
এখন সময় রিপোর্ট : চট্টলার ইতিহাস-ঐতিহ্য সমুন্নত রাখার সংকল্প ব্যক্ত করার মাধ্যমে চিটাগাং এসোসিয়েশনের নব নির্বাচিত কর্মকর্তাদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৩০ জুন রোববার সকালে নিউ ইয়র্কের ব্রুকলীনে বাংলাদেশী অধ্যুষিত চার্চ-ম্যাকডোনাল্ডে পিএস ১৭৯ এর মিলনায়তনে অভিষেক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজমের প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর ড. আতিউর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ.কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন দক্ষিণ চট্টগ্রাম জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেমউদ্দিন, হ্যামট্রমিক সিটি কাউন্সিলম্যান কামরুল হাসান।
আরো উপস্থিত ছিলেন চট্রগ্রাম সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ এম রেজা, অভিষেক উদযাপন পরিষদের কনভেনর মাকসুদুল হক চৌধুরী, জয়েন্ট কনভেনর ও নতুন কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট তারিকুল হায়দার চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মেহবুবুর রহমান বাদল। অভিষেক উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘কর্ণফুলি’র মোড়ক উম্মোচন করেন প্রধান অতিথি।
ড. আতিউর বলেন, আমাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের উৎসভূমি হচ্ছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের মানুষ হচ্ছেন উদ্যমী। এই অঞ্চলের সংগ্রামী মানুষেরা বিদেশে এসে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের বড় একটি অংশ এলাকায় পাঠাচ্ছেন। এজন্য সরকার এবং বাংলাদেশের আপামর জনতা আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি নিয়ে অনেকে নীতিবাচক কথা বলেন। অথচ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্বের অনেক দেশ থেকে ভালো। আমরা এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ন। আগামী বছরে আমাদের এক ছটাক চালও কিনতে হবে না। বরং আগামীতে বাংলাদেশ চাল রপ্তানি করতে পারবো।
গভর্ণর বলেন, বাংলাদেশকে আরেকধাপ এগিয়ে যেতে আপনাদের সহায়তা চাই। বাংলাদেশ সম্পর্কে নানা রটনা রয়েছে। আমি বলতে চাই যে, ‘চোখের অন্তরালে আরেকটি বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে-যা গোটাবিশ্বে মাথা উঁচু করে সম্মানের সাথে দাঁড়াতে সক্ষম হয়েছে।
গভর্ণর বলেন, গত ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ র্যামিটেন্স এ বছর বাংলাদেশে যাচ্ছে। যার পরিমাণ ১৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, এ কৃতিত্ব প্রবাসীদের।
তিনি বলেন, ভারতে রুপীর মান উঠানামা করলেও বাংলাদেশের টাকার মান স্থিতাবস্থায় রয়েছে। তবে দেশে টাকা পাঠানোর সময় কখনোই হুন্ডির আশ্রয় নেবেন না।
চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে ড. আতিউর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম শহরকে ছবির মত গড়ে তুলতে পারি যদি আপনারা সহায়তা দেন। আপনারাও সেখানে বিনিয়োগ করতে পারেন স্বপ্নের চট্টলা গড়তে। ইতিমধ্যেই আমরা উদ্যোক্তাদের এক বিলিয়ন ডলারের ঋণ দিয়েছি। ঋণের আবদেন পত্র অনলাইনেও প্রসেস করা যায়। আমি গ্যারান্টি দিতে চাই যে, ফাইলটি আমার টেবিলে যাবার দুদিনের মধ্যেই তার অনুমোদন পাবেন। অন্যথায় সরাসরি হটলাইনে (হটলাইন ১৬২৩৬) ফোন করতে পারেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে চট্টগ্রামের সামগ্রীক উন্নয়ন ও পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাকসুদুল হক চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক ছিলেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সহকারী প্রধান সম্পাদক সঞ্জীব চৌধুরী এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাংবাদিক মাইন উদ্দিন নাসের।
আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার সাবেক সচিব সফিক উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম সমিতির আজীবন সদস্য বিশিষ্ট চিকিৎসক আনোয়ার মিয়া এমডি, চট্টগ্রাম সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আব্দুর রহিম, চট্টগ্রাম সমিতির সাবেক সভাপতি সরওয়ার চৌধুরী সিপিএ, ইলিয়াছ মিয়া, সাবেক সহ সভাপতি মহি উদ্দিন আহমেদ বাবুল, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক আল জোবায়ের মানিক, সাইয়েদ এম রেজা ও চুয়েটের সাবেক সহকারী অধ্যাপক সুদীপ্ত দেব। সেমিনারে চট্রগ্রামের উন্নয়নে ১৩ টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।
এর আগে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রি কে- দ্বিতীয় গ্রেড, ৩য় গ্রেড ও ৫ম গ্রেডের ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে ২ টি গ্রুপে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে। প্রি কে -দ্বিতীয় গ্রেড গ্রুপে প্রথম স্থান অধিকার করে নাওশিন মেজবা, ২য় স্থান লাভ করে নুসরাত জাহান এবং ৩য় স্থান লাভ করে সামিয়া কাইয়ুম এবং ৩য় গ্রেড-৫ম গ্রেড গ্রুপে প্রথম স্থান লাভ করে তাসনিয়া ইবনাত, ২য় স্থান লাভ করে রাজশ্রী পাল, তয় স্থান লাভ করে যৌথভাবে আইপি মেজবা ও নুর নিগার। চিত্রাংকন প্রতিযোগীতা পরিচালনা করেন এন আনোয়ার, আরিফ চৌধুরী ও এম এ লতিফ।



