এখন সময় রিপোর্ট : বিশিষ্ট লেখক ও কবি ফরহাদ মজহার বলেছেন, পানি আগের মত আল্লাহর নেয়ামত নেই। পানি এখন প্রাইভেট কোম্পানির দখলে। আগামী দিনে তেলের চেয়ে পানি যুদ্ধ হবে অধিক ভয়াবহ। পানি নিয়ে ঢাকা দিল্লি’র মধ্যে সব সময় যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা চললেও মূলত পানি নিয়ে লড়াই সংগ্রাম হবে কর্পোরেট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে।
তিনি বলেন, পানি বাংলাদেশর জাতীয় সমস্যা। পানি’র সমস্যা নিয়ে সবাইকে ভাবতে হবে। বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত। কোন জাতীয় ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলো একমত হতে পারে। বাংলাদেশে মূলত কোন রাজনৈতিক দল নেই, সব দলই ক্ষমতার দল। দলগুলো শুধু ক্ষমতায় বসার রাজনীতি করে।
মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর কথা উল্লেখ করে ফরহাদ মজহার বলেন, পরিবেশ আন্দোলনে ভাসানী নতুন দর্শন দেখিয়ে দিয়ে গেছেন। পানির পরিমাপ বা অধিকারের বিষয় নয়, পানির সঙ্গে জীব ও প্রাণের সম্পর্ক। পানি জীব ও প্রাণের হক। এ সম্পর্কের প্রশ্নে পানি কে কতটুকু পাবে বা ব্যবহার করবে, তা পরিমাপ করা সম্ভব না।
তিনি বলেন, পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহকে হস্তক্ষেপ করলেই সবার জন্য ক্ষতি। নদী প্রবাহতে বাঁধ সব সময় প্রাণের জন্য হুমকি। পানির সমস্যা মূলত ভারত বাংলাদেশের না, এটা চীন, মিয়ানমার, নেপাল, ভূটানের সমস্য। পানি নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশকে ভাবতে হবে। পানি নিয়ে তেলের চেয়ে ভয়াবহ যুদ্ধ হবে।
তিনি বলেন, পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ভারত বিরোধী আন্দোলন বলা যাবে না। কারণ পানি সমস্যা শুধু বাংলাদেশের মানুষের নই, এটা ভারতের জনগণেরও সমস্যা। ভারত চাইলেও পানি আগ্রাসন থেকে সরে আসতে পারবেনা, তারাও কর্পোরেট কোম্পানির হাতে আবদ্ধ। তাই ভারত-বাংলাদেশের মানুষকে পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।
তিনি আরো বলেন, টিপাই বাঁধ অঞ্চলের মানুষরাও এ বাঁধের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অথচ বাংলাদেশ সরকারের কিছু লোক টিপাই বাঁধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। টিপাই বাঁধ নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনও বন্ধ হয়ে গেছে।
ফরহাদ মজহার বলেন, পানি যুদ্ধের সঙ্গে ভবিষ্যতে ফসলের বীজ নিয়ে যুদ্ধ হবে। ফসলের বীজের নিয়ন্ত্রণ সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির হাতে চলে গিয়েছে। কৃষক চাইলে তার মতো পানি ও বীজের ব্যবহার করতে পারবেনা। কৃষি কাজের সঙ্গে পানি ও বীজ সরাসরি জড়িত। এ দু’টা ছাড়া কৃষক অচল।
তিনি বলেন, এমন একটা রাষ্ট্র চাই যে রাষ্ট্র শুধু মানুষ নই, সকল জীবের দায়িত্ব নিবে।
তিনি বলেন, ক্লাইমেট চেঞ্জ আন্দোলন মুল পরিবেশ আন্দোলনকে ধ্বংশ করে দিচ্ছে। ক্লাইমেট চেঞ্জের বিরুদ্ধে আন্দোলন না করে সরকার ক্ষতিপূরণ দাবী করে আসছে। ক্ষতিপূরণের নামে অর্থ লুটপাট করাই মূল উদ্দেশ্য।
ভারতের পানি আগ্রাসন বিরোধী এক প্রতিবাদ সভায় ফরহাদ মজহার এসব কথা বলেন। গত ৯ জুলাই সোমবার নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। সভায় সংগঠনের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সালুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রে সফররত আমার দেশ পত্রিকার সহকারী প্রধান সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি সায়েদ জাফর, বিএনপি নেতা ডা. শাহ আলম, নিউ ইয়র্কে সফরত জাতীয় পার্টির নেতা ইশরাকুর ইসলাম শামীম। সভা পরিচালনা করেন আতাউর রহমান আতা। আরো উপস্থিত ছিলেন ফার্মাসিষ্ট করি নুরুল হক, বাংলাদেশ সোসাইটির সহ-সভাপতি আজহারুল হক মিলন, গিয়াস আহমদ, আবু তালেব চৌধুরী চান্দু, জাকির হাওলাদার, মোঃ সাদি মন্টু, তোফায়েল আহমদ চৌধুরী, এম এ বাতেন প্রমুখ।











