পোশাক শিল্পে অশনি সংকেত

  • PDF

ঈর্ষণীয় সাফল্য ব্যর্থ করে দিতে দেশী-বিদেশী নানামুখী চক্রান্ত

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা থেকে : দেশী-বিদেশী নানামুখী চক্রান্তে ক্রমশ স্থবির হয়ে পড়ছে দেশে তেরি পোশাক শিল্প। বিশেষ করে এই শিল্পে ঈর্ষণীয় সাফল্য ব্যর্থ করে দিতে বাংলাদেশের ইমেজকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যা দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য অশনি সংকেত। এদিকে, গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ায় প্রায় ২০ লাখ শ্রমিকের ভাগ্য পথে বসছে বলে আশংকা করছেন শ্রমিক নেতারা। সাভারে সাম্প্রতিক সময়ে শ্রমিক নেতা আমিনুল ইসলাম গুম ও পরে তার মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা সরকারের নিলিপ্ততার সমালোচনা করেছেন খোদ মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন। এর পর ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতও সরকারকে বেশ কয়েকবার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করলেও অপরাধীদের খোজের চেষ্টা করেনি সরকার। এবিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অধিকার। তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সরকারই আমিনুলকে গুম ও হত্যা করেছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা অপরাধীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা অব্যহত রেখেছে। সরকারের এই ব্যর্থতার ঘটনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের পোশাক শিল্প নিয়ে অসনি সংকেতের কথা আগেই বলেছেন।

এবিষয়ে বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি ও এক্সপোর্টাস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শিদী জানান,

গত কয়েক দিনে ৭২ জন ক্রেতা কোন রকম অর্ডার না দিয়ে ফিরে গেছেন। এমন কি অনেক ক্রেতা বিমানবন্দর থেকে পরিস্থিতি দেখে ফিরে গেছেন। প্রায় প্রতিদিন রফতানি আদেশ বাতিল হচ্ছে। ক্রেতাদের প্রশ্নের কোন উত্তর দিতে পারছি না। প্রতিদিনই উৎকণ্ঠায় থাকি। এই অবস্থা চলতে থাকলে এ শিল্পকে কোনভাবেই টিকিয়ে রাখা যাবে না।

জানা গেছে, প্রতিযোগী দেশগুলোর বাজার ধ্বংসের অপচেষ্টা, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কিছু এনজিওর অপতৎপরতা এবং শ্রমিক সংগঠনগুলোর উস্কানির কারণে ফের অস্থির হয়ে উঠেছে গার্মেন্টস খাত। গত কয়েক দিনে পুলিশ ও শ্রমিকদের সংঘর্ষে কোথাও কোথাও রণক্ষেত্রের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। লাগাতার সংঘর্ষ ও ভাংচুরের ঘটনায় তিন শতাধিক পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

পোশাক শিল্পে ২৫ লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি কর্মরত। দেশের রফতানি-বাণিজ্য অনেকাংশে এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শ্রমিক-মালিক সম্পর্কের অবনতি পোশাক শিল্পে এক আশনি সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে দেশের প্রধান রফতানিমুখী পোশাক শিল্প ধীরে ধীরে নিস্তেজ হতে চলেছে। এ খাতের শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যকার সৃষ্ট দূরত্বের সুযোগ নিচ্ছে পাশের ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলো। তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ শনিবার রাতে আশুলিয়ায় সব পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

দিন যত যাচ্ছে মালিক-শ্রমিক দূরত্ব ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দু’পক্ষ একে অপরকে শুধু দায়ীই করছেন না, শক্তির মহড়াও দিচ্ছেন। গার্মেন্টস খাতের মালিক পক্ষ আইন-শৃংখলা বাহিনী দিয়ে শক্তির মহড়া দিচ্ছেন। আর শ্রমিকরা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে দেখাচ্ছেন তাদের আন্দোলনের তীব্রতা। আশুলিয়ায় গত কয়েক দিন ধরে যে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে তা আরও বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের পোশাক শিল্পে অশনি সংকেত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। পোশাক শিল্পের ঈর্ষণীয় সাফল্য ব্যর্থ করে দিতে বাংলাদেশের ইমেজ প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের অবকাঠামো ও স্থিতিশীলতা সম্পর্কে বায়ারদের ভুল বার্তা দেয়া হচ্ছে। বায়ার ও বিদেশী ভোক্তাদের কাছে নেতিবাচক ধারণা দিতে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, ঘনঘন শ্রম অসন্তোষ, শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকা-সহ বিভিন্ন বিষয় ফোকাস করতে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রকারীরা কাজ করে যাচ্ছে।

