Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ছায়ার সাথে লড়াই

  • PDF

এখন সময় ডেস্ক: এক অসুস্থ সুন্দরী নারী। অচল হয়ে যাওয়া অনেকগুলো অঙ্গের বৈকল্যে ভুগছেন। তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের লড়াই ওই নারীকে নিয়ে দুই বন্ধুর বিত-ার মতোই। প্রতিশ্রুত নয় এমন একটি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে তাদের এই দ্বন্দ¦। গতকাল অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে এ কথা বলেছে। এর শিরোনাম ছিল- ‘শ্যাডো বক্সিং ওভার তিস্তা প্রজেক্ট’ অর্থাৎ তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ছায়ার সঙ্গে লড়াই। এর লেখক নির্মাল্য ব্যানার্জি। এতে আরও বলা হয়, ১৯৭৫-৭৬ সালে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিমবঙ্গের ছয়টি জেলা- কুচবিহার, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, উত্তর দিনাজপুর, দক্ষিণ দিনাজপুর ও মালদার কৃষি অর্থনীতিকে জাগিয়ে তোলা। এসব এলাকায় কোন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। ৩৫ বছর চলে গেছে। কিন্তু ওই প্রকল্প এখনও সম্পন্ন হয়নি। এই প্রকল্প তিনটি পর্যায়ে করার জন্য মূল পরিকল্পনায় বলা হয়েছিল। ওই তিনটি পর্যায়ের মধ্যে প্রথম অংশ তিনটি স্তরে নির্মাণের কথা ছিল। এই তিনটি স্তরের মধ্যে প্রথমটি দু’টি উপ-অংশে ভাগ করা হয়। তিন দশক পেরিয়ে গেছে। কিন্তু প্রথম স্তরের প্রথম উপ-অংশে নির্মাণ কাজ এখনও চলছে। সমপূর্ণ প্রকল্পটির নির্মাণ শেষ হলে সেচের আওতায় আসবে ৯ লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমি। আর ওই উপ-অংশের কাজ শেষ হলে সেচের আওতায় আসবে ৩ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর জমি। ভারতের রেভ্যুলুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টির নেতা সুভাষ নস্কর পশ্চিমবঙ্গে সাবেক বামফ্রন্ট সরকারের সময় সেচমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বলেন, ওই কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। তার মতে, এখন এই প্রকল্প বাস্তবায়নযোগ্য নয়। তিনটি ব্যারেজের সমন্বয়ে এটি নির্মিত হচ্ছে। এর মূলে আছে তিস্তা ব্যারেজ, মহানন্দা এবং ডাউকি নদীতে দু’টি ব্যারেজ, ও চারটি মূল ক্যানেল ব্যবস্থা। এগুলো হলো- তিস্তা-মহানন্দা মূল ক্যানেল, মহানন্দা মূল ক্যানেল, ডাউকনগর মূল ক্যানেল এবং নগর ট্যাঙ্গোন মূল ক্যানেল। এ প্রকল্পের আওতায় কৃষি জমি ছাড়াও কিছু চা বাগানকে ধরা হয়েছে। সেচ বিভাগের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, যখন তিনটি ব্যারেজ ও দু’টি মূল ক্যানেলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে গেছে- তখন পানি বিতরণ করা হবে মাইনর ও সাব-মাইনর ক্যানেলে। এগুলো ধানক্ষেতে পানি নিয়ে যাবে। এই দু’টি ক্যানেলের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে। সুভাষ নস্কর বলেন, এমনকি মূল ক্যানেল নিয়েই সমস্যা রয়ে গেছে। এ সমস্যার কারণে পুরো ব্যবস্থাটি অকার্যকর হয়ে আছে। এখন যে ইস্যুটি তোলা যায় তাহলো, যেহেতু এই প্রকল্প এলাকার কাজ এখনও প্রস্তুত নয়, তাই তিস্তা দিয়ে যতটুকু পানি প্রবাহিত হচ্ছে তা যদি বাংলাদেশকে দেয়া না হয় তাহলে তা অপচয়ই হবে। সুভাষ নস্কর বলেন, বাংলাদেশ বা ভারত কোন দেশেরই পরিষ্কার ধারণা নেই যে, দুই দেশের তিস্তা প্রকল্পের প্রকল্প এলাকায় কি সেচ দিতে কি পরিমাণ পানি লাগবে। তার মতে, ১৯৮৩ সালে দুই দেশের ২৫তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক হয়। তাতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, বাংলাদেশ ও ভারতে তিস্তা প্রকল্পে কি পরিমাণ পানি লাগবে তা স্পট জরিপের মাধ্যমে নির্ণয়ের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হবে। কিন্তু সেই কমিটি কখনও বাস্তবে রূপ পায়নি। সুভাষ নস্করের মতে, তিস্তা নদী থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমান পানি বাংলাদেশের চাহিদা নেই। কারণ তারা ডালিয়া নদীতে একটি ব্যারেজ নির্মাণ করেছে, যা ১ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দিতে যথেষ্ট। এসব কথা বলা হয়েছে একটি গবেষণাপত্রে, যার শিরোনাম- ‘তিস্তা রিভার ওয়াটার শেয়ারিং: এ কেস স্টাডি ইন তিস্তা ব্যারেজ প্রজেক্ট’। এটি প্রস্তুত করেছেন বাংলাদেশের মো নুরুল ইসলাম, মো আশফাক আজম এবং ড কিউ আর ইসলাম। এ গবেষণাপত্রটি ইন্টারনেটে পাওয়া যায়। ওদিকে তিস্তা প্রকল্পের কাজে ধীরগতির জন্য বামফ্রন্ট সরকারকে দায়ী করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সেচমন্ত্রী মানস ভুনিয়া। সুভাষ নস্কর তা মেনে নিতে অন্তত প্রস্তুত। তিনি বলেন, আমলাতান্ত্রিক বিলম্ব ও দুর্নীতি সময়মতো প্রকল্পের কাজ শেষ করা যায়নি। স্থানীয় সংস্থাগুলো ছাড়া এতবড় একটি প্রকা- প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সেচ বিভাগের পক্ষে সম্ভব নয়। উত্তরবঙ্গের কৃষকদের মধ্যে এ প্রকল্প নিয়ে কোন উৎসাহ নেই দেখে বিস্মিত হয়েছিলেন সাবেক সেচমন্ত্রী সুভাষ নস্কর। অথচ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে এই কৃষকরাই হবেন সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী। সুভাষ নস্কর বলেন, কৃষকদের এ নিয়ে মাথাব্যথা নেই। প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে অনেক আপত্তি আছে। আদালতে মামলা আছে। এমনকি জরিপ চালানোর সময় সেখানে বাধা দেয়া হয়েছে। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্বের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেও দায়ী করেন। তার মতে, তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পকে জাতীয় প্রকল্পের আওতায় আনতে কেন্দ্র দীর্ঘসূত্রতা করেছে। এ প্রকল্পকে জাতীয় প্রকল্পের মর্যাদা দেয়া হয় ২০০৯ সালে। কিন্তু তা মাত্র প্রথম পর্যায়ে প্রথম স্তরের জন্য। এর অধীনে প্রকল্পের কাজ ২০১৫ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Share this post

Add comment




You are here: প্রথম পৃষ্ঠা তিস্তা প্রকল্প নিয়ে ছায়ার সাথে লড়াই