প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবার ২০২৫ , ১১:২৪ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
ধর্ম ডেস্ক
ইসলামে নারী ও পুরুষের নামাজের নিয়মে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে সিজদা করার পদ্ধতিতে এই পার্থক্যটি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। হাদীস ও সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা অনুযায়ী, নারীদের সিজদার ধরন পুরুষদের চেয়ে কিছুটা ভিন্ন।
পুরুষদেরকে সিজদার সময় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—উরু বা রান যেন পেট থেকে আলাদা থাকে, বাহু যেন শরীরের পাশ থেকে দূরে থাকে এবং হাত যেন মাটিতে বিছিয়ে না দেওয়া হয়। অর্থাৎ, পুরুষদের সিজদা হবে কিছুটা বিস্তৃত ভঙ্গিতে, যেখানে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একে অপর থেকে আলাদা থাকবে।
অন্যদিকে, নারীদের সিজদা হবে সংযত ও জড়োসড়ো ভঙ্গিতে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তারা যেন সিজদার সময় শরীরের কিছু অংশ মাটির সঙ্গে মিলিয়ে রাখে এবং জড়োসড়ো হয়ে সিজদা করে। নারী এই বিষয়ে পুরুষের মতো নয়।
আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন, কোনো নারী যখন সিজদা করবে, তখন সে যেন জড়োসড়ো হয়ে সিজদা করে এবং তার উরু বা রান যেন পেটের সঙ্গে লেগে থাকে। এভাবেই নারীদের সিজদা করার নির্দেশ এসেছে প্রাচীন ইসলামী সূত্রে।
নারীরা যখন দাঁড়ানো অবস্থা থেকে সিজদায় যাবে, তখন পুরুষদের মতোই সরাসরি সিজদায় যাবে। অনেক নারীকে দেখা যায়—তারা আগে ডান দিকে পা বের করে বসে, তারপর সিজদায় যায়। এই পদ্ধতি সঠিক নয়। সঠিক নিয়ম হলো, দাঁড়ানো থেকে সরাসরি সিজদায় যাওয়া। সিজদায় যাওয়ার সময় উভয় পা সামান্য ডান দিকে সরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, এবং সিজদার সময় শরীর ঘনিষ্ঠভাবে মিলিয়ে রাখা উচিত। নিতম্ব মাটির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, উরু ও বাহু শরীরের সাথে লাগানো থাকবে।
এইভাবে সিজদা করা নারীদের জন্য সুন্নত ও শালীনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়। এতে ইবাদতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় এবং নামাজে বিনয়ের প্রকাশ ঘটে।
তবে কেউ যদি শারীরিক অসুবিধার কারণে দাঁড়ানো থেকে সরাসরি সিজদায় যেতে না পারেন, তাহলে বসে সিজদায় যাওয়া বৈধ। ইসলামে সবসময় ওজরের কারণে সহজ বিকল্পের সুযোগ রাখা হয়েছে।
নারীদের নামাজের সৌন্দর্য নিহিত রয়েছে বিনয়, পর্দা ও শালীনতার মাঝে। তাই সিজদার সময় জড়োসড়ো হয়ে, শরীর ঘনিষ্ঠ রেখে ইবাদত করা তাদের জন্য উত্তম। এতে সুন্নতের অনুসরণ হয় এবং নামাজ হয় অধিক মর্যাদাপূর্ণ।