
বিমানবন্দরে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোল
এখন সময় রিপোর্ট : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৭তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৯ দিনের সফরে নিউ ইয়র্কে পৌঁছেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার সকাল ৯টা ০৫ মিনিটে (রাত ৭টা ০৫ মিনিটে) এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এর আগে (২২ সেপ্টম্বর) সফরে আসা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি প্রধানমন্ত্রীকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল মনিরুল ইসলামসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত একটি বিশেষ টিম ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
এদিকে প্রতিবারের মত এবছরও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানাতে পারেননি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। শেখ হাসিনা জাতিসংঘ নিরাপত্তা কর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে ভিন্ন পথে বিমানবন্দর এলাকা ছেড়ে যান। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর অবতরণস্থল জেএফকে বিমানবন্দরের চার নম্বর টারমিনালের সামনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শন করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বিভিন্ন শ্লোগান দেয় এবং স্লোগান লেখা বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন তুলে ধরে। এসময় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে মৃদু হট্টগোল হয়েছে।
বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাট, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গিয়াস আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লুর, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির আরেক অংশের নেতা শরাফাত হোসেন বাবু ও বেলাল মাহমুদ প্রমুখ। বিএনপির বিক্ষোভের কাছে দাঁড়িয়েই প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে শ্লোগান দেয় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এতে নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক হাজী এনাম প্রমূখ। নর্থ আমেরিকা আওয়ামী লীগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানোর ঘোষণা দিলেও বিএনপির বিক্ষোভের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে সংগঠনের সভাপতি ড. প্রদীপ রঞ্জন কর ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশার নেতৃত্বে বেশকিছু নেতা-কর্মী বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে দুপক্ষের ব্যাপক শ্লোগানে চার নম্বর টারমিনাল এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখানে বিপুলসংখ্যক পোর্ট অথরিটি পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সকাল ৮টার দিকে দুপক্ষের মধ্যে কিছু উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়েছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান বিএনপি নেতা-কর্মীদের কাছে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া স্লোগানের প্রতিবাদ জানান। এসময় বিএনপি সমর্থকরো হৈচৈ শুরু করলে সেখানে ব্যাপক হট্টগোল শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ এসে দুপক্ষকে কোনো প্রকার স্লোগান না দেওয়ার নির্দেশ দেন।
আমেরিকা খ্যাতনামা এই বিমানবন্দরে হঠাৎ এ ধরণের মুহূর্মুহু শ্লোগানে হচতকিত হয়ে পড়েন যাত্রী সাধারণেরা। প্রতিবছর প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে সরকারি দলের অভ্যর্থনা ও বিরোধী দলের বিক্ষোভ ও কালো পতাকা প্রদর্শন নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেএফকে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি ম্যানহাটনের গ্রান্ড হায়াতে হোটেলে যান। ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ওই হোটেলেই থাকবেন শেখ হাসিনা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি ছাড়াও পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েস, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা, কয়েকজন দলীয় রাজনীতিক ও সাংবাদিক এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।
আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের চলমান ৬৭তম অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়াও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারী ক্লিটনের দেয়া পৃথক দু’সংবর্ধনা সভাসহ বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে যোগ দিবেন। ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার উদ্দেশ্যে নিউ ইয়র্ক ছেড়ে যাবেন। ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী দেশে পৌছাবেন।





