
ঢাকা অফিস : যোগাযোগমন্ত্রীর চরম দায়িত্বাহীনতা ও অবহেলার কারণে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যখন ভেঙ্গে পড়েছে, জাহান্নামের আতংকে দেশবাসী যখন শঙ্কিত তখনও বাংলাদেশের দায়িত্ব প্রাপ্ত সেই ব্যক্তিটি নির্বিকার হাসেন। তিনি আবুল হোসেন। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করে তাকে কটাক্ষ করেছেন পরিবহন যাত্রীদের একটি সমিতির এক নেতা।
সা¤প্রতিক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আশফাক (মাশুক) মুনীরের স্মরণে গতকাল সোমবার এক সভায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির নির্বাহী সদস্য নাজিমুদ্দিন নাজিম যোগাযোগমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, তিনি শুধু হাসতেই জানেন। আর তার হাসি হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ডেকে আনে।
গত ১৩ আগস্টের ঐ দুর্ঘটনা এবং বেহাল মহাসড়ক নিয়ে সরকারের ভেতরে-বাইরে সমালোচনায় আছেন আবুল হোসেন। সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবমাধ্যম ফেইসবুক ব্যবহারকারী অনেকে তার প্রবল সমালোচনার পাশাপাশি পদত্যাগও দাবি করেছেন। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকেও তার পদত্যাগের দাবি উঠেছে।
পদত্যাগের দাবি নাকচ করলেও বেহাল সড়কের জন্য শনিবার জনগণের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেন আবুল হোসেন। তবে ‘সহানুভূতি’ চাওয়ার একদিন পরই তিনি হুমকি দিয়ে বলেছেন, যারা তাকে ‘ধাক্কা দেয়ার’ চেষ্টা করছে, তাদের পরিণতি ভাল হবে না।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির স্মরণসভায় যোগাযোগমন্ত্রীর পদত্যাগসহ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন বক্তারা।
সড়ক দুর্ঘটনার মাত্রা বেড়ে যাওযার দিকে ইঙ্গিত করে সংগঠনটির কার্যকরী সভাপতি, নগর পরিকল্পনাবিদ তপন কুমার নাথ বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতি হাজারে ৭জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। বিষয়টি ভয়াবহ। অন্যান্য দেশে এ সংখ্যা হাজারে ২ থেকে ৩ জন।’
দুর্ঘটনা রোধে সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয় দাবি করে তিনি বলেন, সরকারের উদাসীনতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো অবহেলার কারণে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যাত্রীদের জন্য উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ত্রুটিপূর্ণ ও দুর্বল আইনের কারণে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালক-শ্রমিকরা বেরিয়ে যাচ্ছে।









