ঢাকা অফিস

প্রকাশিত: ২৪ আগষ্ট ২০২৬ , ০৯:০২ এ এম

অনলাইন সংস্করণ

নুসরাত হত্যা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল, খালাস ১০

হাইকোর্টে ১৬ আসামির আপিলের রায়; চারজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, নিম্ন আদালতের রায়ে বড় পরিবর্তন

বহুল আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের আপিলের রায় ঘোষণা হয়েছে। নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুজন হলেন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা এবং শাহাদাত হোসেন শামীম। নিম্ন আদালতে একই মামলায় ১৬ আসামিকেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। হাইকোর্টের রায়ে সেই সাজায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

যে ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ

২০১৯ সালের মার্চে নুসরাত জাহান রাফি তাঁর মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর তাঁকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে মামলার নথিতে উঠে আসে।

এরপর ৬ এপ্রিল ২০১৯ নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাঁকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল ২০১৯ তাঁর মৃত্যু হয়।

নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

দ্রুত বিচার ও নিম্ন আদালতের রায়

ঘটনার পর দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিবাদ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর মামলার রায় ঘোষণা করে। ওই রায়ে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।

নিম্ন আদালতের রায়ের পর মামলাটি উচ্চ আদালতে আসে। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সের পাশাপাশি আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।

সাত বছর পর উচ্চ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ রায়

দীর্ঘ সময় পর চলতি বছরের জুলাইয়ে হাইকোর্টে মামলাটির ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার বেঞ্চে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি চলে। গত ২০ আগস্ট শুনানি শেষ হওয়ার পর ২৪ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করা হয়।

রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নুসরাতের বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।

রায়ে কী হলো

হাইকোর্টের রায়ের পর মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের অবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে—

২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল

৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

১০ জন খালাস

ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড আর বহাল থাকল না। এখন মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে নজর থাকবে।

নুসরাত হত্যা বাংলাদেশের নারী নির্যাতন ও বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে আলোচিত একটি মামলা। তাঁর ওপর হামলার পর দেশজুড়ে যে প্রতিবাদ তৈরি হয়েছিল, তা নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং যৌন হয়রানির অভিযোগের ক্ষেত্রে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে সামনে আনে।