Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই

  • PDF

বিশেষ প্রতিনিধি : নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন লড়াইয়ে এতদিন সরকারি দলের দুই প্রার্থীর জয়-পরাজয় নিয়ে মাতামাতি হলেও এখন হিসাবের অঙ্কে যোগ হয়েছেন তৈমূরও। নির্বাচনে দল সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে একাট্টা নারায়ণগঞ্জ বিএনপি। দ্বিধা-দ্বন্দ¦ ভুলে এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে নিয়ে ভোটের মাঠে প্রচারণায় নেমেছেন দলের নেতাকর্মীরা। শেষ মুহূর্তে বিএনপি’র ঘুরে দাঁড়ানোয় বদলে

গেছে এখানকার ভোটের হিসাব। ভোট ভাগাভাগির হিসাবে কেউ কেউ তাকে এগিয়েও রাখছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সামনের ক’দিনে সার্বিক চিত্র আরও বদলে যাবে। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী শামীম ওসমান ও শহর আওয়ামী লীগের নেতা ডা সেলিনা

 

হায়াৎ আইভীর পাল্টাপাল্টির মধ্যে দল ও জোটের একক প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট তৈমূর অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন। এ অবস্থায় শেষ পর্যন্ত লড়াইটা ত্রিমুখীই হবে বলে ধারণা ভোটারদের। দলীয় সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও চারদলীয় জোটের ভোট আছে প্রায় দেড় লাখ। দলে ও জোটের পূর্ণ সমর্থন ও সাধারণ ভোটারের সাড়া পেলে এডভোকেট তৈমূরের ভোটের পাল্লাই ভারি হবে। এদিকে শনিবার দলের চেয়ারপারসনের দেয়া নিদের্শনা অনুযায়ী পরের দিন থেকে জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সঙ্গে ভোটের মাঠে প্রচারণায় নেমেছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও। এখন থেকে প্রচরণার শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে থাকবেন তারা। গতকাল কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ৭৪টি দল ভাগ হয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডে প্রচারণা চালান।

কেন্দ্রীয় নেতাদের সরব পদচারণায় স্থানীয় নেতাকর্মীরাও এখন উজ্জীবিত। প্রথম দিকে প্রচার-প্রচারণায় পিছিয়ে থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার এখন অন্য দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চালাচ্ছেন প্রচারণা। তার সঙ্গে সার্বক্ষণিক প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা। শেষ সময়ে বিএনপি’র ঘুরে দাঁড়ানোয় ভোটের হিসাবে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থী এখন কঠিন চ্যালেঞ্জে। দলীয় ভোট ভাগাভাগি হওয়ায় এ দুই প্রার্থীর দৃষ্টি এখন সাধারণ ভোটারদের দিকে। তারা সাধারণ ভোটারের মন জয় করতে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আর এডভোকেট তৈমূর সাধারণ ভোটারের ভোট বাগে আনতে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার দিক তুলে ধরছেন। মানুষের সমস্যার বিষয়ে সহানুভূতি প্রকাশ করছেন। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন সুযোগ পেলে সমস্যা সমাধানের। এদিকে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে ক্ষমতাসীন দলের দ্ইু প্রার্থীকে নিয়ে মাতামাতি হলেও বিরোধী দল সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট তৈমূর আলমকে নিয়ে তেমন কোন আলোচনা ছিল না। তার বিষয়ে দলের নীরব অবস্থানের কারণে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ছিলেন নিষ্ক্রিয়। এমনকি গত কয়েকদিন আগেও বিভিন্ন ওয়ার্ডে তার পোস্টার ব্যানার দেখা যায়নি। দল ও কর্মীদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে নির্বাচনী এলাকায় এডভোকেট তৈমূরকে নিয়ে চলে নানা আলোচনা। গুজব-গুঞ্জনে বিব্রত হন তিনি নিজে ও তার কর্মী-সমর্থকরা।