জানা গেছে, একটি নির্দিষ্ট কারখানার অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও বর্তমানে এর জন্য ব্যবসায়ী নেতাদের অদক্ষতাকে দায়ী করা হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ব্যবসায়ী নেতা বলেন, এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি একে আজাদ তার কারখানার শ্রমিকদের জন্য আগামী নভেম্বরের ইনক্রিমেন্ট চলতি জুন মাসে এগিয়ে আনার ঘোষণা দিয়ে অন্য কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের ইস্যু সৃষ্টির সুযোগ করে দিয়েছেন। জানা গেছে, রফতানিতে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দেশের এ শিল্পে ভাগ বসাতে চলছে নানা ধরনের খেলা। চলছে নানামুখী ষড়যন্ত্র। আগামী রমজানের ঈদকে সামনে রেখে এ খাতে বড় ধরনের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার আশংকা করা হচ্ছে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) পক্ষ থেকে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন, অন্যদিকে গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের নেতারা বুধবারের মধ্যে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন ও বন্ধ সব কারখানা চালু করার আলটিমেটাম দিয়েছেন। নেতারা বলেছেন, ২০ জুনের মধ্যে শ্রমিক অসন্তোষ নিরসন, সব বন্ধ কারখানা চালু না করা হলে ২২ জুন থেকে ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। নেতারা বর্তমান বিজিএমএইএ নেতৃত্ব অত্যন্ত অদক্ষ ও অযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। এমনকি এ কমিটির দ্বারা উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাধান হবে না বলেও মনে করেন গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের নেতারা। কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত হওয়ার পর দফায় দফায় বৈঠক করছে শ্রমিক সংগঠনগুলো।

তবে শ্রমিক অসন্তোষকে উদ্দেশ্যমূলক ও ষড়যন্ত্র দাবি করছে মালিক পক্ষ। তারা বলছেন, শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর যে দাবির কথা বলা হচ্ছে তা যুক্তিসঙ্গত নয়। গত বছরই বেতন বাড়ানো হয়। পোশাক খাতে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য বেতন বাড়ানোর বিষয়টিকে ইস্যু করে এ শিল্পকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে।

গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ায় প্রায় ২০ লাখ শ্রমিকের ভাগ্য পথে বসছে বলে শ্রমিক নেতারা আশংকা করছেন। অভিযোগ করা হচ্ছে, গুজব ছড়িয়ে শ্রম অসন্তোষ ও সহিংসতার পেছনে পোশাক শিল্পের প্রতিযোগী দেশগুলোর ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রম অসন্তোষের পেছনে শ্রমিক সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত শ্রম অসন্তোষের কারণে কারখানা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর ফলে কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার সঙ্গে প্রতিযোগী সক্ষমতাও নষ্ট হচ্ছে।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প যখন সারাবিশ্বের অর্থনৈতিক দূরবস্থার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রামে লিপ্ত, তখন এদেশের পোশাক শিল্পকে নিয়ে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল চক্রান্ত করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আশুলিয়া ও কাঁচপুর উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মহিউদ্দিন বলেন, দেড় বছর আগে শ্রমিকদের বেতন বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে আর বেতন বাড়ানো সম্ভব নয়। গত এক বছরে পোশাক উৎপাদনের সব ধরনের ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে আমেরিকা ও ইউরোপে রফতানি কমেছে যথাক্রমে ২৮ ও ১৫ শতাংশ। আমরা যখন নতুন বাজার খুঁজছি, তখন দেশী-বিদেশী একটি অপশক্তি পোশাক খাতকে অস্থির করে তুলছে।

এ বিষয়ে শফিউল ইসলাম বলেন, ইনক্রিমেন্ট শুধু হা-মীম গ্রুপের কারখানার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হবে না। একই মত দেন বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদীও।

