Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



কানেকটিকাটে বাংলাদেশিকে খুনের দায়ে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক গ্রেফতার

  • PDF

সাবেদ সাথী, নিউইংল্যান্ড থেকে : যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে দুর্বৃত্তের গুলিতে বাংলাদেশি দোকান কর্মচারি খুনের ঘটনায় গত সোমবার ইষ্ট হার্টফোর্ড পুলিশ এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে গ্রেফতার করেছে। গত শনিবার ২৫ আগষ্ট রাত ১১টার দিকে ইষ্ট হার্ডফোর্ডের বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি দোকানে কর্মরত অবস্থায় লুৎফুর তরফদার ওরফে বেলাল খুন হয়। ওই রাতেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরটি সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে কানেকটিকাটের বাংলাদেশিদের মাঝে নেমে আসে শোকের ছায়া।

গ্রেফতারকৃত কেজলীন মেন্ডেজ

গত ২৭ আগষ্ট সোমবার ইষ্ট হার্টফোর্ড পুলিশ সার্ভিলেন্স ক্যামেরায় ধারনকৃত ছবি দেখে কেজলীন মেন্ডেজ (২৫)-কে সনাক্তের পর গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেফতারকৃত কেজলীন মেন্ডেজের মা মেথা ম্যাকফারল্যান্ড পুলিশের কাছে বলেছে তার ছেলে এ খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে তার বিশ্বাস। তার ছেলে অস্বাভাবিক প্রকৃতির। সে দীর্ঘদিন ধরে বাইপোলার ডিসোর্ডার রোগে ভুগছিলেন। এ দুর্ঘটনার জন্য কেজলীন মেন্ডেজের মা নিহত বেলালের পরিবারবর্গের কাছে

ক্ষমাও চেয়েছেন। তিনি স্বীকারোক্তিতে পুলিশকে আরও বলেন, তার ছেলে নানা ধরনের অপরাধমুলক অপকর্মে জড়িত থাকার ফলে পুলিশ একাধিকবার তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছিল। শাসানি দেয়ার অপরাধে গত ফেব্রুয়ারি ’১০ এ তার এক বছর জেল হয়েছিল। গ্লাসটোনবুরী ও ওয়েষ্ট হার্টফোর্ড পুলিশ অফিসার ও হার্টফোর্ড শুটিং টাক্সফোর্সের সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কেজলীন মেন্ডেজের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে ধৃত কেজলীন মেন্ডেজকে ম্যানচেস্টার সুপরিয়র কোর্টে হাজির করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২৫ আগষ্ট শনিবার বিকেল থেকে ঘটনার পুর্বমুহূর্ত পর্যন্ত ইষ্ট হার্ডফোর্ডের ১০৮৪ বার্নসাইড এভ্যেনুর সার্কেল এইচ ফুড মার্ট নামে একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরে বাংলাদেশি কর্মচারি লুৎফুর তরফদার ওরফে বেলাল (৪৭) কাজ করছিল। রাত পৌনে ১১টার (বাংলাদেশ সময় সকাল পৌনে ৯টা) দিকে ধৃত কেজলীন মেন্ডেজ কালো পোষাক পরে দোকানে ঢুকে ক্যাশ রেজিস্টার থেকে অস্ত্রের মুখে জোরপুর্বক অর্থ লুটের পর বেলালের বুকে উপর্যুপরি গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে বলে ইষ্ট হার্ডফোর্ড পুলিশ জানায়। বেলালের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর রাতেই বাংলাদেশিদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্রই নেমে আসে শোকের ছায়া। রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শত শত বাংলাদেশি শোক প্রকাশ করতে তার ম্যানচেস্টারের বাসভবনে ভিড় করেন। শোকে পাথর হয়ে পড়েছে তার স্ত্রী ও তিন কন্যা। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধবরা শোকে মুহ্যমান। রোববার পর্যন্ত মরদেহ মর্গে থাকায় কেউ নিহতের মুখদর্শন করতে পারেনি। নিউইয়র্ক থেকে ছুটে এসেছেন তার ভাইবোনেরা। শোকে পাথর আত্মীয় স্বজনদের জন্য দিনব্যাপী ছিল সান্তনা আর সান্তনা।

বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, ওই দোকানে কাজ করতে তার ভালো লাগছিল না। পরদিনই চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা ছিল। তাছাড়া শনিবার তার কাজের সিডিউল ছিলনা। অন্য একজনের বদলি হিসেবে শনিবার বিকেল থেকে রাত কাজ করছিলেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, ওই দিনেই তার জীবন কেড়ে নেয় সেই দুর্বৃত্ত। উল্লেখ্য, গত ৩ বছর আগে বেলাল নিউইয়র্কে অবস্থান কালে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য এবং কানেকটিকাট ষ্টেট আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়াও নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তিনি বাংলাদেশ ইয়েলো সোসাইটির সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বেলালের দেশের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার সদর থানায় বলে জানা গেছে। গত সোমবার দুপুরে ম্যানচেস্টারের বায়তুল মামুর মসজিদে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এরপর ঐ দিন বিকেলে নিউইয়র্কের জামাইকা মুসলিম সেন্টারে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরদিন মঙ্গলবার নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের মুসলিম কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

নিহত বেলালের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়াছেন যুক্তরাষ্ট্র আ’লীগের সভাপতি ড সিদ্দিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হেলাল ইউ করিম, কানেকটিকাট স্টেট আওয়ামীলীগের সভাপতি জুনেদ এ খাঁন, সা সম্পাদক বদরুল চৌধুরী মাসুদসহ স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।

Share this post

Add comment




You are here: প্রথম পৃষ্ঠা কানেকটিকাটে বাংলাদেশিকে খুনের দায়ে এক কৃষ্ণাঙ্গ যুবক গ্রেফতার