Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



কবিতা

  • PDF

ঈদের দিনে

সুফিয়ান আহমদ চৌধুরী

ঈদের দিনে সবার মুখে

মিষ্টি মধুর হাসি

অথই সুখে ঈদের দিন

স্বপ্ন চোখে রাশি

 

নতুন জামা নতুন জুতো

খুশিতে পরে গায়,

ধুমধাম কোলাহলে

ঈদের দিন যায়।

 

পাখি ডাকে গাছে গাছে

হাওয়ায় দুলে ধান,

ঈদের দিনে দেশের লোকের

নেই যে কোনো মান

কোলাকুলি বুকে বুকে

হিংসা দ্বেষ ভুলে

মিলেমিশে থাকে সবাই

আনন্দে মন খুলে।

 

এমনি করে ঈদ কাটে

প্রিয় শ্যামল দেশ,

সোনালী রোদ ঝলোমলো

দুঃখের নেই লেশ।

 

 

একা

দলিলুর রহমান

তুমি সরে গেলে অনেক দূরে

নিঝুম নিরব রাতে তোমার গান

বাজে আমার কানে

অতীত স¥ৃতি তুমি গেছ ভুলে

সে দহনে আমি জেগে রই

উদাস তারার সনে ।

 

 

 

আনন্দ

জ্যোতির্ময় দাশ

এক একটি দিন এমন আসে যেদিন পৃথিবীর

সমস্ত অপরাধী আর প্রতারকদের হাত ধরে বলা যায়

তোমাদের ক্ষমা করলাম আমি,ভাল থেকো সকলে

সেইসব পথিক,যারা জীবনের ভুল কুরুক্ষেত্রে কোন

সাফল্যের গন্তব্যে পৌঁছতে পারল না কোনদিন

তাদেরও প্রণাম করা যায় অকপট সম্ভাষণে

প্রত্যাশার মরীচিকায় যারা বিভ্রান্ত হেঁটে গেল আমৃত্যু

যারা জানতে পারল না প্রতিদিনের ক্লান্তিকর বঞ্চনাই

জীবনের একমাত্র সঙ্গীত নয় অথবা শেষ কথাও নয়

তাদেরও আজ আলিঙ্গন করা যায় অনায়াসে

সেদিন এই পৃথিবীতে কোন এক নাম-না-জানা শহরে

কবিতা লেখার কথা ভেবেই ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে

দু একজন আত্মভোলা মানুষ সূর্যের প্রথম আলোয়

অকারণে পথ হাঁটতে থাকবে অন্যমনস্ক পায়ে পূর্ণতার দিকে

 

 

 

কাছাকাছি যেতে নেই

আবু সাঈদ সাগর

মানুষের খুব কাছাকাছি যেতে নেই কখনো

পর্বতের চূড়া দূর থেকেই দেখা যায় ভাল

খুব বেশি কাছে গেলে গর্ত-গহবর, ধূসর ছাইপাস ভেসে উঠে

পচা ঝরাপাতা ঝঞ্চাট জঙ্গল শুকনো ডাল-পালা

জন্তু-জানোয়ারের বিষ্ঠা আবর্জনা সব

দৃশ্যমান হয়ে উঠে।

 

মানুষের দেখা অনেকটাই আরোপিত; আবেগতাড়িত

সান্নিধ্যের ব্যবধান যতটা প্রলম্বিত-ধূম্রজাল আকর্ষণ

ততটাই প্রগাঢ়-ততটাই বিশেষণের রংতা করা

ঝিলিমিলি অবয়ব আত্মায় প্রোথিত।

অবশেষে জানা পরিচয়ের জানালা কপাট ক্রমশ: উম্মিলিত

হলে-একান্ত ব্যক্তিক আঙিনায় পরস্পর উঁকি ঝুঁকি দিলে

মৌসুমী জল নেমে গিয়ে ভেসে উঠে

থক্ থক্ কাঁদামাটি।

 

