প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবার ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম • অনলাইন সংস্করণ

ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে বাংলাদেশের করণীয়

ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের মধ্যে বাংলাদেশের করণীয়

বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখন আর কেবল দক্ষিণ এশিয়ার একটি জনবহুল রাষ্ট্রের পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অবস্থান, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে ভৌগোলিক উপস্থিতি, বিশাল শ্রমশক্তি, তৈরি পোশাকশিল্প এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ও নিরাপত্তা পরিকল্পনা এখন বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

ভূরাজনীতি মূলত ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক সম্পদ, সামরিক সক্ষমতা, বাণিজ্যপথ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের পারস্পরিক সম্পর্কের অধ্যয়ন। বর্তমান বিশ্বে এই প্রতিযোগিতা শুধু সামরিক শক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বন্দর নির্মাণ, অবকাঠামো বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্বালানি, ঋণ, বাজারে প্রবেশাধিকার এবং কূটনৈতিক সহযোগিতাও এর গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বঙ্গোপসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বকে আরও দৃশ্যমান করেছে।

ভৌগোলিক অবস্থান: বাংলাদেশের সম্ভাবনা ও দায়িত্ব

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান একদিকে যেমন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার উৎস, অন্যদিকে তেমনি কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জেরও কারণ। দেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর এবং পূর্বে মিয়ানমার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিকটবর্তী অবস্থান বাংলাদেশের জন্য আঞ্চলিক যোগাযোগ, সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন ও শিল্পায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে বন্দর, নৌপরিবহন, সরবরাহব্যবস্থা এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক করিডরের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। তবে কোনো দেশের ভৌগোলিক গুরুত্ব নিজে থেকেই সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে না। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ কূটনীতি, কার্যকর অবকাঠামো, স্বচ্ছ বিনিয়োগনীতি, দক্ষ জনশক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় পরিকল্পনা।

বাংলাদেশ যদি তার ভৌগোলিক অবস্থানকে উৎপাদন, বাণিজ্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্পদে রূপান্তর করতে পারে, তবে এই অবস্থান অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির শক্তিশালী ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা বিশ্লেষণে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে তিনটি দেশের স্বার্থ এক নয়; তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের প্রকৃতি ও ক্ষেত্রও ভিন্ন।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ভিত্তি ভূগোল, সীমান্ত, নদী, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা। দুই দেশের মধ্যে স্থিতিশীল সম্পর্ক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সহযোগিতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক সংযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্তে প্রাণহানি, বাণিজ্যিক বাধা এবং পারস্পরিক আস্থার মতো বিষয়গুলোর কার্যকর সমাধান প্রয়োজন। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে বাস্তবসম্মত আলোচনা ও পারস্পরিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের অবকাঠামো, শিল্প, জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যেকোনো বড় প্রকল্পের ক্ষেত্রে ঋণের শর্ত, বৈদেশিক মুদ্রায় দায়, প্রকল্পের সম্ভাব্য আয়, পরিবেশগত প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব বিবেচনা করা উচিত। কোনো প্রকল্পের মূল্যায়ন শুধু অর্থায়নকারী দেশের পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়, বরং বাংলাদেশের জন্য তার প্রকৃত অর্থনৈতিক সুফলের ভিত্তিতে হওয়া প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক রপ্তানি, বিনিয়োগ, শ্রম অধিকার, প্রযুক্তি, বাণিজ্যনীতি ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশল গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান দেশের কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে শ্রমমান, সুশাসন, মানবাধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার প্রশ্নগুলোও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের অংশ।

এই তিন শক্তির সঙ্গে সম্পর্ককে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার পরিবর্তে বাংলাদেশকে প্রতিটি সম্পর্কের সুযোগ, সীমাবদ্ধতা ও ঝুঁকি পৃথকভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। একটি দেশের সঙ্গে সহযোগিতা অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিকল্প হতে হবে—এমন কোনো অনিবার্য নিয়ম নেই।

একবিংশ শতাব্দীর ভূরাজনীতিতে সমুদ্রপথ, বন্দর ও সরবরাহব্যবস্থা ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব অর্জন করেছে। বঙ্গোপসাগর ভারত মহাসাগর ও পূর্ব এশিয়ার সামুদ্রিক যোগাযোগের বিস্তৃত ব্যবস্থার অংশ। ফলে এই অঞ্চলে বাণিজ্যিক অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও কৌশলগত উপস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন দেশের আগ্রহ রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এই বাস্তবতার অর্থ হলো, বন্দর উন্নয়ন, গভীর সমুদ্রবন্দর, উপকূলীয় শিল্পাঞ্চল, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ এবং নৌপরিবহনকে একটি সমন্বিত অর্থনৈতিক পরিকল্পনার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে কোনো বিদেশি বিনিয়োগ বা নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রে জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বচ্ছ চুক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে।

