প্রকাশিত: ০২ আগষ্ট ২০২৬ , ০৮:৩৮ এ এম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের পুলিশ বাহিনী কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার নয়; বরং এটি হবে আইন, সংবিধান ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ একটি পেশাদার প্রতিষ্ঠান। তিনি দলীয় প্রভাবমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং মানবিক পুলিশ বাহিনী গঠনের ওপর জোর দেন।
রোববার রাজশাহীর সারদা পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হবে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করা। একই সঙ্গে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অপরাধ দমনে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে। জনগণের কাছে নিজেদের একজন সেবক ও নির্ভরযোগ্য বন্ধু হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আহ্বানও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মূল্যবোধ ধারণ করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নতুন প্রজন্মের পুলিশ কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি দীর্ঘ ১৮ বছরের অপেক্ষার পর নিয়োগ পাওয়া ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানান।
ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ শেষে ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটে কুচকাওয়াজের মাধ্যমে। প্রশিক্ষণ শেষে তারা বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বাস্তব দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ দেবেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বপূর্ণ পারফরম্যান্সের জন্য প্রশিক্ষণার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভুঁইয়া ‘বেস্ট প্রবেশনার’ ও ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ পুরস্কার অর্জন করেন। ‘বেস্ট অ্যাকাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ পান আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম এবং ‘বেস্ট শ্যুটার’ নির্বাচিত হন এ.বি.এম. মামুন।
বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের এই প্রকাশ্য অঙ্গীকার বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা সংস্কার নিয়ে চলমান আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।