হামিদ সর্দার : বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার সংবাদ সম্মেলন ও সাম্প্রতিক কথাবার্তার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতিকে ‘পয়েন্ট অব নো রিটার্ন’-এর দিকে ঠেলে দিয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ছাড়াও বিভিন্ন পেশার সচেতন মানুষেরাও বলেছেন, সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল উস্কানিমূলক এবং দেশকে তিনি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঘোষণা করেছেন কেয়ারটেকার সরকার ছাড়াই দেশে আগামী নির্বাচন ‘হবে, হবে, হবেই’। তারপর বলেছেন, জনগণ নির্বাচন ‘করবে, করবে, করবেই’। সবশেষে ‘রাজনীতি করতে চাইলে খালেদা জিয়াকে সেই নির্বাচনে আসতেই হবে’। তার বক্তব্যে যথারীতি ছিল ‘চোর-বাটপাড়’ ধরনের বিশ্রী শব্দ কঠোর ব্যঙ্গাত্মক বিশেষণগুলো।
কেয়ারটেকার সরকার ও নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কেন এত বেশি কঠোর অবস্থানে তার কারণ সম্পর্কে পর্যবেক্ষকগণের বিশ্লেষণ আন্দোলনে বিরোধী দলের সাম্প্রতিক সাফল্যের উল্লেখ করা হয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর পুলিশের দমন-পীড়নের মুখে জামায়াতের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের পর পর ২২ সেপ্টেম্বরের হরতালে শুধু নয়, খালেদা জিয়ার রোডমার্চ ও মহাসমাবেশের কর্মসূচিতে বিচলিত হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। বহুদিন পর খালেদা জিয়ার ডাকে জামায়াতে ইসলামীসহ আওয়ামী লীগ বিরোধী সকল রাজনৈতিক দলই শুধু ঐক্যবদ্ধ হয়নি, বিভিন্ন ছাত্র ও পেশাজীবী সংগঠনও আন্দোলনে অংশ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিও সরকারের বিরুদ্ধে চলে যাচ্ছে। ২৭ সেপ্টেম্বরের মহাসমাবেশের প্রাক্কালে ১৯ সেপ্টেম্বর জামায়াতে ইসলামীর শান্তিপূর্ণ মিছিলে নেতা-কর্মিদের বেধড়ক লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। রাস্তায় পড়ে যাওয়া নেতা-কর্মিদের বুকে ও মাথায় বুট দিয়ে আঘাত করেছে। ঢালাও গ্রেফতারের পর জামায়াতের শ’ তিনেক নেতা-কর্মির বিরুদ্ধে অর্ধ ডজন মামলা চাপিয়েছে সরকার। নিজেদের ইচ্ছামতো রিমান্ড ‘মঞ্জুর’ করিয়ে নিয়েছে। দৈনিক সংগ্রামের সম্পাদক আবুল আসাদকে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় জড়িয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম এবং কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসনীম আলমকে নির্যাতন করা হয়েছে। দু’জনকে ডা-াবেড়ি ও হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। সব মিলিয়েই লক্ষ্য করা হয়েছে, দেশ বাকশাল যুগে ফিরে যাচ্ছে। ফ্যাসিস্ট কার্যক্রম চালাচ্ছে সরকার।
এমন এক পরিস্থিতির মধ্যে ২৭ সেপ্টেম্বরের ভাষণে খালেদা জিয়া সরকারের ব্যর্থতা, দুর্নীতি, সভা-সমাবেশে বাধা, রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর নির্যাতন, সংবাদ মাধ্যমের ওপর আঘাত এবং ভারতের স্বার্থে দেশবিরোধী ভূমিকাসহ সকল বিষয়ে পরিষ্কার বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বিচার বিভাগের ওপর সরকারের হস্তপে এবং সংবাদ মাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টার বিরুদ্ধেও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, দেশে কোনো আইনের শাসন নেই। খালেদা জিয়া কিছু ঐতিহাসিক তথ্য-পরিসংখ্যানও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। যেমন স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৫ সময়কালে রাজনৈতিক নেতা-কর্মিসহ ৪০ হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছিল। তখন হত্যা করেছিল প্রধানমন্ত্রীর পিতার সরকার, এখন হত্যা-নির্যাতন চালাচ্ছে শেখ মুজিবের কন্যার সরকার। খালেদা জিয়া ভারতের প্রতি নমনীয় নীতি অনুসরণের জন্যও সরকারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। বলেছেন, যে কোনো রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক অবশ্যই সমান মর্যাদার ভিত্তিতে হবে। অন্যদিকে শেখ হাসিনার সরকার কেবল ভারতের আবদারই পূরণ করে চলেছে। খালেদা জিয়া আহবান জানিয়ে বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের জুলুম-নির্যাতন থেকে মুক্তি পাওয়ার এবং জনগণের আশা-আকাক্সা পূরণের জন্য ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।=