বঙ্গোপসাগরকে শুধু বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে দেখলে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আড়ালে থেকে যাবে। বরং বাংলাদেশকে এমন একটি আঞ্চলিক যোগাযোগকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করতে হবে, যেখানে বাণিজ্য, শিল্প, লজিস্টিকস এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বিকশিত হবে।

আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় অর্থনীতিতে। বৈশ্বিক সংঘাত, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা এবং প্রধান অর্থনীতিগুলোর নীতিগত পরিবর্তন বাংলাদেশের আমদানি ব্যয়, রপ্তানি আয়, মূল্যস্ফীতি ও বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো রপ্তানি বাজার ও উৎপাদন খাতের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি। তৈরি পোশাকশিল্প দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দীর্ঘমেয়াদে ওষুধ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, চামড়াজাত পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি এবং উচ্চমূল্য সংযোজিত উৎপাদন খাতকে শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি। জাতিসংঘের এলডিসি পোর্টাল অনুযায়ী, বাংলাদেশের উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৬। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানায়; পরবর্তী প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বিবেচনা ও সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে বাণিজ্যসুবিধা, রপ্তানি প্রতিযোগিতা, মেধাস্বত্ব, বিনিয়োগ এবং শ্রমমানের প্রশ্নে আগাম প্রস্তুতি অপরিহার্য। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতিকে শুধু বিদেশি সহায়তা আহরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; বরং নতুন বাজার, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে।

বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মিয়ানমারের পরিস্থিতি ও রোহিঙ্গা সংকট। দীর্ঘস্থায়ী বাস্তুচ্যুতি মানবিক দায়িত্বের পাশাপাশি অর্থনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, পরিবেশ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এই সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য মিয়ানমারে নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশের একার পক্ষে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা কঠিন। তাই জাতিসংঘ, আঞ্চলিক সংস্থা, প্রতিবেশী দেশ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানবিক সহায়তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়া এড়ানো। তবে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি মানে সব দেশের সঙ্গে সব বিষয়ে সমান দূরত্ব বজায় রাখা নয়। বরং প্রতিটি বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সুফল, নিরাপত্তা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া।

প্রথমত, পররাষ্ট্রনীতিতে ধারাবাহিকতা থাকা প্রয়োজন। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় স্বার্থভিত্তিক কূটনৈতিক অগ্রাধিকার যেন সম্পূর্ণ বদলে না যায়, সে জন্য পেশাদার কূটনীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা শক্তিশালী করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বিদেশি ঋণ ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পভিত্তিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ঋণের পরিমাণের পাশাপাশি পরিশোধক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রায় আয়ের সম্ভাবনা, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বিষয়গুলো বিবেচনা করা জরুরি।

তৃতীয়ত, প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সার্বভৌমত্ব রক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

চতুর্থত, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিস্তৃত করতে হবে। কোনো একক বাজার, অর্থায়নকারী বা প্রযুক্তি সরবরাহকারীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা অর্থনীতিকে বহিরাগত ধাক্কার কাছে দুর্বল করে তুলতে পারে।

পঞ্চমত, ভূরাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে জাতীয় ঐকমত্যের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। পররাষ্ট্রনীতি কেবল দলীয় বিতর্কের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত।

বাংলাদেশের সামনে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা একই সঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করেছে। বড় শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে, কিন্তু সঠিক কূটনীতি, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা থাকলে এই প্রতিযোগিতা থেকে উন্নয়নের সুযোগও তৈরি করা সম্ভব।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে না শুধু কোন দেশ কত বিনিয়োগ করল বা কোন শক্তি কতটা প্রভাব বিস্তার করল, তার ভিত্তিতে। বরং নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ কতটা দক্ষতার সঙ্গে নিজের স্বার্থ রক্ষা করতে পারল, কতটা বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি গড়ে তুলল এবং কতটা কার্যকরভাবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারল।

ভূগোল বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দিয়েছে; কিন্তু সেই অবস্থানকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তর করার দায়িত্ব বাংলাদেশের নিজস্ব। কূটনৈতিক বিচক্ষণতা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সমন্বয়ই পারে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতার নিষ্ক্রিয় দর্শক থেকে একটি সক্রিয়, আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ও দায়িত্বশীল আঞ্চলিক অংশীদারে পরিণত করতে।

লেখক: ব্যাংকার ও গবেষক