এখন সময় ডেস্ক : আগামী বছরের মে মাসের মধ্যে তিস্তা নদীর পানি বণ্টনের জন্য সময় নির্ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে আগামী বছরের মে মাসে ঢাকায় পাঠিয়ে চুক্তিটির বিষয়াবলী চূড়ান্ত করতে কেন্দ্রের ইউপিএ জোট সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মের দেড়শত বর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আগামী মে মাসে ঢাকায় যে অনুষ্ঠান হবে সে উপলক্ষেই মূলত মমতাকে ঢাকা পাঠানোর একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট সরকার। মে মাসের ওই অনুষ্ঠানে মমতাকে ভারত সরকারের প্রতিনিধি হিসেবেই রাষ্ট্রীয় সফরে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সরকার।
এর আগেই অবশ্য কূটনৈতিক চ্যানেলে চুক্তিটি নিয়ে মোটামুটি একটি পর্যায়ে এসে দাঁড়াবে দুদেশ।
সূত্রের খবর, তিস্তা নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি আগামী কিছুদিনের মধ্যেই আবারও নতুন করে সবকিছু শুরু করতে চায় নয়াদিল্লি। কলকাতার সঙ্গে দূরত্বও এর মধ্যে মিটিয়ে ফেলতে আগ্রহী তারা।
তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এরই মধ্যে দেশটির তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অম্বিকা সোনি এবং পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী জয়রাম রমেশকে দায়িত্ব দিয়েছে। সূত্র আরও জানায়, তিস্তা চুক্তিসহ বাংলাদেশের সঙ্গে অন্য নদীর পানি নিয়ে চুক্তির বিষয়গুলোতেও এই দুই জন সমন্বয়কের দায়িত্ব পেয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বরের ৭ তারিখে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের সময় মমতা ব্যানার্জির ঢাকা আসার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি না আসার কথা জানিয়ে দেন। সেসময় তার আপত্তিতে তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তিটিও আর হয়নি।
এছাড়া গত ১৯ অক্টোবর বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে যাতায়াতের জন্য তিনবিঘা করিডোর উন্মুক্ত করার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরকালীনও মমতা সেখানে উপস্থিত হননি।
মমতার তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘তাকে কেন্দ্র থেকে ঠিকঠাক আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
যাই হোক, সোনিয়া গান্ধীর নেতৃত্বাধীন ইউপিএ জোট সরকার এখন বিলক্ষণ বুঝতে পারছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের রাজনীতিতে মমতাকে সঙ্গে রাখতেই হবে। এজন্য তাকে ঢাকায় পাঠিয়েই চুক্তির বিষয়াবলী চূড়ান্ত করতে চায় নয়াদিল্লি।









