এখন সময় রিপোর্ট : বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে নিউ ইয়র্ক প্রবাসী যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে ঐক্যের সুবাতাস বইতে শুরু করেছিল তাতে ‘স্যা-িঝড়’ প্রচ- আঘাত হেনেছে। ‘দীর্ঘদিন থেকে ঐক্য প্রত্যাশি বিএনপি সমর্থকরা গত ১০ ডিসেম্বর যে আশার আলো দেখেছিলেন তা কতিপয় নেতৃত্বগৃধœু নাদানের জন্য আবার দু:খকনকভাবে হোচট খেয়েছে’ বলে মন্তব্য করলেন দলের নিউ ইয়র্ক প্রবাসী কয়েকজন প্রবীন ও তরুণ নিবেতি প্রাণ কর্মী ও সমর্থক।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গ্রেফতার হওয়ার খবরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র নেতারা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা দেন গত ১০ ডিসেম্বর। দলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলামের মুক্তির দাবীতে ১৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ঘোষণার পরদিনই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে গিয়াস আহমেদ, ডা: শাহ আলম ও কামাল পাশা বাবুলসহ শতাধিক নেতাকর্মী যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র ব্যানারে জাতিসংঘের সামনে পৃথকভাবে ১৫ ডিসেম্বর বিক্ষোভ কর্মসূচির পালন করে। একইদিন আবার যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র ব্যানারে শরাফত হোসেন বাবু ও বেলাল মাহমুদের নেতৃত্বে আরেকটি অংশ জাতিসংঘ মহাসচিব বরাবর স্মারকলিপি ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে পত্রিকা অফিসগুলোতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে। একই ইস্যুতে পরের দিনও আরেকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে পত্রিকাগুলোতে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়। পর পর দু’দিন জাতিসংঘের সামনে কর্মসূচি পালন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা: মুজিবুর রহমান মজুমদার মোবাইলে এসএমএস দিয়ে জানিয়েছেন, ১৬ ডিসেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচিটি অনিবার্য কারণে বাতিল করে ২৩ ডিসেম্বর নেয়া হয়েছে।
ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি প্রসঙ্গে ঢা: মজুমদার বলেন, দেশ ও দলের দুর্দিনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কর্মসূচি পালন করতে চেয়েছি। এ নিয়ে ১০ ডিসেম্বর বেলাল মাহমুদ ও কামাল পাশা বাবুল, জিল্লুর রহমান জিল্লু ও গিয়াস আহমেদসহ কয়েকশ নেতা কর্মী নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু কয়েকজন ব্যক্তির কারণে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়ার পরও কর্মসূচি পালন করা গেলো না।
বেলাল মাহমুদ বলেন, শনিবারের (১৫ ডিসেম্বর) কর্মসূচিতে আমরা সবাইকে ডেকেছিলাম। এতে কোন পক্ষ না আসলে শরাফত হোসেন বাবু ও আমার (বেলাল মাহমুদ) নেতৃত্বে কয়েকশ নেতা কর্মী নিয়ে জাতিসংঘের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ১০ ডিসেম্বর জ্যাকসন হাইটসের খাবার বাড়ী চাইনিজ রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত সভায় বেলাল মাহমুদ ও কামাল পাশা বাবুল নিজেদের মধ্যে সব বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জোরালো বক্তব্য দেন। বেলাল মাহমুদ বলেন, আজ থেকে আমরা সবাই কর্মী, কেউ নেতা নয়। সবাই একসঙ্গে কাজ করবো। একই ধরণের বক্তব্য রাখেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু। এ ধরণের বক্তব্যের পরও কেন ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করা গেলো না, এমন প্রশ্নের জবাবে বেশ কয়েকজন নেতা কর্মী জানিয়েছেন, ‘ওয়াশিংটন বিএনপি’র নেতা শরাফত হোসেন বাবুই অনৈক্যের কারণ। বাবু কেন্দ্রীয় নেতাদের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সরল সহজ কর্মীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। তার কারণে দলের দুর্দিনেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ঐক্যবদ্ধ হতে পারছে না।’
প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ
জানিয়েছেন ডা: শাহ আলম











