
দর্পণ কবীর : নন্দিত লেখক হুমায়ুন আহমেদ ২৮ জুন নিজ বাসায় চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন কেন এবং তিনি চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে আহত হবার পরও তাঁর স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন কেন তাৎক্ষণিকভাবে এ্যাম্বুলেন্স কল করেননি- এই প্রশ্নটি এখন নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনা হচ্ছে। আরো একটি তথ্য ফাঁস করেছে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত একটি সাপ্তাহিক। নিউইয়র্ক সিটি কর্পোরেশনের বরাতে পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোটর্টে বলা হয়েছে, হুমায়ুন আহমেদের ডেথ সার্টিফিকেটে উল্লেখ করা হয়েছিল তাঁকে (হুমায়ুন আহমেদকে) ঢাকার গুলশানের পারিবারিক প্লটে দাফন করা হবে। সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ফরমে এই তথ্য পূরণ করা হয় ১৯ জুলাই। এই ফরম পূরণ করার দায়িত্ব হুমায়ুন আহমেদের স্ত্রী শাওনের। তিনি এই ফরম ১৯ জুলাই পূরণ করে থাকলে ২২ জুলাই দেশে ফিরে কেন বলেছেন যে, হুমায়ুন আহমেদ মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলেন তাঁকে যেন নুহাশপল্লীতে দাফন করা হয়। এ কথা সত্যি হলে হুমায়ুন আহমেদের ডেথ সার্টিফিকেট প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফরমে কেন নুহাশ পল্লীতে দাফন করার কথা উল্লেখ করা হয়নি? নিউইয়র্ক সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রদত্ত ডেথ সার্টিফিকেটের খবর ফাঁস হবার পর হুমায়ুন আহমেদের দাফন নিয়ে পরস্পর বিরোধী শাওনের বক্তব্য নিয়ে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এদিকে হুমায়ুন পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল এমন একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, চিকিৎসকদের চরম হুঁশিয়ারীকে উপেক্ষা করে ২৮ জুন হুমায়ুন আহমেদকে মদ পান করতে দেয়া হয়েছিল। এদিন হুমায়ুন আহমেদ মদ পান করে এক সময় চেয়ার থেকে পড়ে যান এবং পড়ে গিয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁর অপারেশনের স্থানে রক্তক্ষরণ হয়েছিল বলে সূত্রটির দাবি। মদ পানের কথা ফাঁস হয়ে যাবে বলে শাওন এদিন হুমায়ুন আহমেদকে হাসপাতালে নিয়ে যাননি বলে ঐ সূত্র জানিয়েছে। পরের দিন (২৯ জুন) তাঁকে প্রথমে জ্যামাইকা হাসপাতালে এবং সেখান থেকে ভেলবিউ হাসপাতালে নেয়া হয়। ২৮ জুন হুমায়ুন আহমেদ কেন মদ পান করেছিলেন বা তিনি যদি মদ পান করতে চেয়ে থাকেন, তাহলে কেন মদ পান করতে দেয়া হয়েছিল, এ প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। বাংলা সাহিত্যের দিকপাল এই লেখককে সুস্থ করে তোলার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণে শাওন কেন ব্যর্থ হয়েছেন- এ কথাও সন্দেহের তীরে বিদ্ধ হয়েছে। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, শাওন নিয়মিত মদ পান করেন। ডাক্তারী ভাষায় শাওন এলকোহলিষ্ট। নিউইয়র্কে হুমায়ুন আহমেদের বাসায় মদের আসর বসতো। ৫ জুন শবেররাতের রাতেও শাওনের বাসায় মদের জমজমাট আসর বসেছিল বলে তাদের বাড়িতে থাকতেন এমন একজন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেছেন। সূত্রটি আরো জানিয়েছে, মদ পান এবং চেয়ার থেকে পড়ে গিয়ে আহত হবার ঘটনাটি হুমায়ুন আহমেদের শারীরিক অবস্থার অবনতির অন্যতম কারণ। এর মধ্য দিয়ে ভাইরাস আক্রান্ত এবং হুমায়ুন আহমেদ মৃত্যুর দিকে ধাবিত হন। সূত্রমতে, অপারেশনের পর সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ এবং সেবা পেলে হয়তো হুমায়ুন আহমেদকে হাসপাতালে নিতে হতো না। এছাড়া ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ হাসপাতাল মেমোরিয়াল স্লোয়ান-কেটারিং সেন্টার ছেড়ে শাওন মেডিকেড গ্রহণ (স্বল্প আয়ের লোকেরা তা গ্রহণ করেন) করে সরকারি ভেলবিউ হাসপাতালে চিকিৎসা কেন করেছেন- এই প্রশ্নও উঠেছে। শাওন প্রথমে বলেছিল, হুমায়ুন আহমেদের চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ হয়েছে। অথচ ভেলবিউ হাসপাতালে চিকিৎসা হয়েছে প্রায় বিনামূল্যে। চিকিৎসা নিয়ে রহস্যময় ভূমিকা এবং তথ্য প্রকাশে কঠোর মনোভাব শাওন এবং প্রকাশক মাজাহারকে ‘খলনায়ক-নায়িকা’য় পরিণত করেছে।







