ঢাকা অফিস : বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জাতীয় সংসদের আলোচ্য বিষয় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে সংবিধানের ৭৮(১) অনুচ্ছেদ লংঘন করেছেন বলে রুলিং দিয়েছেন স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুুল হামিদ। তবে একজন বিচারকের অশোভন আচরণ রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে বিদ্যমান সুসম্পর্ককে ব্যাহত করতে পারে না বলে মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, এদেশ পাকিস্তান নয়, বাংলাদেশ। স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ এ ঘটনাকে দুঃখজনক, অনাকাক্সিক্ষত, অনভিপ্রেত ও ব্যক্তিগত আক্রমণপ্রসূত বলে দাবি করে বলেন, ওই বিচারপতি সংসদ ও আমার সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন তা কোনো বিবেকবান মানুষ উচ্চারণ করতে পারেন কি না সন্দেহ রয়েছে। প্রত্যাশা ছিল তিনি (এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক) সব বিষয় হƒদয়ঙ্গম করবেন এবং মাত্রা অতিক্রমকারী বক্তব্য পরিহারে যথাযথ পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। সোমবার জাতীয় সংসদে দিনের কার্যসূচির শুরুতে দেয়া রুলিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন করে বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিককে অপসারণ সংক্রান্ত জাতীয় সংসদের প্রস্তাবের সঙ্গে ঐকমত্য প্রকাশ করলেও বৃহত্তর স্বার্থের বিষয়টি মাথায় রেখে স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে পুরো বিষয়টি প্রধান বিচারপতির এখতিয়ারে ছেড়ে দিয়ে তাকেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। তিনি বলেন, সুুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠনের মতো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ সমীচীন হবে না। অবশ্য একজন বিচারকের এ ধরনের আচরণে করণীয় সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি যে ব্যবস্থা নেবেন তাতে জাতীয় সংসদের সমর্থন থাকবে বলে জানান স্পিকার। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা এ সময় অনুপস্থিত ছিলেন। দীর্ঘ ছয় পৃষ্ঠার লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের ভিত্তি সংবিধান। সংবিধানের মূল স্তম্ভ সংসদ। এই সংসদই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করেন। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী প্রধান বিচারপতিকে নিয়োগ দেন। এই পদ্ধতিতেই জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। সংবিধান আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছে। আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সংবিধানকে সমুন্নত রাখব দেশবাসী এটাই প্রত্যাশা করে। স্পিকারের বক্তব্যের সময় মহাজোটের সংসদ সদস্যরা ‘শেইম’ ‘শেইম’ বলেন। এর মধ্যেই স্পিকার বলেন, আমার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই আশাকরি এ সংক্রান্ত বিতর্কের অবসান ঘটবে। পুরো ঘটনার আদ্যোপান্ত বর্ণনা দিয়ে অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ বলেন, ২৯ মে মহান জাতীয় সংসদে কয়েকজন সংসদ সদস্যের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি কিছু কথা বলেছিলাম। আমার বক্তব্যের বিষয় ছিল মূলত সংসদ, আদালত ও নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক এবং তাদের কল্যাণ সাধন। সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতেই তাৎক্ষণিকভাবে কিছু সাধারণ মন্তব্য করা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত ৫ জুন ইন্টারনেট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ নিয়ে সংবাদ পরিবেশিত হয় যে, হাইকোর্ট বেঞ্চের একজন বিচারপতি আমার বক্তব্যকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল বলে মন্তব্য করেছেন এবং আমার ও জাতীয় সংসদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ ও অনাকাংখিত মন্তব্য করেছেন।
Tuesday, December 18 - December 24 , 2012 >









