
এখন সময় ডেস্ক : দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু নির্মান প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ঋণ দেয়ার কথা নিশেধ করার পর এপর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে বহু কথা বলা হয়েছে।কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীও।বিশ্বব্যাংকেও দুর্নীতিতে অযিুক্ত করে নিজেদের খরচেই সেতু নির্মানের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।সেতু নির্মানের জন্য দেশেবিদেশে চাঁদা তোলাও শুরু হয়ে যায়। হঠাৎ করেই অভিযোগের তীরটি যার দিকে ছিল মহাশক্তিধর মন্ত্রীকে পদত্যাগ করানো হয়।এতে করে ধারনা হতে পারে বিশ্বব্যাংকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে সম্মত করানো যাবে। একই লক্ষে অন্যান্য উদ্যোগও নেয়া হয়। কিন্তু বিশ্বব্যাংক এসব উদ্যোকে যথেষ্ট মনে করছে না।
ওয়াশিংটনে গত বুধবার সাক্ষাত করেছেন বিশ্বব্যাংক এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা-জাইকা’র প্রেসিডেন্ট, এই সাক্ষাতের পরও ঢাকায় সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক এ প্রকল্পে অর্থায়ন করার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করবে কি না নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ সহ নানা অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগিদের সাথে সমন্বয় করতে সরকারের নির্ধারিত বিভাগ- অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবও ওয়াশিংটন গেছেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সূত্রগুলোও বলছে, অনিশ্চয়তা আগের মতোই আছে।
ইতোমধ্যেই বিশ্বব্যাংকের শর্ত মেনে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ অভিযোগের তদ্ন্ত করতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকও সই করতেও রাজি হয়েছে সরকার। যেই দুইটি শর্তকে এর আগে ‘অসম্মানজনক’ ও দুদকের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক মর্মে প্রত্যাখান করেছিল সরকার।
বিশ্বব্যাংকের চতুর্থ শর্ত; তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া- এর অংশ হিসেবে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী ও সেতু বিভাগের সাবেক সচিবকে সরালেও শর্তটি পুরোপুরি পালিত হয়নি।
সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের সন্দেহের তালিকায় থাকা অপর এক ব্যক্তি- যিনি মন্ত্রীর পদমর্যাদায় সরকারে আছেন, তার পদত্যাগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি সরকার।
সূত্র জানিয়েছে, ফলে দুর্নীতি তদন্তে সরকার কি সত্যিই আন্তরিক কি না- এ ব্যাপারে এখনো নিশ্চিত নয় বিশ্বব্যাংকের প্রধান দফতর।
সরকারি সূত্রগুলোতে জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের এ সন্দেহের কথা জানাতেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন জাইকা’র ঢাকাস্থ প্রতিনিধি কেই তোয়ামা। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ এই অবস্থান তিনি অর্থমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। তবে সাক্ষাত শেষে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত বলতে অস্বীকার করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা করছে না জানিয়ে নিজেদের ১২০ কোটি ডলারের ঋণ বাতিল করে বিশ্বব্যাংক গত ২৯ জুন।





