
আওয়ামী লীগ কখনো জনগণকে দেয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি
আরীফ মুহাম্মাদ : যুক্তরাষ্ট্রে সহ-সভাপতি বিএনপি নেতা সোলাইমান ভুইঁয়া বলেছেন আওয়ামী লীগ কখনো জনগণকে দেয়া ওয়াদা রক্ষা করেনি। ওয়ান এলিভেন সরকারের পর সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে আওয়ামী নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করেছিল। আমরা মনে করেছিলাম আওয়ামী লীগের চরিত্র বদলাবে, কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক মাসের ব্যবধানে তাদের সেই ৭৫ এর বাকশালী চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে। সাপ্তাহিক এখন সময়ের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ ৬ মাস বাংলাদেশে অবস্থান শেষে সোলাইমান ভুইঁয়া গত ৫ জুন নিউ ইয়র্কে ফিরে এসেছেন। তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন।
সোলাইমান ভুইঁয়া বলেন, স্বাধীন দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ নেই। দেশের সর্বত্রই সন্ত্রাস, গুম হত্যার ঘটনা চলছে। দেশে অবস্থানকালীন সময়ে আতংকে কেটেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন চলছে। দেশে ন্যায়বিচার বলতে কিছুই নেই। আওয়ামী লীগ কখনো জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। মানুষকে রঙ্গীন স্বপ্ন দেখিয়ে ক্ষমতায় বসেই সব ভুলে যায় তারা। এর আগে শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমানও ৬ দফাসহ পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় বসেই সব ভুলে গিয়েছিলেন। গণতন্ত্র বিলুপ্ত করে এক নেতার এক দেশ ঘোষণা করলেন। একই পথে হাটছে শেখ হাসিনাও।
যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র বিভাজন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সুলাইমান ভুইঁয়া বলেন, বড় দলে বিভক্তি থাকাটা স্বাভাবিক। তবে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকলে বেশী ভালো হতো। একসঙ্গে প্রবাস থেকে দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করা যেত।
এখন বিভক্তি থাকলেও সবাই যে যার অবস্থান থেকে প্রবাস থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
ওয়ান এলিভেন সরকারের সময় প্রবাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে বিএনপি’র পক্ষে লবিংয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এগিয়ে নিতে দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলনের সঙ্গে সঙ্গে মূলধারার রাজনীতিও করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কমিটিতে আসার সম্ভাবনা আছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- আমি পদ পদবি চাইনা। শুধু চাই- দলের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে যোগ্য ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেয়া হোক। এর আগে এখানের কমিটিতে কয়েকজন অযোগ্য নেতার কারণে বিএনপি’র নেতা কর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছিল।
প্রবাস থেকে সরকার বিরোধী আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্টে বিএনপি’র নেতা কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বিএনপি ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপি নেতা কর্মীরা। তিনিও দলের প্রয়োজনে সব সময় প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানান।
আগামীতে সংসদ নির্বাচনে তার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে সোলাইমান ভূইঁয়া বলেন- দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মনোয়ন দিলে ফেনী ৩ আসন থেকে নির্বাচন করার ইচ্ছা আছে।
উল্লেখ্য, ফেনী জেলার সন্তান সোলাইমান ভূইঁয়া মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। প্রথম জীবনে আওয়ামী লীগ করলেও বিএনপি’র প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাতীয়তাবাদী আদর্শের রাজনীতি করে আসছেন বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে এসে ৯৬ সাল থেকে জিয়া মঞ্চ ব্যানারে প্রবাসে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সহ সভাপতি হন। বর্তমানে রাজনীতি ও ব্যবসা করছেন বলে জানান তিনি।











