রায় দেয়ার সময় মানুষের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করতে ট্রাইব্যুনালকে হাসিনা

  • PDF

ঢাকা অফিস : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ও জাতির স্বার্থে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে মানুষের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিতে ট্রাইব্যুনালের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আজ রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত এক বক্তব্যে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ট্রাইব্যুনালের প্রতি এ আহ্বান জানান।  রায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, “বিচারের রায় দেবে ট্রাইবুনাল। আইন দেখে তারা চলবে। মানুষের আকাঙ্ক্ষা যেন বিবেচনায় নেয়। সে আহবান জানাব।”এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে যা যা করা দরকার সরকার সব পদক্ষেপই নেবে।

শাহবাগের আন্দোলনকারীরা আজ বিকেলে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধসহ ছয়টি দাবিতে স্পিকারের মাধ্যমে সংসদে স্মারকলিপি দেন। দাবিগুলো হচ্ছে- “আব্দুল কাদের মোল্লাসহ সব যুদ্ধাপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তির মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধনের পাশাপাশি এই ট্রাইব্যুনালের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিধান রহিত করতে হবে; জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে ও গৃহযুদ্ধের হুমকিদাতাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে; যেসব রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করছে, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে; ১৯৭৫ এরপর সাজাপ্রাপ্ত ও বিচারাধীন যুদ্ধাপরাধী রাজাকার আলবদরকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় আনতে হবে; যুদ্ধাপরাধীদের প্রতিষ্ঠান (ইসলামী ব্যাংক, ইবনে সিনা, ফোকাস, রেটিনা) বন্ধ করতে হবে, জামায়াত-শিবিরের  আয়ের উতস বন্ধ করতে হবে ও তাদের গণমাধ্যম-ব্লগ নিষিদ্ধ করতে হবে।”

সংসদে দেয়া স্মারকলিপি পড়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন জানান। আন্দোলনকারীদের দাবি বাস্তবায়নে সরকারের আকাঙ্ক্ষার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শাহবাগে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তরুণরা জেগে উঠেছে। তাদের এ আন্দোলনের আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তাদের এ জাগরণ অভূতপূর্ব।”  শাহবাগের আন্দোলনের ফলে গোটা দেশে জাগরণের সৃষ্টি হয়েছে বলে শেখ হাসিনা দাবি করেন। বক্তব্যের এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমার মনও শাহবাগের আন্দোলনে ছুটে যেতে।”

এদিকে, শাহবাগে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে জাতীয় সংসদ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য শেষে স্পিকার আব্দুল হামিদ অ্যাডভোকেট এই একাত্মতা প্রকাশের ঘোষণা দেন।

তিনি বলেন, “নোটিস দিয়ে সংসদে আলোচনা তুললে আমরা রোববারই সিদ্ধান্ত নিতে পারতাম। কিন্তু নোটিস না থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে আমরা শাহবাগে আন্দোলনরত তরুণদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি। প্রয়োজনে পরে সংসদে নোটিশ দিয়ে আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।”

আজ সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই শাহবাগের আন্দোলন নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনার শুরু হয়।  আলোচনা শুরু করেন আওয়ামী লীগের সাংসদ শেখ ফজলুল করিম সেলিম। পরে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মাইনুদ্দিন খান বাদল, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, স্বতন্ত্র সদস্য  ফজলুল আজিম,  ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পি প্রমুখ।

Share this post

Add comment


You are here: মূল পাতা প্রতিদিনের খবর রায় দেয়ার সময় মানুষের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনা করতে ট্রাইব্যুনালকে হাসিনা