এখন সময় ডেস্ক : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিন আসতে আরো একশ দিনেরও বেশী বাকী। কিন্তু এরই মধ্যে স্মরণ কালের সর্বোচ্চ পরিমাণের নেতিবাচক প্রচারণা আর মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার অভিযোগ উঠেছে উভয় ক্যাম্পেইনের বিরুদ্ধেই। বিশেষ করে ওয়াল স্ট্রীট আর প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠানের বিষয় আর ভ্যাটারানদের ভোট বাগানো নিয়ে উভয় দলের আক্রমন পাল্টা আক্রমণ ইতোমধ্যেই নেতিবাচকতা আর নোংরামির সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে ।
রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনী বলেছেন, অর্থনীতি বুঝার মতো মাথা প্রেসিডেন্টের নেই, তাই তিনি সবসময় বিগ বিজনেসের প্রতি বিষোদগার করছেন, জবাবে প্রেসিডেন্ট ওবামাও কম যান নি, তিনি বলেছেন, মিট রমনী ধরাছোঁয়ার বাইরে এমন একজন উচ্চবিত্ত এলিট, যিনি একজন ব্যবসায়ী হিসেবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গুলো থেকে গাই দোহানোর মতো করে মতো করে চেটেপুটে খেয়ে সর্বোচ্চ লাভ নিয়ে অঢেল অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন কিন্তু কোন কর্মসংস্থানের দিকে নজর না দিয়ে বরং চাকুরীর বাজার ধ্বংস করেছেন। মাঝে মাঝে এই অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ গুলো কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনের সীমা ও অতিক্রম করেছে এবং এ ক্ষেত্রে উভয় দলের পক্ষ থেকেই সীমা অতিক্রম করা হচ্ছে। ওবামার ডেপুটী ক্যাম্পেইন ম্যানেজার স্টেফানি কাটার বলছেন , সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে ফাইল করতে গিয়ে মিট রমনী খুব সম্ভবত ফেলনি পর্যায়ের কোনো অপরাধ করে থাকতে পারেন। মিট রমনীর একান্ত সমর্থক নিউহ্যাম্প শ্যাযারের প্রাক্তন গভর্ণর জন শ্যানান বলেন, আহা, আমি খুব খুশী হতাম, ওমাবা যদি অন্তত আমেরিকান হওযাটাও শিখতে পারতো। এর জবাবে মিস কাটার ওযাক-ব্যাক করতে চাইলে, জন শ্যানান তখন ক্ষমা চেয়ে এপলজি দেন। এই সব মন্তব্যেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট প্রার্থিদের পূর্বসূরীরা এক্কেবারে নোংরা বাতচিত ছাডা আর কিছু যে বলবেন না তা একেবারে নিশ্চিত।
এদিকে ফিন্যান্সিযাল সেক্টরসহ বিগ বিজনেস কম্যুনিটিতে ওবামা বিরোধী বিষোদগার চরম আকার ধারণ করেছে, আবার অন্যদিকে বিগ বিজনেসগুলো বলছেন যে ওবামা ক্যাম্পেইন তাদের ওপর এক আক্রমণাত্বক দৈত্যের ভুমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। দুই বছর আগে ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপ এর চেয়ারম্যান স্টিফেন এ সোয়ার্জমেন প্রাইভেট-ইকুইটি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের আয়ের উপর ট্যাক্স বাডানো সংক্রান্ত ওবামা পরিকল্পনা কে ইউরোপে নাৎসী কৌশলের সাথে তুলনা করেছেন, তিনি বলেন, “ওঃ’ং ধ ধিৎ; রঃ’ং ষরশব যিবহ ঐরঃষবৎ রহাধফবফ চড়ষধহফ রহ ১৯৩৯,” (এটি একটি যুদ্ধ, এটা অনেকটা ১৯৩৯ সালে হিটলার যখন পোল্যান্ড আক্রমণ করে তখনকার সময়ের মতো অবস্থা)। পরে অবশ্য সোয়ার্জম্যান তাঁর এ বক্তব্যের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অতি সম্প্রতি এর চেয়েও কিছুটা নমনীয় স্বরে যেন ঠিক একি মনোভাব ব্যক্ত করেছেন প্রাইভেট ইক্যুইটি ফার্ম জে এল এল এর নির্বাহী পল এস লেভি, তিনি বলেন, ওবামা আমার শিল্পপ্রতিষ্ঠানে পতন ডেকে এনেছেন, তিনি ব্যবসা সফল মানুষদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছেন। এদিকে জে পি মর্গ্যান চেইজের প্রধান নির্বাহী জ্যামি ডিমান বলেছেন যে ইদানিং কিছু কিছু ডেমোক্রেটসের বিজনেস বিরোধী কথা বার্তায তিনি ডিস্টার্বড হয়েছেন।
এদিকে মিট রমনীর বেইন ক্যাপিটাল এর মতো প্রাইভেট ইক্যুইটির নির্বাহী হিসেবে যে পরিচয় তাকে ক্রমাগত আঘাত করে যাচ্ছে ওবামা ক্যাম্পেইন। তারা বলছেন যে রমনীর কথাবার্তা ও নীতি পলিসিতে তাঁর এই নির্বাহী পরিচয়েকই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে তাঁর একমাত্র যোগ্যতা হিসেবে প্রমান করতে চাইছেন তিনি, ম্যাসচুসেটস গভর্ণমেন্টের সার্ভিস থেকে অর্জিত কোনো অভিজ্ঞতা কে নয়। ওবামা ক্যাম্পেইনের মিট রমনীর বিরুদ্ধে এই প্রচারণা কতটা সত্য তা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে চলতে পারে কিন্তু, বিষয়টি আলোচনার টেবিলে জিইয়ে রাখা কতটা নৈতিক তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। শুধু এখানেই ক্ষান্ত নয়, এই ধরণের রাজনৈতিক গলাবাজির বিষয় এখন ফিনান্সিযাল প্রতিষ্ঠান কিংবা তেল কোম্পানির নির্বাহী থেকে শুরু করে শিক্ষক ও শ্রমিক ইউনিয়ন পর্যন্ত গডাতে শুরু করেছে। আর এই হলো সাকুল্যে যাকে মার্কিণ যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী প্রচারণা বলে মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।
এদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ওবামা ও রমনীকে নিয়ে এবারের মার্কিণ নির্বাচনই প্রথম যেখানে প্রতিদ্বন্ধি কোনো প্রার্থীরই কোনো সামরিক অভিজ্ঞতা নেই। তাই প্রেসিডেন্ট ওবামা এবং তাঁর প্রতিদ্বন্ধি উভয়েই ভ্যাটারান ভোটারদের সমর্থন আদায়ের জন্য এখানেও বিভিন্ন ছল চাতুরী আর কুটকৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন বলে সংবাদে প্রকাশ। এরই অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার নেভাদার রিনোতে ভ্যাটারানস অফ ফরেন ওয়ারস এর বার্ষিক কনভেশনে ভাষণ দিয়েছেন ওবামা যেখানে আজ মন্ঙলবার ভাষণ দেয়ার কথা মিট রমনীর।







