এখন সময় ডেস্ক : মিশরের রাজধানী কায়রোয় আজ (বুধবার) ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি’র ১২তম শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাহমুদ আহমাদিনেজাদসহ ৫৭টি দেশের ২৬ জন শীর্ষ নেতা দু’দিনব্যাপী এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন। “মুসলিম বিশ্বের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়নের সম্ভাবনা” শীর্ষক ওআইসি’র ১২তম শীর্ষ সম্মেলন আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেষ হবে।
সম্মেলনে উদ্বোধনী ভাষণ দেন ওআইসির বিদায়ী সভাপতি ও সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সাল। এ সময় তিনি মালির সার্বভৌমত্বকে সম্মান দেখানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। এ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির কাছে তার দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন।
প্রায় তিন দশক ধরে ইরান ও মিশরের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন থাকার পর আহমাদিনেজাদের কায়রো সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বিরাট সুযোগ এনে দেবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, ইরান-মিশর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া ছাড়াও আর্থ-রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারেও কায়রো সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নানা কারণে বর্তমানে মুসলিম বিশ্ব ব্যাপক সংকটে জর্জরিত। এ অবস্থায় কায়রোয় ওআইসি’র শীর্ষ সম্মেলনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে অধিকৃত ফিলিস্তিনে অবৈধ ইহুদি বসতি নির্মাণ ও সিরিয়া সমস্যা মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ওআইসি’র পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য সমস্যার মধ্যে ফিলিস্তিন ও সিরিয়া বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে।
মুসলিম বিশ্বের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রভাবশালী ভূমিকা পালনের জন্য মিশর ওআইসি শীর্ষ সম্মেলনকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে এবং দেশটি মুসলিম বিশ্বে তার সাবেক ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। এ কারণে কায়রোয় ওআইসি’র সম্মেলন মিশরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। নিঃসন্দেহে মুসলিম বিশ্বের সর্ববৃহত সংস্থা হিসেবে ওআইসি’র প্রতি সারা বিশ্বের মুসলমানদের প্রত্যাশা অনেক বেশি। মুসলিম বিশ্বের সামনে বিরাজমান চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার উপায় খুঁজে বের করা এবং এ ব্যাপারে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা চায় সারা বিশ্বের মুসলমানরা।
এবারে সম্মেলনে মালি ও সিরিয় সংকটের বিষয়টি প্রাধান্য পাবে। ওআইসির খসড়া প্রস্তাবে সিরিয়ার বিদ্রোহী ও দামেস্ক সরকারের মধ্যে আন্তরিক সংলাপের আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে সিরিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বের প্রতিও সমর্থন জানানো হয়েছে।
এদিকে, এই শীর্ষ সম্মেলনের অবকাশে সিরিয়া প্রসঙ্গে ইরান,মিশর, তুরস্ক এবং সৌদি আরব বৈঠকে বসবে বলে কথা রয়েছে।
২০১১ সালে ওআইসি’র ১২তম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠানের কথা থাকলেও আরবব্যাপী ইসলামী গণজাগরণের কারণে তা যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হতে পারেনি বলে এই সংস্থার মহাসচিব একমালউদ্দিন এহসান ওগ্লু সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এই গণজাগরণের মধ্য দিয়ে মিশরের স্বৈরশাসক হোসনি মুবারকসহ চার স্বৈরশাসকের পতন ঘটেছে। এবারের সম্মেলনে মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সংকটগুলো নিয়ে আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।
১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের সাফল্যের পর এই প্রথম মিশর সফর করছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ। শীর্ষ সম্মেলনে তার এই উপস্থিতি ওআইসির কর্মকাণ্ডে নতুন উতসাহের সঞ্চার করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।