সূত্র জানায়, স্থানীয় বিএনপিতে বিভক্তি থাকায় দলের কেন্দ্রীয় নেতারা এই বিবাদ মেটাকে আগে জোর দেন। কয়েক দফা বৈঠক করে জেলা বিএনপি’র নেতাদের এই বিবাদ মিটিয়ে দেন কেন্দ্রীয় নেতারা। সর্বশেষ গত শনিবার স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বৈঠক করে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নেতাদের মাঠে কাজ করার নিন্দেশ দেন। তিনি তাদের বলে দেন তৈমূর আলমকে বিজয়ী করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে। সেই সঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রিগেডিয়ার (অব) হান্নান শাহ্কে মনিটরিং সেলের প্রধান ও যুগ্ম মহাসচিব আমানুল্লাহ আমানকে নির্বাচন সমন্বয়কের দায়িত্ব দেয়া হয়। এই কমিটি পুরো নির্বাচনী বিষয় পর্যবেক্ষণ করবে। দলীয় সভানেত্রীর বার্তা পেয়ে রোববার দলের এক ডজন কেন্দ্রীয় নেতা নারায়ণগঞ্জ যান। এর আগে রাতেই দলীয় চেয়ারপারসনের বার্তা পৌঁছে যায় নারায়ণগঞ্জে। নতুন উদ্যমে প্রচারণায় নামেন নেতাকর্মীরা। তারা ভোটার ও দলের কর্মীদের কাছে বার্তা দিচ্ছেন, খালেদা জিয়ার প্রার্থী হিসেবে এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে বিজয়ী করতে হবে। এদিকে দলীয় সূত্র জানায়, চেয়ারপারসনের নিন্দেশের পর এখন কারও কোন দ্বিধা নেই। পুরো নির্বাচনী বিষয়টি দল কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। দলের কেন্দ্রীয় নেতারা পর্যায়ক্রমে নারায়ণগঞ্জ আসবেন। তারা প্রচার-প্রচারণায় আসবেন। জোটের নেতারা অংশ নেবেন নির্বাচনী প্রচারণায়। বৈঠক থেকে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যে কোন মূল্যে তৈমূর আলমকে বিজয়ী করতে হবে। তৈমূর আলম খন্দকারকে রোববার নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, ছাত্র বিয়ষক সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, কেন্দ্রীয় সদস্য জয়ন্ত কু-, সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন, মোস্তফা আলী, হারুন অর রশীদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল মান্নান, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী,  মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদিকা শিরীন সুলতানা, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম আলিম, যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম নীরব, হাবিবুর রহমান হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আবুল খায়ের ভূঁইয়া প্রমুখ।

স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী রেজাউল করীম, সাবেক এমপি গিয়াসউদ্দিন ও আবুল কালাম, বিএনপি নেতা জান্নাতুল ফেরদৌস, এটিএম কামাল প্রমুখ। এদিকে গতকালও ‘নারায়ণগঞ্জ নগর উন্নয়ন কমিটির মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে সকাল থেকেই বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও কেন্দ্রীয় সকল অঙ্গ সংগঠনের নেতারা মোট ৭৪টি দলে বিভক্ত হয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ডে দিনব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালান। উঠান বৈঠক, পথসভা ও ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে তারা নগর উন্নয়ন কমিটির মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকারকে আনারস মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান নেতারা। নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এডভোকেট আবুল কালাম-এর তত্ত¦াবধানে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব আমান উল্লাহ্ আমান, চেয়ারপারসন-এর উপদেষ্টা সাবেক মন্ত্রী অধ্যাপক এমএ মান্নান, সাবেক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, হাবিবুর রহমান হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এমপি, সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী, সাবেক এমপি গিয়াস উদ্দিন, লায়ন হারুন এমপি, কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেত্রী শিরীন সুলতানা, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন আলম, খায়রুল কবীর খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা জয়ন্ত কুমার কু-ু, ঢাকা মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব আবদুস সালাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান খসরু, সাবেক এমপি এডভোকেট বিলকিস জাহান শিরীন, জাসাস-এর সভাপতি এমএ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান, আন্তর্জাতিক সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন, ছড়াকার আবু সালেহ, জাসাস সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, আনিসুল ইসলাম সানি, কণ্ঠশিল্পী হাসান চৌধুরী, সহ-সভাপতি আহসান উল্লাহ্ চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খালেদ এনাম মুন্না, সাবেক এমপি আবদুল গফুর ভূঁইয়া, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, সাইফুল ইসলাম পটু, উপজেলা চেয়ারম্যান নজির আহমদ প্রমুখ। এদিকে তৈমূর আলম খন্দকার গতকাল সকাল থেকেই গলাচিপা মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে ঘোড়াপট্টি, গোয়ালপাড়া, নন্দীপাড়া হয়ে আমলাপাড়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় গণসংযোগ করেন এবং আমলাপাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এছাড়াও শহরের মিশনপাড়া, খানপুর, আমলাপাড়াসহ আশপাশের এলাকাতে প্রচারণা ও গণসংযোগ করেন এডভোকেট তৈমূর।

নির্বাচনে দলীয় অবস্থানের বিষয় জানতে চাইলে সাবেক এমপি আবুল কালাম জানান, দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে দিনভর প্রচারণা চলছে। চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। দলীয় ভোটের সঙ্গে সাধারণ মানুষ চারদলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও চারদলীয় জোট এখন ঐক্যবদ্ধ। এডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, নারায়ণগঞ্জ বিএনপিতে এখন কোন বিভেদ নেই। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আমাকে চারদলীয় জোটের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করার অনুমতি দিয়েছেন। দলের নেতাকর্মীরা আমার সঙ্গে আছেন। তিনি বলেন, সরকারি দল করেন এমন দু’জন প্রার্থী।  নিজেদের মধ্যে বিভেদ দূর করতে পারেন না। তাই নারায়ণগঞ্জের মানুষ ঐক্যবদ্ধ শক্তির প্রতি রায় দেবেন।

Share this post

Add comment




You are here: প্রথম পৃষ্ঠা নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ত্রিমুখী লড়াই