কথিত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্তদের বিচার প্রসঙ্গে খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই বিচারের নামে প্রহসন করছে। তিনি প্রশ্ন করেছেন, ১৯৯৪-৯৬ সময়কালে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে শেখ হাসিনারা যখন কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছেন তখন যুদ্ধাপরাধীদের কথা তোলা হয়নি কেন? উত্তরও তিনিই দিয়েছেন। বলেছেন, এর সহজ অর্থ হলো, আওয়ামী লীগের সঙ্গে থাকলে সবকিছু ‘হালাল’ হয়, কিন্তু বিরুদ্ধে গেলে এবং বিএনপির সঙ্গে থাকলেই জামায়াত যুদ্ধাপরাধী হয়ে যায়। ক্ষমতাসীনদের এই ভ-ামির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে খালেদা জিয়া বলেছেন, যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সত্যিই বিচার করতে চাইলে আগে নিজের দল থেকে শুরু করুন। আওয়ামী লীগে যেসব যুদ্ধাপরাধী রয়েছে প্রথমে তাদের বিচার করুন। তাহলেই জনগণ বুঝতে পারবে, প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার ইচ্ছা আসলেও আপনাদের রয়েছে কি না।
সরকারের প্রতিহিংসাসহ খালেদা জিয়ার যুদ্ধাপরাধী বিষয়ক বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তুলেছে। জনগণের কাছেও সরকারের উদ্দেশ্য পরিষ্কার হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এবারই প্রথম নয়, অন্য উপলক্ষেও খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও সরকারের প্রতিহিংসা ও প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলেছেন। যেমন ২০১০ সালের ৫ অক্টোবর এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছিলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের বিচারের কথা বলে সরকার জাতিকে হানাহানির দিকে ঠেলে দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, স্বাধীনতার পরপর মুজিব সরকারই প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের ছেড়ে দিয়েছিল। মুজিব সরকার তাদের ক্ষমাও করেছিল। কিন্তু এতদিন পর সে ক্ষমার কথা পাশ কাটিয়ে আরেক আওয়ামী লীগ সরকার বিচারের নামে জাতিকে হানাহানির দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। সরকারের এই নীতিকে খালেদা জিয়া দু’ মুখো নীতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন।
বস্তুত খালেদা জিয়ার বক্তব্যে প্রকাশ ঘটেছে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধী ছিল পাকিস্তানের হানাদার সেনাবাহিনী। কিন্তু তাদের কারো বিচার করা হয়নি। ১৯৭৩ সালে সিমলা চুক্তি স্বারিত হওয়ার পর ভারত থেকেই তাদের পাকিস্তানে ফেরৎ পাঠানো হয়েছিল। সবই করেছিল শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন প্রথম আওয়ামী লীগ সরকার। অন্যদিকে দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে সেই সিদ্ধান্ত-বিরোধী ভয়ংকর পদক্ষেপ নিয়েছে এমন এক সরকার, যার নেতৃত্বে রয়েছেন শেখ মুজিবেরই কন্যা শেখ হাসিনা। এজন্যই পদক্ষেপের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে শুধু নয়, এর পেছনে ঠিক কোন শক্তি সক্রিয় রয়েছে সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। কারণ, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ এর আগেও একবার ক্ষমতায় ছিল (১৯৯৬-২০০১)। তখন কিন্তু ওই সরকারকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যাপারে তৎপরতা চালাতে দেখা যায়নি। তাছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগ বছরের পর বছর একযোগে আন্দোলন করেছে। শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতারা জামায়াত নেতাদের সঙ্গে গোপনে-প্রকাশ্যে বহুবার বৈঠক করেছেন। