-
🇧🇩
বাংলা মূল ভাষা (Original)
-
🇺🇸
English English
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত পোস্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের আগে দেখতে মাসে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত দিচ্ছে তিনটি প্রতিষ্ঠান। এ তালিকায় রয়েছে আর্থিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ এবং ওয়াল স্ট্রিটের দুই ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সুসকেহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপ ও জাম্প ট্রেডিং। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের (টিএমটিজি) পরিচালিত ‘ট্রুথ এপিআই’ নামের এ সেবার মাধ্যমে গ্রাহকেরা সাধারণ ব্যবহারকারীদের তুলনায় প্রায় ৫০ মিলিসেকেন্ড আগে ট্রাম্পের পোস্ট দেখতে পারেন। আর্থিক বাজারে প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রভাব থাকায় এ সুবিধা ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
উচ্চগতির অ্যালগরিদমনির্ভর সফটওয়্যার সংবাদ ও সরকারি ঘোষণা বিশ্লেষণ করে মুহূর্তের মধ্যে শেয়ার, তেলসহ বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের লেনদেন সম্পন্ন করে। গত এপ্রিলে ইরান যুদ্ধের মধ্যে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা প্রকাশের পর তেলের ফিউচারসের দাম কমে যাওয়াকে এ ধরনের তথ্যের বাজার-প্রভাবের উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত জুলাইয়ে সেবাটি চালুর ঘোষণা দেয় টিএমটিজি। আগস্টে বিনিয়োগকারীদের জানানো হয়, ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। তবে রয়টার্স এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ব্লুমবার্গ ও সংশ্লিষ্ট দুই ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, তারা সেবাটি মূল্যায়ন করবে, তবে আপাতত গ্রাহক হওয়ার পরিকল্পনা নেই।
প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে অর্থের বিনিময়ে আগাম প্রবেশাধিকার দেওয়ার উদ্যোগটি নৈতিকতা ও আইনি বিতর্ক তৈরি করেছে। গত জুলাইয়ে ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও অ্যাডাম শিফ বিষয়টি তদন্তের জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) অনুরোধ জানান। তাঁদের অভিযোগ, ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধার জন্য প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া ইন্টারসেপ্ট মিডিয়া ও ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশন গত আগস্টে মামলা করে। তাদের অভিযোগ, সরকারি ঘোষণা প্রকাশের ক্ষেত্রে ট্রুথ সোশ্যালকে একচেটিয়া সুবিধা দেওয়া এবং অর্থের বিনিময়ে আগাম তথ্য সরবরাহ করা সংবিধান লঙ্ঘন করতে পারে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন।
ট্রাম্পের পারিবারিক ট্রাস্টের হাতে টিএমটিজির ৪১ শতাংশ মালিকানা রয়েছে। ট্রাম্প ওই ট্রাস্টের একমাত্র সুবিধাভোগী। এদিকে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইংল বলেছেন, ট্রাম্প বা তাঁর পরিবারের কেউ সরাসরি বিনিয়োগ পোর্টফোলিও-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেন না।
টিএমটিজি অবশ্য রয়টার্সের প্রতিবেদনকে বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে। কোম্পানিটির ভাষ্য, তাদের এপিআই সেবা বিভিন্ন খাতে চাহিদা পূরণ করছে এবং গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষা করা তাদের অগ্রাধিকার।