এখন সময় ডেস্ক : অভিবাসন ব্যবস্থায় আমূল রদবদলের যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র নিয়েছে তা সফল হলে দেশের নাজুক অর্থনীতির পালে হাওয়া লাগবে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। যুক্তরাষ্ট্রের রিপাকলিকান আর ডেমোক্র্যাট সিনেট সদস্যদের তৈরি নতুন অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবিকই সফলতার মুখ দেখলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় ১৯৮০’র দশকের পর এবারই প্রথম সবচেয়ে বড় ধরনের রদবদলের পরিকল্পনা করা হয়েছে । যুক্তরাষ্ট্রের ১ কোটি ১০ লাখ অবৈধ আভিবাসীকে বৈধ করার প্রক্রিয়া শিগগিরই শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির রিপাবলিকান ও ডেমক্রেট সিনেট সদস্যদের একটি দল। অভিবাসনের নিয়ম-কানুনে এ শিথিলতা ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহিত করা ছাড়াও বাড়বে হাউজিং এর চাহিদা এবং কর রাজস্ব। তাছাড়া, বাজেট ঘাটতি হ্রাসেও তা সহায়ক হয়ে উঠবে বলে অভিমত অর্থনীতিবিদদের। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে সিনেট সদস্যরা অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার পরিকল্পনা পেশ করেন। রিপাবলিকান ও ডেমক্র্যাট দলের চারজন করে মোট আটজন সিনেট সদস্য প্রস্তাবটি তৈরি করেছেন। নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, জনগণের মনোভাবের পরিবর্তন ইত্যাদি অবৈধ অভিবাসীদের প্রতি আইনপ্রণেতাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের কারণ বলে জানিয়েছেন তারা। নতুন পরিকল্পনায় বৈধ অভিবাসন বাড়ানো এবং বিদ্যমান অবৈধ অভিবাসীদেরকে বৈধ করে নেয়ার বিধান থাকায় এতে করে আগামী ১০ বছরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে যোগ হওয়ার আশা আছে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে বছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ০ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে; বলেছেন, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন নীতি বিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ।
নতুন অভিবাসন নীতিতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জনিয়ারিং এবং অংকে পারদর্শীদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত বিদেশি ছাত্রছাত্রী যারা উচ্চ শিক্ষা নিচ্ছে তারাসহ উচ্চ-প্রযুক্তির কারিগরি শিক্ষার শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ শতাংশ বিজ্ঞানীই অভিবাসী।আর গবেষণায় দেখা গেছে, অভিবাসীদেরই ব্যবসায় নামার সম্ভাবনা দ্বিগুণ। আর তাই নতুন অভিবাসন ব্যবস্থায় ব্যবসায় উদ্যোগ বাড়ারই আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তাছাড়া, নতুন ব্যবস্থায় অবৈধ শ্রমিকরা বৈধতা পেলে তাদের মজুরি বাড়বে। এতে করে কর রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি বিদেশ থেকে উচ্চ দক্ষতা সম্পন্ন শ্রমিক যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ায় দেশে উৎপাদন বেড়ে চাঙ্গা হয়ে উঠবে অর্থনীতি। ফলে বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে পারবে কর্তৃপক্ষ।
বৈধ হওয়া শ্রমিকদের মজুরি বাড়ার কারণে সরকারের রাজস্বে কিছুটা চাপ পড়লেও প্রকারান্তরে অর্থনীতি উন্নয়েনের ধারায়ই যাবে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
নতুন পরিকল্পনার আরেকটি ইতিবাচক দিক হচ্ছে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বিষয়টি। বহু উন্নত দেশেই বুড়িয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠীর কারণে পেনসন, স্বাস্থ্যসেবা ব্যয়ের ওপর চাপ পড়ছে।
নতুন নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র আরো বেশি বৈধ অভিবাসী নিয়ে এবং অবৈধদের বৈধ করে নেয়ার কারণে দেশের নিন্ম জন্মহারের হ্রাস টেনে ধরে ইউরোপ, জাপান এবং চীনের বুড়িয়ে যাওয়া জনোগোষ্ঠীর তুলনায় কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী নিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকতে পারবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে অর্থনৈতিক দুরবস্থার মধ্যেও বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শ্রমিকের অভাব আছে। বাজারের চাহিদা অনুযায়ী এ শূন্যতা পূরণ করতে হলে এবং কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী ঠিক পর্যায়ে রাখতে হলে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন দ্বিগুণ করা দরকার বলেই জানাচ্ছেন অর্থনৈতিক উপদেষ্টারা।