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত বিএনপির প্রথম সরকারের আমলে (১৯৯১-৯৬) জামায়াত ও আওয়ামী লীগ এক সঙ্গে কেয়ারটেকার সরকারের দাবিতে আন্দোলন করেছে। অর্থাৎ দলগত রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্তে¦ও জামায়াত ও আওয়ামী লীগ ১৯৮০-র দশকের শুরু থেকে একযোগে কাজ করে এসেছে। এজন্যই খালেদা জিয়া প্রশ্ন তুলেছেন, শেখ হাসিনা এবার ক্ষমতায় আসার পর বেছে বেছে শুধু জামায়াত নেতাদেরকেই কেন ফাঁসানো হচ্ছে? জামায়াতের যেসব নেতাকে যুদ্ধাপরাধের বানোয়াট অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।
দেশপ্রেমিক জাতীয় নেত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার দাবি ও বক্তব্য জনগণের মধ্যেও ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে। কারণ, একথাই সত্য যে, কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে সরকারের তৎপরতা জাতিকে শুধু বিভক্তই করবে না, দেশে রাজনৈতিক সংঘাতেরও উস্কানি দেবে। অর্থাৎ জাতিকে বিভক্ত করার এবং দেশে ভ্রাতৃঘাতী সংঘাত ছড়িয়ে দেয়ার ভয়ংকর উদ্দেশ্য নিয়েই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নামে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। খালেদা জিয়া সে অভিযোগই তুলেছেন। কিন্তু সঠিক ও অত্যন্ত সঙ্গত অভিযোগ হলেও তেড়ে উঠেছেন মতাসীনরা। পরদিনই এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম অভিযোগ তুলেছেন যেন খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আন্দোলনের ভয় দেখাচ্ছেন উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক মঞ্চ গরম করার চেষ্টা করছেন। যেমন গত বছরের অক্টোবরে খালেদা জিয়া যখন জাতিকে বিভক্ত করার এবং দেশকে হানাহানির দিকে ঠেলে দেয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন, শেখ হাসিনা তখন বলে বসেছিলেন, খালেদা জিয়া নাকি ‘কোনোভাবেই’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার মেনে নিতে পারছেন না এজন্যই বিএনপি নাকি অস্থির হয়ে উঠেছে এবং যুদ্ধাপরাধীদের ‘পাশে’ দাঁড়িয়েছে
বিশ্লেষকদের পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সূচনা দেখে সরকারই আসলে অস্থির হয়ে উঠেছে এবং যে কোনোভাবে আন্দোলনকে ধ্বংস করে দেয়ার কৌশল নিয়েছে। বিষয়টি পরিষ্কার হবে যদি সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহের পাশাপাশি গত বছরের ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ্য করা যায়। জনগণের সর্বব্যাপী কষ্ট ও দুর্ভোগ এবং সরকারের দমন-নিপীড়নের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের মে মাসে এসে খালেদা জিয়া প্রথমবারের মতো ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেছিলেন ৫ জুন। জামায়াতে ইসলামীসহ দেশপ্রেমিক দলগুলোও খালেদা জিয়ার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল। বিএনপির ডাকা ২৭ জুনের হরতালের প্রতি জামায়াত সমর্থন জানিয়েছিল। এটাই ছিল নতুন পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের সূচনা। এরপর ১৭ জুন অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছিল। বিএনপি-জামায়াতের ডাকে ২৭ জুন পালিত হয়েছিল স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল। এসব দেখেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন ক্ষমতাসীনরা। সে কারণে হরতালের একদিন পর ২৯ জুনই জামায়াতের তিন শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করেছিল সরকার। এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে এক বিবৃতিতে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ সরকার চরম ফ্যাসিবাদী চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে এবং দেশকে হানাহানি, অস্থিরতা ও সংঘাতের পথে ঠেলে দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করতে চাচ্ছে। খালেদা জিয়া সরকারের এই চেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই বিবৃতির পরিপ্রেক্ষিতেও প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের ‘পাশে’ দাঁড়িয়েছে। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এই ‘পাশে’ দাঁড়ানোর তত্ত¦ জনসমর্থন পায়নি। সেই থেকে প্রধানমন্ত্রী ক্ষিপ্ত হচ্ছেন।
পর্যবেক্ষনে দেখা যাচ্ছে এবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হত্যাকা- বন্ধ তো হয়ই-নি বরং বেড়েছে দিন দিন। পাল্লা দিয়ে চলছে গুপ্তহত্যা ও ক্রসফায়ার। এই সরকারের আমলে গুম করে ফেলারও ধুম পড়ে গেছে। প্রতিটি হত্যাকা-েরই শিকার হচ্ছেন বিরোধী দলের নেতা-কর্মিরা। পাশাপাশি রয়েছে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার থেকে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানোর মতো দমনমূলক কর্মকা-। হত্যা-নির্যাতনের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমালোচিত হচ্ছে সরকার। ক্ষমতায় আসার আগে পর্যন্ত কথায় কথায় শেখ হাসিনা যাদের দোহাই দিতেন সে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও যখন প্রতিবাদ জানায় ও বিরোধিতা করে তখন অন্তত প্রধানমন্ত্রীর বোঝা উচিত, বিরোধী দল কেন তাঁর সরকারের বিরোধিতা করছে।
এছাড়া যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা সোচ্চার ছিল, সে দুর্নীতিও কমেনি সামান্য পরিমাণে। একে-ওকে ‘চোর-বাটপাড়’ বলে গালি দেয়ার পাশাপাশি ‘কেচ্ছা-কাহিনী’ও কম তৈরি করেননি তারা। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, বিশিষ্ট কারো কারো প্রবাসী পুত্র ও স্বজনসহ ক্ষমতাসীনদের এমন কোনো একজনের কথাই উল্লেখ করা যাবে না, ঘুষ না দিয়ে যার কাছ থেকে কোনো কাজ বের করে আনা সম্ভব। অভিযোগ উঠেছে ঘুষের টাকা যে আজকাল ‘ডিজিটাল’ পদ্ধতিতে লন্ডন ও আমেরিকায় পাচার হয়ে যাচ্ছে সেকথা সাধারণ মানুষও জানে। অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, পণ্যমূল্য, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট ও সড়ক-মহাসড়কের বেহাল দশা থেকে সংসদকে অকার্যকর করা এবং সংসদ ও জনগণকে অন্ধকারে রেখে ভারতের ইচ্ছাপূরণের অভিযোগও উঠেছে। পঞ্চদশ সংশোধনীর উল্লেখ করারও প্রয়োজন নেই, যার মাধ্যমে প্রকারান্তরে তারা সংবিধানকেই হত্যা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী ‘কিছু কিছু’ ক্ষেত্রে ‘কম’ সফলতার কথা বলেছেন।
সরকার বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের অতংকিত করার উদ্দেশ্যেই ‘শুধু মুখে নয়, লাঠিপেটা করে, জেলের ভাত খাইয়ে এবং সম্মানিত নেতাদের ডা-াবেড়ি পরিয়ে আন্দোলনের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা চলছে’ বলে রাজিৈতক পর্যবেক্ষকগণ মনে করছেন। একই কারণে কেয়ারটেকার সরকার বাদ দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ট্যাবলেট গেলানোর চেষ্টা করছে সরকারী দল। সরকার মনে করছে, কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে পুনরায় ক্ষমতায় আসা সম্ভব হবে না। নির্বাচন অবশ্যই ‘হবে’ তবে তাদের অধীনে নয়, হবে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে। কথাটা যত তাড়াতাড়ি বুঝবেন ততই তাদের মঙ্গল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।