মানুষের খুব কাছাকাছি যেতে নেই কখনো

মানুষের খুব কাছাকাছি গেলে

অন্তর দৃষ্টির স্পর্ধা বেড়ে যায়

মহাপুরুষের মতো শিক্ষকের মাথায় অকস্মাৎ দেখা যায়

বুদ্ বুদ্ শয়তানের টগবগ মস্তিষ্ক

দেশপ্রেমী নেতার বাজখাঁই গলার গভীরে

দেশদ্রোহী চরম ফন্দিফিকির দৃশ্যতঃ হয়ে উঠে

নির্বিরোধ নিরপেক্ষ বুদ্ধিজীবীর কলমে ধরা পড়ে

লোভাতুর হায়েনার আগ্রাসী বিদ্বেষ।

 

মানুষের খুব কাছাকাছি যেতে নেই কখনো

তাহলে মানুষের মাঝে ঘাপটি মারা

অমানুষগুলো সব সরবÑদৃশ্যমান হয়ে উঠে

সত্য সুন্দর বিশ্বাস-এর খুঁটিগুলো ক্রমশঃ নড়েচড়ে উঠে

মানুষের খুব কাছাকাছি গেলে

কষ্টে ব্যথায় রক্তস্নাত হয়ে উঠে মানুষের বুকÑ।

 

আহা তবু কেন মানুষেরা এত বেশি বোকা হয়Ñ

যাকে যতবেশি কম জানে

তার প্রতি-ই কেন থাকে

তার এতবেশি বেহুদা সমর্থন!

শুধু আস্তিনের ভাঁজ-শুধু রেশমী শাড়ির পত্পত্ আঁচল

শুধু জনপদ প্রকম্পিত সুরেলা শ্লোগান শুনেই

মানুষেরা কেন এতবেশি

নেতা-নেত্রী-দল সর্বস্ব অর্বাচীন হয়ে উঠে!!

 

 

 

প্রণয়

সোনিয়া কাদির

অনেক পুরনো সেই প্রণয় ইতিহাস

সেই তুমি, সেই আমি অথচ কি বিষ্ময়

কতকাল থেকে একসাথে বসবাস

তবু প্রতিদিন টের পাই নব পরিচয়

 

তোমাকে জড়িয়ে রাখা প্রতিটি ক্ষণ

আকি কুড়িয়ে-কুড়িয়ে জড়ো করি আর

সাজিয়ে গুছিয়ে সুরভিত করি চারিধার

তুমি ময় আমার জীবন

 

কেবল হৃদয়ে নয় শরীরের প্রতিটি বিতানে

তোমাকে যতবার অনুভব করি সজ্ঞানে অজ্ঞানে

প্রতিবারই মুগ্ধ হই, জানো তুমিও নিশ্চয়

প্রতিদিন তুমি, আমি আমাদের পুরনো প্রণয় ॥

 

 

 

আমরা আর মামারা

কাজী মো. আবুলঁ কাসেম

আমরা আর মামারা ছাড়া

দেশের মা্লকি নয় ত্হাারা

তোমরা ষদি দেশের ভাল চাও

সবগুলো ভোট মোদের দাও

ভোট দিয়ে মোদের রাজা বানালে

ভালো থাকবে তোমরা সকল কালে।

ভোট দিয়েছ ভাল করেছ আমরা হয়েছি রাজা।

এত দিন যারা ছিল সরকারে

চুরি চামারি করে শেষ করেছে দেশটারে।

আমরা এখন ভ।ই ক্ষমতায়

বিশ্বাস করি মোরা সমতায়।

ওদের মত ছেড়রা চুরি মোরা করবো না

ছোটোখাট পুকুরে হাত দিব না।

পরের নির্বাচনের খরচ তুলবো মোরা

এ নিয়ে কথাো বলো তোমরা কাহারা।

সড়ক মন্ত্রীর গুপ্ত কথা গুপ্ত থাক

বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগটা গোল্লায় যাক্।

অতীতে আর এখন যারা ধরেছ রাজ ছত্র

দেশষটাকে তোমরা বানায়েছ মৃগয়া ক্ষেত্র

Share this post

Add comment




You are here: ফিচার সাহিত্য কবিতা