
এখন সময় রিপোর্ট : বিশিষ্ট কবি, গবেষক ও বুদ্ধিজীবী ফরহাদ মজহার বলেছেন, আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন করতে পারিনি। বাঙালীদের মধ্যে আজও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের চিন্তা দানা বাঁধেনি। ১৯৭১ সালে আমরা রাষ্ট্র গঠন করলেও এখনো পর্যন্ত জনগণের জন্য সংবিধান ও গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়নি। কয়েকজন আইনজীবীকে নিয়ে সংবিধান তৈরি করা হলেও এর কোনো গণভিত্তি নেই। এই সংবিধান বা গঠনতন্ত্রে জনগণের অংশগ্রহণ নেই। এজন্য দেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে। বুধবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে পালকি সেন্টারে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ফরহাদ মজাহার। প্রবাসী বাংলাদেশী সমাজ, যুক্তরাষ্ট্র এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
দেওয়ান শামসুল আরেফিনের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাজনীতিক ও সমাজকর্মী বেলাল মাহমুদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশিষ্ট সাংষ্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব গীতিকার মাহফুজুর রহমান মেহফুজ। তিনি অনুষ্ঠানের শুরুতেই ফরহাদ মজহার সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে ফরহাদ মজাহারকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সাবেক ছাত্রনেতা জীবন শফিক।
প্রবাসীদের দেশের রাজনীতি না করে দেশের উন্নয়নে অংশগ্রহণ করার আহবান জানিয়ে ফরহাদ মজহার বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে পলিসি প্রণয়ন ও এদেশের সরকারকে বাংলাদেশে আরো বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে নীতির পরিবর্তনের জন্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাজ করতে হবে। বাংলাদেশের উন্নয়নে মার্কিন সিনেটর ও কংগ্রেসম্যানদের হস্তক্ষেপ এবং অংশগ্রহণ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীদের আরো বেশী কাজ করতে হবে। প্রবাসীদের কোনো রাজনৈতিক দলে বিভক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তিনি বলেন, দলীয় বিভাজন দেশের কোনো কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। প্রবাসে বসেই দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পলিসি প্রণয়নের আহবান জানান। প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফরহাদ মজাহার বলেন, দেশ এখন নির্যাতনের রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। ঘর থেকে মানুষ বের হয়ে আর ঘরে ফিরতে পারছে না। ছাত্র, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের গুম করা হচ্ছে। এসব কোনো ঘটনার বিচার হচ্ছে না। সরকারের এই ফ্যাসিবাদী আচরণে সারা বিশ্ব ক্ষুব্ধ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো সরকারের আচরণের সমালোচনা করছে। মিত্রহীন হয়ে পড়েছে সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতির কারণে চরম বিপাকে পড়েছে।
মার্কিন সরকার বাংলাদেশ নীতিতে পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে এই আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক বলেন, ২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশে বড় ধরনে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে আমেরিকা। আগে ভারতে মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হতো কিন্তু এখন যে কোনো বিষয় নিয়ে বাংলাদেশের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করার সীদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন সরকার। এটা বাংলাদেশের জন্য ভালো দিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সমালোচনা করে ফরহাদ মজাহার বলেন, প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দলের আদর্শগত বিরোধ আর বিভক্তির কারণে রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়। এই বিরোধ মেটাতে পারলে দেশের আরো উন্নয়ন হতো। প্রবাসীরা শক্তিশালী হলে আগামী ১৫ বছরের মধ্যে বাংলাদেশকে ইউরোপের দেশগুলোর মতো উন্নত দেশে পরিণত করা সম্ভব।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ষড়যন্ত্র করে কোনো দেশ এগোতে পারে না। ষড়যন্ত্রকারীদের পরিকল্পনা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। মাইনাস টু ফরমুলা আর কখনও বাস্তবায়ন করা সম্ভব না। বাংলাদেশের জনগণ তা কোনোদিনও মেনে নেবে না। দলের দুর্নীতি বন্ধে প্রত্যেকে তাদের নিজ নিজ দলের সমালোচনা করার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহবান জানান এই বুদ্ধিজীবী।
আবারো এক এগারো আসতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেন সরকার রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর চরম নির্যাতন করেছে। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর নির্মম নির্যাতনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারেক আমার খুব ¯েœহভাজন। তার ওপর নির্যাতন চালানোর কারণে সারা দেশবাসী কষ্ট পেয়েছে।
মতবিনিময় সভায় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক সাংবাদিক ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ড. শওকত আলী, ড. আবুল কাশেম, বিশিষ্ট রাজনীতিক আলাউদ্দীন বুলু, আলী ইমাম, মোহাম্মদ হোসেন খান, জসিম ভ’ঁইয়া, প্রফেসর আব্দুল মতিন, কাজী আজম, মাওলানা ওয়ালীউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সাইদুর রহমান সাইদ, নুর মোহাম্মদ, রফিকুল মাওলা, আব্দুল খালেক আকন্দ, মনির হোসেন, মাইনুল করিম টিপু, নিরা রব্বানী, জ্যাকব মিল্টন, মেহবুব, আবুল কাশেম, আনোয়ার হোসেন লেবু, দেওয়ান কাউসার, শাহাদাত হোসেন রাজু, রেজাউল কবীর জুয়েল, মেহেদী হাসান, শফিউল্লাহ বাদল, মো. সানি, ওয়াহেদ আলী মন্ডল, মাহবুবুল আলম নাসিমুল গনি বুলেট, সাইফুল ইসলাম, মো. ফারুক, ছৈদুল হক, মোস্তাক আহমেদ, মো. হাসান, মোবারক হোসেন রঞ্জন, আব্দুল মোতালেব ও ড. আবুল মুনসুর।