পোশাক শিল্পের একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আপাতত স্বস্তিকর মনে হলেও যে কোন সময় আবার অসন্তোষ দেখা দিতে পারে। এমনকি শুধু আশুলিয়াই নয়, এর বাইরেও এর নেতিবাচক প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ বিষয়ে বিকেএমইএর এক নেতা বলেন, একে আজাদ তার ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের বেতনভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন। অন্য মালিকরা যদি তাদের ফ্যাক্টরির শ্রমিকদের বেতনভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা না দেন তাহলে অসন্তোষ বাড়ার আশংকা রয়েছে। বর্তমান দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে তাতে কোন একটি গোষ্ঠী বা পাশের দেশ বাংলাদেশের পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য সুযোগ নিতে পারে।

জানা গেছে, ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভিয়েতনাম এবং দক্ষিণ আফ্রিকা পোশাক তৈরি ও রফতানি বাণিজ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এছাড়া নতুন করে মায়ানমার তৈরি পোশাক শিল্পে বিনিয়োগের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। দেশটি এরই মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশের আওতায় ডিউটি ফ্রি কোটা সুবিধা নিশ্চিত করেছে, কিন্তু এখনও রফতানিতে যেতে পারেনি।

এ খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, তৈরি পোশাক রফতানি বাণিজ্যে মায়ানমার এগিয়ে আসছে। গ্যাস-বিদ্যুত ও মানবসম্পদের সংকট না থাকায় এ শিল্পে মায়ানমার খুব দ্রুত বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরে সাভারের আশুলিয়া এলাকা শ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হলেও এ খাতকে সুরক্ষিত রাখার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, গুজব ছড়িয়ে শ্রম অসন্তোষের কারণে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। এর ফলে বায়ারদের মনে নেতিবাচক ধারণার জš§ দিচ্ছে যা কোনভাবেই এ শিল্পের জন্য ভালো খবর নয়। তিনি বলেন, রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের বাজার অনেকাংশে ইমেজের ওপর গড়ে ওঠে।

ইমেজ সংকটের কারণে বাংলাদেশের বাজার হাতছাড়া হওয়ার আশংকা রয়েছে।

 

 

 

অল্প বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রায় ৮০০,০০০ অবৈধ অভিবাসীকে ‘ডিপোর্ট’ করা হবে না : ওবামার নির্বাহী আদেশ

শারমীন আক্তার : ওবামা প্রশাসনের এক নির্বাহী আদেশক্রমে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ৮০০ হাজার অবৈধ অভিবাসী যারা ১৬ বছরের কম বয়সে এদেশে এসেছে, তাদেরকে এদেশে থাকতে অনুমতি দেয়া হবে। কংগ্রেসের সাথে আলোচনা ছাড়াই ওবামা প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

সম্প্রতি ওবামা প্রশাসনের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত এক ঘোষণায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে এদেশে বসবাসরত কয়েকশত হাজার অবৈধ অভিবাসীর সন্তানেরা। গত শুক্রবার প্রশাসনের এক নির্বাহী আদেশক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে

বসবাসরত অবৈধ অভিবাসী যারা ছোটবেলায় এদেশে এসেছে, তাদেরকে ডিপোর্ট করা হবে না এবং এদেশে কাজ করার অনুমতি প্রদান করা হবে। কংগ্রেসের সাথে আলোচনা ছাড়া গৃহিত এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৮০০ হাজার অবৈধ অভিবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। এই আইন যদিও তাদের স্থায়ী কোন ষ্ট্যাটাস দিবেনা তবে তারা বৈধভাবে কাজ করা এবং ড্রাইভার লাইসেন্স পাবার যোগ্যতা পাবে। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজের রোজ গার্ডেনে এই ঘোষণা দেবার সময় প্রেসিডেন্ট ওবামা অল্পবয়স্ক অবৈধ অভিবাসীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, যদিও বৈধ কাগজ-পত্রে নয়, কিন্তু মনে প্রাণে তারা আমেরিকান। তিনি আরও বলেন, নতুন প্রণীত এই আইনের ফলে তাদের উপর ডিপোর্ট হবার যে কাল ছায়া ছিল তা সরে গেছে।

প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার সময় হোয়াইট হাউজের বাইরে অপেক্ষায় থাকা হাজার হাজার অভিবাসি শিক্ষার্থী আনন্দে আত্মহারা হন।

