ক রাজনীতির নতুন মুখ। অন্যদিকে, কুয়োমো তাঁর অভিজ্ঞতা ও মধ্যপন্থী ভাবমূর্তি তুলে ধরে পুরনো ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন।

তবে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে কুয়োমোর প্রচারণা ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি প্রকাশ্যে মামদানীর মুসলিম পরিচয়কে কেন্দ্র করে মন্তব্য করেছেন, যা অনেকের কাছে ইসলামবিদ্বেষী হিসেবে দেখা হয়েছে। এক বিতর্কে কুয়োমো বলেন, মামদানী “মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব করেন না।” অপর প্রার্থী রিপাবলিকান কার্টিস স্লিওয়া পর্যন্ত মামদানীকে “গ্লোবাল জিহাদ” সমর্থক বলে অভিযুক্ত করেন।

এমন পরিস্থিতিতে মামদানী ব্রঙ্কসে এক মসজিদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, “নিউইয়র্কে এখনো কিছু ঘৃণা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণযোগ্য। ইসলামবিদ্বেষ যেন তারই একটি রূপ।” তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ২ কোটি বারের বেশি দেখা হয়েছে।

জোহরান মামদানী বলেন, “আমার প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করা হচ্ছে, তা যেন এই শহরের প্রতি আমার ভালোবাসাকে হুমকি হিসেবে দেখানোর চেষ্টা। কিন্তু আমি প্রত্যেক নিউইয়র্কবাসীর মেয়র হতে চাই—ধর্ম, বর্ণ বা পটভূমি নির্বিশেষে।”

ইতিমধ্যে মামদানী গ্লোরিয়া স্টেইনেমসহ প্রগতিশীল ও নারীবাদী নেতাদের সমর্থন পেয়েছেন। এমনকি ইহুদি সম্প্রদায়ের তরুণ অংশ থেকেও “নিউইয়র্ক জিউজ ফর জোহরান” নামে সংগঠিত সমর্থন উঠে এসেছে। তাদের ভাষায়, “কুয়োমো ইহুদি সমাজকে একমাত্রিকভাবে দেখছেন, কিন্তু বাস্তবে আমরা বৈচিত্র্যময়।”

অন্যদিকে, কুয়োমো দাবি করেছেন মামদানীর নীতিগুলো “অবাস্তব ও বিপজ্জনক,” যেমন—ফ্রি বাস, ভাড়ার স্থগিতাদেশ ও শহর পরিচালিত মুদি দোকানের প্রস্তাব। কিন্তু জরিপে দেখা গেছে, মামদানী এখনো ১০ থেকে ১২ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন, আর স্লিওয়া ভোটে থাকলে এই ব্যবধান আরও বাড়ছে।

রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া ভোটে পিছিয়ে থাকলেও লড়াই ছাড়ছেন না। তাঁর উপস্থিতি কুয়োমোর ভোট ভাগ করে দিচ্ছে, ফলে মামদানীর জয়ের সম্ভাবনা আরও বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

আগাম ভোটে ইতোমধ্যে দুই লাখের বেশি মানুষ ভোট দিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার অংশগ্রহণের হার ১৯৯৩ সালের পর সর্বোচ্চ হতে পারে।

জোহরান মামদানী বলেন, “বয়স্ক ভোটারদের অংশগ্রহণও আমাদের জন্য ইতিবাচক। নিউইয়র্কের প্রতিটি মানুষই এই শহরের ভবিষ্যতের অংশ।”

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৪ নভেম্বর। আগাম ভোট চলবে ২ নভেম্বর পর্যন্ত।

তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস