Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



ইন্ডিয়া শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে

  • PDF

এখন সময় ডেস্ক : শেখ হাসিনার সরকারকে ক্ষমতায় রাখার জন্য যা যা করার তার সবকিছু করবে ভারত সরকার। বিশাল এই প্রতিবেশী দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ৭ অঙ্গরাজ্য তথা সাতবোন রাজ্যমালার স্বাধীনতা আন্দোলন দমনের জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। আর সেটা সম্ভব একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় টিকে থাকলে। এই তথ্য ফাঁস করে দিয়েছে খোদ ভারতেরই সংবাদপত্রে। দি আসাম ট্রিবিউনে গতকাল ১২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি পত্রিকার শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘‘ইন্ডিয়া ট্রায়িং টু হেল্প হাসিনা রিমেইন ইন পাওয়ার।’’ ওহফরধ ঃৎুরহম ঃড় যবষঢ় ঐধংরহধ ৎবসধরহ রহ ঢ়ড়বিৎ

উক্ত খবরে বলা হয়, ভারত সরকার শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের সরকারের হাতকে শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সশস্ত্র তৎপরতা দমনে ইতোমধ্যে বন্ধুত্বের প্রমাণ দেয়ায় ভারত সরকার শেখ হাসিনার সরকারের সাথে এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘায়িত করতে চায়। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে পরিবেশিত ঐ খবরে বলা হয়, বাংলাদেশে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলো এখনো সক্রিয়। ইতোপূর্বে দায়েরকৃত মামলার সুবাদে এখন তাদের অবাধ বিচরণ নেই। বর্তমান সরকারের এই পদক্ষেপের প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সহযোগিতা করতে চায় ভারত। এটা তার নিজেরও প্রয়োজন। সূত্র আরো উল্লেখ করেছে যে, বাংলাদেশের পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোর শক্তিশালী অবস্থানের সুবাদে ভারতবিরোধী জঙ্গি বা স্বাধীনতাকামীদের বহু ক্যাম্প স্থাপিত হয়েছিল বাংলাদেশের অভ্যন্তরে। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর কয়েকজন চিহ্নিত বিদ্রোহী নেতাকে ভারতের হাতে তুলে দেয়াসহ শক্ত ভূমিকার কারণে বর্তমানে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। এখনো কিছুসংখ্যক সশস্ত্র বিদ্রোহী বাংলাদেশে অবস্থান করছে। তবে তাদের আগের মত অবাধ বিচরণ লক্ষ্য করা যায় না। তবে বাংলাদেশে মৌলবাদীগোষ্ঠী এখনো সক্রিয় রয়েছে। হুজিসহ সশস্ত্র গ্রুপগুলোর এখনো শক্ত অবস্থান রয়েছে যাদের নির্মূল করা ভারতের জন্যও অতিব প্রয়োজন। কারণ তারা ভারতেও সশস্ত্র তৎপরতা চালাতে পারে এবং দাঙ্গাহাঙ্গামায় ভূমিকা রাখতে পারে।

পত্রিকাটির খবরে বলা হয়, কতকগুলো বড় প্রয়োজনেই বাংলাদেশের সাথে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষা করা প্রয়োজন। সীমান্তে গোলযোগের সুবাদে বিএসএফের গুলীর কারণে বাংলাদেশের কাছে ভারতকে অনেক সময়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এজন্য বিএসএফকে পারতপক্ষে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। এখন সীমান্ত রক্ষীবাহিনী চোরাকারবারী এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রমকারীদের ধরতে প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করছে। তবে সীমান্ত রক্ষীবাহিনী এ নিয়ে একটু বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে যে, তাদেরকে কখন প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে আর কখন হবে না। কারণ বিএসএফের ছোট ছোট গ্রুপ সাধারণত সীমান্তে পাহারা দেয়। তাদের পক্ষে প্রাণঘাতী এবং অপ্রাণঘাতী এই দুধরনের অস্ত্র সবসময় বহন করা কঠিন। আন্তর্জাতিক সীমান্তে প্রাণঘাতী ও অপ্রাণঘাতী এই দুই ধরনের অস্ত্রধারী বড় গ্রুপ সবসময় পেট্রোল ডিউটিতে পাঠানো সম্ভব নয়।

আসাম ট্রিবিউনের এই খবরে প্রমাণ হয় যে, বর্তমান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ভারতের স্বার্থরক্ষা করে চলছে। আর এজন্য ভারত তার নিজের প্রয়োজনেই এই সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সম্ভাব্য সবকিছু করবে।

Share this post

Add comment




You are here: প্রথম পৃষ্ঠা ইন্ডিয়া শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে