ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি সীমান্তে যেতে পারবেন না
ঢাকা অফিস : রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হবে না। এখন থেকে সরকারের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের কান্ট্রি ডিরেক্টর ক্রেইগ স্যান্ডার্স বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় যেতে পারবেন না। এদিকে ইউএনএইচসিআরের অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার এরিকা ফিলারের ঢাকা সফর বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার তার ঢাকা আসার কথা ছিল। সোমবার বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ক্রেইগ স্যান্ডার্সকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে ইউএনএইচসিআরের কান্ট্রি ডিরেক্টরকে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা অত্যন্ত শক্তভাবে জানিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সাম্প্রদায়িক হামলায় প্রচুর মুসলিম রোহিঙ্গা নিহত হওয়ার পর অনেক রোহিঙ্গা সদস্য জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছে। তবে রোহিঙ্গাদের অতীতে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া হলেও এবার তাদের কোনো ধরনের আশ্রয় না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে সরকারের ব্যাখ্যা হলো রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশের জন্য একটি বড় সমস্যা। নতুন করে সরকার এ সমস্যাকে আর বাড়াতে চায় না। এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এ অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জাতীয় সংসদে কড়া বিবৃতি দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপ মনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার এ অনুরোধ রাখতে বাধ্য নয়। সরকারের এ কঠোর অবস্থানের ফলে দাতাদের সঙ্গে এক ধরনের শীতল সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গতকাল ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধিকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের কোনোভাবেই আশ্রয় দেবে না সরকার। তাদের আশ্রয় দেয়ার কোনো অবস্থা নেই। সরকারের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
সরকার মনে করছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির পর আন্তর্জাতিক মহল বার্তা পেয়ে গেছে। এর পরও তারা যদি ক্ষান্ত না হয়, তাহলে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের অবস্থান জানানো হবে।
সূত্রগুলো আরও জানায়, দুই দিন আগে ক্রেইগ স্যান্ডার্স বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন সরকারের নির্দেশ উপেক্ষা করে। তাকে আর যেতে দেয়া হবে না। এরপর তিনি যাওয়ার চেষ্টা করলে বাধাপ্রাপ্ত হবেন।
গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বের হওয়ার সময় ইউএনএইচসিআরের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।







