বিজয় এলে (৪)
আব্দুল আজিজ
বিজয় এলে পত-পতিয়ে
উড়ে জয় কেতন,-
বিজয় এলে সবার মনে
জেগে উঠে চেতন।
সাহিত্য
কবিতা
- 19 Dec
ফেরারী বসন্ত
- 12 Dec
দর্পণ কবীর
দুই.
দু’বছর হলো নীরব কারাগারে বন্দি। এই দু’বছরে ওর সঙ্গে কেউ দেখা করতে আসেনি। আসার কথাও নয়। নীরব যে কারাগারে বন্দি, একথা ওর পরিবারের কেউ জানে না। ও নিজেও জানায়নি। জানালেও ওর কোন লাভ হতো না। বরং ওর মা-বাবা অনেক কষ্ট পেতেন। ছেলে হত্যা মামলায় জেল খাটছেÑএকথা শুনলে সব মা-বাবাই কষ্ট পাবেন। বাবা-মাকে কষ্ট দিয়ে লাভ কী? একথা ভেবে বাবা-মাকে নিজের বিপর্যয়ের কথা জানায়নি ও। ছেলে হারিয়ে যাওয়ার কষ্ট পাচ্ছে ওর মা-বাবা। ‘ছেলে নষ্ট হয়ে গেছে’ এ ধরনের কষ্টের চেয়ে ‘ছেলে হারিয়ে গেছে’ এই কষ্ট অনেক বেশি সহনশীল। নীরব তা-ই মনে করে। ওর পরিবারের লোকেরা জানে, ও হারিয়ে গেছে। কিংবা নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। কেউ কেউ আছে, হঠাৎ করে সংসার থেকে পালিয়ে যায়। নীরব ওর পরিবারের কাছে হারিয়ে যাওয়া এক মানুষ। অথচ ও হারাতে চায়নি। আর সবার মতো স্বাভাবিক জীবন চেয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। ভাগ্য বিড়ম্বনায় ও জড়িয়ে গেল হত্যা মামলায়। সাজাও হলো। রায় হয়ে গেল খুব দ্রুত। নাবিলাকে ভালবাসার চরম মূল্য দিতে হলো ওকে।
কবিতা
- 05 Dec
স্বাধীনতা
মেজর মোহাম্মদ আলী
যুদ্ধ
যখন ক্ষমতার লড়াইয়ে বাকী সবকিছু মূল্যহীন।
যুদ্ধ
যখন গণতন্ত্র পূজোর যুপকাষ্ঠের অসহায় ছানা শিশু।
যুদ্ধ
যখন বিরান ক্ষেতে সোনালী ধান শুয়ে থাকে
আর গজায় নতুন চারার রক্ত ভেজা মাঠে।
যুদ্ধ
বাঁধনপুরের বাকি ইতিহাস
- 05 Dec
আহমদ রাজু
(গত সংখ্যার পর)
দশই অক্টোবর উনিশ’শ চৌত্রিশ।
আমি দিনাজপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিই। যাবার সময় বন্ধুদের যথা নিয়মে বলে যাই, নৈনিতা দেশে আসায় আমাকে বাধ্য হয়েই যেতে হচ্ছে।
রিয়াজ ষ্টেশনে এসে আমাকে নিয়ে যায় তার বাসায়। সে গত সপ্তাহে নতুন বাসায় উঠেছে।
রিয়াজের একটা ছেলে; দেখতে মিষ্টি। ছেলেটার বয়স দেড় বছর। শেষবার যখন আমি গিয়েছিলাম তখন রিয়াজের স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে বাবার বাড়িতে ছিল। যে কারণে তাদের সাথে দেখা হয়নি। আমি দ্বিতীয়বার আসার মাত্র ক’দিন আগে তারা বাসায় ফিরে এসেছে।
অফিসে কাজ থাকায় রিয়াজের কোথাও বের হবার সুযোগ হয় না। আমি তার অফিসে সারাদিন বসে বসে চা পান করি আর পত্রিকা পড়ি। কি করবো; কিছুই করার নেই।
তেরই অক্টোবর উনিশ’শ চৌত্রিশ।
ফেরারী বসন্ত
- 05 Dec
দর্পণ কবীর
এক.
লোকটিকে দেখে চিনতে পারল না নীরব। লোকটিকে এক পলক দেখেই বলে দেয়া যায়, সে বিত্তবান কেউ হবে। তার গায়ে নেভি ব্লু স্যুট। সাদা শার্ট। লাল রঙের ওপর নকশা করা টাই। পায়ে টিম্বারল্যান্ড ব্র্যান্ডের কালো জুতো। গা থেকে ক্যানিথকোল পারফিউমের মৌ-মৌ গন্ধ ভেসে আসছে। লোকটি ভিআইপি কেউ হবে। ভিভিআইপিও হতে পারে। এমন একজন লোক ওর সঙ্গে কেন দেখা করতে এসেছে, বুঝতে পারল না নীরব। মনে ফেনিয়ে ওঠা কৌতূহলের ঢেউ চোখের দৃষ্টিতে যাতে ফুটে না ওঠে, এ ব্যাপারে সতর্ক হলো ও। দুই বছরের কারাজীবন ওকে অনেক বদলে দিয়েছে। সরলতা ছিল ওর জীবনবোধের অন্যতম ভিত। সেই সরলতায় মরচে ধরেছে। সব কিছু সহজভাবে বিশ্বাস করার স্নিগ্ধ চেতনা মিইয়ে গেছে। সামান্য কিছু পেয়ে উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত হওয়া বা না পেয়ে বিষণœ হবার অনুভূতি কি ওর আছে? তাও নেই। ওর এখন অনেক কিছুই নেই। মাঝে মাঝে ওর মনে হয়, ও শুধু বেঁচে আছে। কারাবন্দি নিষ্প্রভ জীবন নিয়ে ও যেন এক গন্তব্যহীন মরা নদী। এই নদীতে জোয়ার নেই, ভাটা নেই, ঢেউ নেই, তরী নেইÑকিছুই নেই। দুর্ভাগ্যের
কবিতা
- 28 Nov
স্মৃতি তুমি বেদনা ...