এদেশে বসবাসরত অবৈধ অভিবাসী যারা ষোল বছর পূর্ণ হবার আগে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছে, কমপক্ষে ৫ বছর এদেশে অবস্থান করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলে পড়ালেখা শেষ করেছে বা এখনো করছে, কোন রকম ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই কিংবা সুনামের সাথে এদেশের মিলিটারীতে চাকরী করেছে এবং বর্তমান বয়স ত্রিশ বছরের কম তারাই শুধুমাত্র এই নতুন আইনের আওতায় পড়বে। এখন থেকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’র ডিপোর্টেশন আতঙ্ক তাদেরকে আর তাড়া করে বেড়াবে না।

এদিকে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’র পক্ষ থেকে ইমিগ্রেশনের এই আদেশ প্রচার হওয়ার পর সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আনন্দ প্রকাশ করেন। অনেকেই বলছেন সরাসরি না হলেও বহুদিন ধরে আলোচনায় থাকা ড্রিম এ্যক্ট পাশ হল এই নির্বাহী আদেশের মধ্য দিয়ে।

গত এক বছর যাবত, এদেশে বসবাসরত অনেক অল্পবয়স্ক অবৈধ অভিবাসী প্রেসিডেন্ট ওবামার প্রতি এই ধরনের ডিপোর্টেশন বন্ধ করার জন্য বিক্ষোভ করে যাচ্ছিল। গত শুক্রবারের পরে তাদের অনেকেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে।

তবে প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে রিপাবলিকানরা ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছে। তারা প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার তীব্র বিরোধিতা করে বলছে, কংগ্রেসের সাথে আলোচনা ছাড়া এমন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে প্রেসিডেন্ট আইনের সীমা লংঘন করেছেন। রিপাবলিকানরা বলছে আগামী ইলেকশনকে সামনে রেখে ওবামা তার নীতিগত দায়িত্ব ভুলে গিয়ে একটি রাজনৈতিক চাল চেলেছেন।

উল্লেখ্য, ক্ষমতায় আসার পর গত তিন বছরে ওবামা প্রশাসন প্রায় ১.১ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসীকে  যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করেছে। ৫০’র দশকের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট প্রশাসন এত বিপুল পরিমাণ অবৈধ অভিবাসীকে ডিপোর্ট করেছে। প্রেসিডেন্ট ওবামা তার কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির ফলে বরাবরই লাতিন নেতা এবং ডেমোক্রেটদের চাপের মুখে ছিলেন। তারা বারবার সাবধান করেছে যে, এই কঠোর নীতির ফলে ওবামা লাতিন জনগোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। এতে তার পরবর্তী ইলেকশনে বিরাট প্রভাব পড়তে পারে। ওবামা প্রশাসন এই ডিপোর্টেশনের হার কমানোর জন্য শুরু থেকেই ধীর গতিতে কাজ করে যাচ্ছিল। তবে হঠাৎ করে প্রেসিডেন্ট এর এই সিদ্ধান্তের ফলে অবৈধ অভিবাসীদের একটি বিরাট অংশ হাঁফ ছেড়ে বাঁচল।

শুক্রবার রোজ গার্ডেনে ভাষণ প্রদানকালে রিপাবলিকানদের বিরোধিতার জবাবে তিনি বলেন, নতুন আইনের ফলে অবৈধ অভিবাসীরা এদেশের নাগরিক হয়ে যাচ্ছে, তাতো নয়। আর এটা কোন স্থায়ী সমাধানও নয়।

অবৈধ অভিবাসী যারা এই নতুন আইনের আওতায় পড়বে, তারা বলেছে এখন তাদের জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন আসবে। এতোদিন তাদের মতো ছাত্ররা হাইস্কুল থেকে পাশ করার পর অনেকেই কলেজে ভর্তি হতে পারতোনা। কারণ তাদের আর্থিক সাহায্যের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা ছিল না। যারা ভর্তি হতো তাদের বড় অংকের কলেজ টিউশন দিয়ে পড়তে হতো। এদের মধ্যে যারা আবার কলেজ থেকে গ্রেজুয়েশন করতো, ভাল ফলাফল করলেও এদেশে বৈধ কোন চাকরি করার সুযোগ পেতো না কিংবা ড্রাইভার লাইসেন্স এর জন্য আবেদন করতে পারতো না। এখন তাদের দিন পাল্টে যাবে। ওয়াশিংটনে অবস্থিত একটি রিসার্চ গ্রুপের রিপোর্ট অনুসারে, প্রায় ১.৪ মিলিয়ন অবৈধ অভিবাসী নতুন এই আইনের আওতায় পড়বে, যাদের মধ্যে বেশির ভাগই লাতিন নাগরিক এবং এদের ৭০%এর বেশি অংশের জন্ম মেক্সিকোতে।

