Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



জামায়াতের সমাবেশে পুলিশের অতর্কিত হামলায় আহত শতাধিক

  • PDF

গ্রেফতার অর্ধশতাধিক

 

ঢাকা অফিস : রাজধানীতে জামায়াতের উদ্যোগে বিশাল মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতের ইসলামীর শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশ শেষে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে শতাধিক নেতাকর্মীকে লাঠিপেটা ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করে আহত করেছে। পুলিশের নির্বিচার লাঠিপেটা ও গ্রেফতার থেকে বাদ পড়েনি সাধারণ  ফল-ক্রেতা, ছাত্র এমনকি নিরীহ পথচারীও। মারাত্মক জখমও হয়েছে অনেকেই। জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে অন্যায়ভাবে আটক বিচারের নামে প্রহসন এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সোমবার বিকাল সোয়া চারটায় কাকরাইল মোড় থেকে একটি বিশাল মিছিল কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে বের হলে জামায়াত ও শিবিরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী শান্তিপূর্ণ এই মিছিলে অংশ নেয়। মিছিলটি প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মালিবাগ মোড়ে এসে বিশাল সমাবেশে মিলিত হয়।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রঘাষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্দেশ্যে রাজধানীর রমনাস্থ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতি জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সরকারের নিন্দেশে পুলিশ সকালেই পুরো মিলনায়তনে তালাবদ্ধ করে দেয় এবং বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করে। সমাবেশ সফল করার জন্য পুলিশ সাউন্ড সিস্টেমের কর্মীদের মিলনায়তনে ধারে কাছে যেতে দেয়নি, বরং পুলিশ কর্মীদেরকে গ্রেফতার করার হুমকি দেয়। মূলত সরকারের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও পুলিশি বাধার কারণে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে পূর্বনির্ধারিত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। দুপুরের পর জামায়াত নেতাকর্মীরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তন চত্বরে সমবেত হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদেরকেও ধরে নিয়ে যায়। শাহবাগ থানা জানিয়েছে, সেখান থেকে ২১জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশি বাধার মুখে পূর্বনির্ধারিত সমাবেশ না হওয়ায় জামায়াতের উদ্যোগে তাৎক্ষণিক কাকরাইল মোড় থেকে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে নেতৃত্ব দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সদ্য কারামুক্ত অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপক তাসনীম আলম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমীর রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ এমপি, সহকারী সেক্রেটারি নুরুল ইমলাম বুলবুল, মাওলানা আব্দুল হালিম প্রমুখ।

হাজার জনতার পদভারে ও মুহুর্মুহু স্লোগানের মধ্যে পুরো কাকরাইল এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। প্রথমেই পুলিশ মিছিলে ব্যারিকেড দেয়ার চেষ্টা করে কিন্তু হাজার জনতার উত্তাল তরঙ্গের কাছে পুলিশ টিকতে পারেনি। মিছিলটি কাকরাইল মোড় থেকে শুরু হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মালিবাগ মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মিছিলকারীরা মাওলানা সাঈদীর বিরুদ্ধে প্রহসনের বিচার বন্ধসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেয়। রাস্তার দুপাশে শত শত জনতা হাত নেড়ে মিছিলকে স্বাগত জানায় এবং মিছিলকে উৎসাহিত করে। মিছিল শেষে বিক্ষোভকারীরা মালিবাগ মোড়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়।

এদিকে শান্তিপূর্ণ মিছিল ও সমাবেশে শেষে নেতাকর্মীরা ফেরার পথে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালায়। কাকরাইল মোড় থেকে আসা সজ্জিত পুলিশের একটি দল প্রথমে কাকরাইলের দিকে ফেরার পথেই নিরীহ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। পরে মালিবাগ মোড় পর্যন্ত এসে পুলিশের একাধিক টিম মগবাজারের দিকে চলে যাওয়া মিছিলে অংশ নেয়া কর্মীদের পেছন থেকে হামলা চালায়। এ সময় বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ারসেলও নিক্ষেপ করে পুলিশ। সাধারণ পথচারীরা এসময় কিছু বুঝে উঠার আগেই ঝাঁপিয়ে পড়ে পুলিশ। অতিউৎসাহী পুলিশের নির্বিচার লাঠিপেটা থেকে সাধারণ ফল ক্রেতা-বিক্রেতা ও শিক্ষার্থীরা এমনকি পথরাচীরাও পর্যন্ত রেহাই পায়নি। কর্তাব্যক্তিদের নিন্দেশে পুলিশের একাধিক দল মালিবাগের বিভিন্ন অলিতে গলিতে এবং মৌচাক মার্কেটের বিভিন্ন দোকানে ঢুকেও সাধারণ ক্রেতাদের নাজেহাল করেছে। পরে  পুলিশের আরো কয়েকটি টিম মগবাজারের দিকে রাস্তায় অগ্রসর হয়ে সেঞ্চুরি আর্কেড পর্যন্ত দৌড়ে এসে বিভিন্ন গলিতে তল্লাশী চালিয়ে অনেককেই গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।

শাহবাগ থানা পুলিশ জানিয়েছে, তারা ২১ জন ও রমনা থানা জানিয়েছে তারা ২৬ জনকে আটক করেছে।

Share this post

Add comment




You are here: প্রথম পৃষ্ঠা জামায়াতের সমাবেশে পুলিশের অতর্কিত হামলায় আহত শতাধিক