শফিকুল ইসলাম
পুরনো শহর মানে-স্মৃতির শহর,
বহুদিন পর সেই পুরনো স্মৃতির শহরে ফেরা মানে-
স্মৃতির আয়নায় নিজেকে মুখোমুখি দাড় করানো ...
কত স্মৃতি,কত মুখ
কত উদাস দুপুর,বিষন্ন গোধূলী, জোছনা-মাখা রাত ...
বাঁধনপুরের বাকি ইতিহাস
- 28 Nov
আহমদ রাজু
কি যে করিসনা ভাই; আমি আর পারিনা। কত করে বললাম, বলটা ওদিকে মারিসনা; তারপরও মারলি। এখন যা, বলটা তুই নিয়ে আয়। শাড়ীর আঁচল দিয়ে চশমার গ্লাস মুছছে মুছতে কথাটি বলল বৃদ্ধা তনুশ্রী।
দাদীর পাশে দাঁড়িয়ে ছিল শুভ্র। বলল, আমি পারবো না; তুমি আনো।
-আমি আনবো কেন? ফেললিতো তুই।
শুভ্র দাদীর পিঠে ঠেলা দিয়ে বলল, আনোনা দাদী, ওখানে তেলাপোকা আছে।
বা রে শালা, নিজে তেলাপোকার ভয়ে ওখানে যেতে ভয় পাচ্ছিস, তাহলে আমাকে বলছিস কেন?
প্রাকৃতজনই ইতিহাসের ¯্রস্ট্রা
- 28 Nov
বাংলাদেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, প্রাবন্ধিক, মার্কসীয় চিন্তক অধ্যাপক যতীন সরকার। যাঁর কণ্ঠস্বর প্রান্তিক ও ছিন্নমূল মানুষের পক্ষে। যার লেখনির দৃঢ় অবস্থান সকল মৌলবাদ ও অসাম্যের বিরুদ্ধে। তাঁর বহুমাত্রিক মৌলিক চিন্তা বাংলা প্রবন্ধ সাহিত্যে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তাঁর সুতীক্ষè যুক্তি ও ঐতিহ্যভিত্তিক সাম্যবাদী চেতনা বাংলাদেশের মুক্তবুদ্ধি চর্চার পথকে করেছে সুদৃঢ়। ১৯৩৬ সালের ১৮ আগস্ট নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার চন্দপাড়া গ্রামে এ গুণীজনের জন্ম। সব মিলিয়ে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা প্রায় ত্রিশটি। তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি বই হলোÑ ‘সাহিত্যের কাছে প্রত্যাশা’, ‘বাঙালির সমাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য’, ‘ধর্মতন্ত্রী মৌলবাদের ভূত ভবিষ্যৎ’, ‘প্রাকৃতজনের জীবন দর্শন’, ‘পাকিস্তানের জন্ম-মৃত্যু দর্শন’ প্রভৃতি। ‘প্রথম আলো বর্ষ সেরা বই ১৪১১ পুরস্কার’, ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার ২০০৭’, বাংলাদেশ মানবাধিকার নাট্য পরিষদ কর্তৃক ‘গুণীজন সম্মাননাÑ ২০১০’ এবং ২০১০ সালের ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’সহ অসংখ্য পুরস্কারে তিনি ভূষিত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজে বাংলা বিভাগে
বিষোদগার
- 28 Nov
ড. হাবিবা খাতুন
রামুর বিয়ের প্রায় পনের দিন পূর্বে রেবুর বিয়ে হয়েছিল। রেবু রামুর বড় বোন। সেই ছোটবেলা থেকে সে দেখে আসছে যে রেবু বাবা-মা ভাইবোন সবার ভালমন্দ দেখে। বাড়ির যাবতীয় কাজের ভার থাকে রেবুর উপর। ঘরবাড়ি দেখাশুনা করা, কোন জমিতে কোন ধান বোনা হবে, হাটবারে কি কি কিনতে হবে- সবই করে রেবু। মা কিছুই জানে না। দীর্ঘদিন ধরে ভাইবোনদের অতি যতেœর সাথে মানুষ করে রেবুর মনে হয়েছে- এ বাড়ি ছেড়ে সে কোনদিনও যাবে না। রেবুর পনর বছর বয়সে তারই এক পছন্দের লোকের সাথে বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু তাদের সংসার করা হয়নি। কোন এক ডাকাতির কেইসে পরে রেবুর বরের যাবজ্জীবন কারাদন্ড হয়েছিল। ধরা পড়ার পর লোকটি জেলে যাওয়ার সময় রেবুকে বলল, তোমার বাবার জন্যই আমি ধরা পড়লাম। আমি যাচ্ছি, তোমাকে মুক্ত করে দিয়ে গেলাম। বাপের বাড়ি চলে যাও।