এদিকে ডেমোক্রেটিক অনেক নেতা প্রেসিডেন্টকে তার এই সিদ্ধান্তের জন্য সাধুবাদ জানিয়েছেন। তবে অনেকে প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণা শোনার পরও উচ্ছাসিত হচ্ছেন না, কারণ হিসেবে বলছেন প্রেসিডেন্ট এর আগেও তাদেরকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তারা আশা করছেন এবার প্রেসিডেন্ট তার ঘোষণা কার্যকর করবেন।

তরে প্রেসিডেন্সীয়াল নির্বাচনের ৫ মাস আগে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত বড় একটি আইন পাশ হচ্ছে। এই কারণে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশীসহ প্রায় দেড়কোটি অভিবাসি স্বপ্ন দেখছেন- এভাবেই হয়ত একদিন সকলের জন্যই কম্প্রিহিন্সিভ ইমিগ্রেশন রিফর্ম বিল পাশ হবে অথবা হয়ত গণ-এ্যামনেষ্টি ঘোষণা করবে সরকার।

Share this post

Add comment




Joomla Templates and Joomla Extensions by JoomlaVision.Com
  • পপাত ধরণীতল!!

    পপাত ধরণীতল!!

    সাঈদ তারেকএই ভাটি বেলায় এসে সিটি ইলেকশনের বুদ্ধিটা কে যে দিয়েছিল! কি হতো চার সিটিতে নির্বাচনটা না করালে! মেয়াদ শেষ হয়ে গেছিলো? তো মেয়াদ তো ঢাকারও শেষ হয়ে গেছে পাঁচ…

  • চার সিটি নির্বাচনের ফলাফল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে নাকি বিপক্ষে ?

    চার সিটি নির্বাচনের ফলাফল  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে নাকি বিপক্ষে ?

    জাহিদ হাসান বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের আমলে এবং নির্বাচন কমিশনের অধীনে ১৫ জুন রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়ে গেল, এতে সব কয়টা মেয়র ও অধিকাংশ কাউন্সেলর পদে…

  • তারেক জিয়া দেশে ফিরলে বিএনপি’র লাভ-ক্ষতি

    তারেক জিয়া দেশে ফিরলে বিএনপি’র লাভ-ক্ষতি

    সাঈদ তারেক ............ কয়েক দিন আগে দেখা গেল তারেক জিয়া দেশে ফিরে আসছেন- এই এক খবরে সরকারি দলের লোকজনের কাপড়-চোপড় নষ্ট হবার দশা! শুরু হলো স্বভাবসূলভ প্রলাপ বকা। এক মন্ত্রী…

  • বাংলাদেশে শত্রুশক্তির যুদ্ধ

    ফিরোজ মাহবুব কামাল ......... শত্রুপক্ষের রণকৌশল : মুসলমানগণ কোন কালেই শত্রুমুক্ত ছিল না। আজও নয়। যেখানেই মুসলমান আছে সেখানে শয়তান এবং তার দলবল ও রণকৌশলও আছে। কোন বিজন দ্বীপে ঈমানদার…

  • বিরোধী দলকে জুজুর ভয় দেখানো হচ্ছে ১/১১ এর সরকার কি তত্ত্বাবধায়ক ?

    জাহিদ হাসান .......... দেশে আর কয়েক মাস পরেই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের ৫ বছরের মেয়াদ শেষ হবে, নিয়ম অনুযায়ী বা সংবিধান মেতাবেক ২০১৪ সালের জানুয়ারী মাসের মধ্যে পরবর্তি সংসদ…

You are here: প্রথম পৃষ্ঠা পোশাক শিল্পে অশনি সংকেত