সরোয়ার আলম : পুলিশের অতিরিক্ত বাড়াবাড়িতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি। রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে শুরু করে সাংবাদিক, আইনজীবী, সাধারণ মানুষ কেউই পুলিশের নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। যাকেই পারছে পুলিশ তাকেই হেনস্থা করছে। তবে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের নির্যাতন করে পুলিশ এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত-সমালোচিত। অনেকের মতে, পুলিশের মধ্যে ‘চেইন অব কমান্ড’ বলে এখন আর কিছু নেই। ফ্রি স্টাইলে চলছে তাদের কার্যক্রম। ফলে দায়িত্বপালন করতে গিয়ে কোথাও কোথাও পুলিশ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জনমনে তৈরি হচ্ছে আতংক।
আইন বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, রাজনৈতিক আনুগত্য পাওয়ায় পুলিশ এতটা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অপরাধ করেও তারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। অপরাধী পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করা যায় না। কোন ঘটনা ঘটলে পুলিশকে দিয়েই তদন্ত করা হয়। ফলে তদন্ত রিপোর্ট পুলিশের পক্ষে চলে যায়। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শাসকদলের নেতারা পুলিশকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন। এখন রাজনৈতিক তদবিরে পুলিশে চাকরি হচ্ছে বেশি। যার ফলে একশ্রেণীর পুলিশ সদস্য কাউকেই তোয়াক্কা করছে না। পাশাপাশি দলীয় আনুগত্য পেতে কিছু পুলিশ সদস্য অতিউৎসাহী হয়ে এমন ঘটনা ঘটাচ্ছেন, যা সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলছে। এতে একদিকে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ঘটনার শিকার বিশেষ পেশা বা শ্রেণীর মানুষের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি সাংবাদিক নির্যাতনের একাধিক ঘটনায় সাংবাদিকদের সঙ্গে সরকারের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে বলে পর্যবেক্ষক মহল মনে করছেন। অবশ্য এ অবস্থার মধ্যেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা বলছেন, পুলিশ আগের চেয়ে অনেক ভালো। অনেকের মতে, এ ধরনের বক্তব্যে পুলিশের বাড়াবাড়ি চরম পর্যায়ে পৌঁছবে। জানতে চাইলে সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এসএম শাহজাহান যুগান্তরকে জানান, দলীয় আনুগত্য পেলে কেউ নিয়মের মধ্যে থাকে না। পুলিশের মধ্যে এখন এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশের বেপরোয়া আচরণ খুবই দুঃখজনক। সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। সাবেক আইজিপি বলেন, পুুলিশের মধ্যে কোন দুষ্ট প্রকৃতির লোক প্রবেশ করেছে কিনা তা খুঁজে বের করা সরকারের কাজ। দলীয়ভাবে পুলিশকে ব্যবহার করা ঠিক হচ্ছে না। তারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে কোন অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটানোর সাহস পেত না। তিনি আরও বলেন, এখন রাজনৈতিক ব্যানারে পুলিশে নিয়োগ, পদোন্নতি বন্ধ করতে হবে। আমরা যখন চাকরি করেছি, তখন পেশাকে পেশাই মনে করেছি। আর এখন আমরা কি দেখছি। সরকারের অমুক নেতার তোষামোদ করতে পারলেই বড় অফিসার হওয়া যায়। দলীয় আনুগত্য থেকে বেরিয়ে না এলে পুলিশের সুনাম ফিরে আসবে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজ উদ্দিন আহমেদ জানান, পুলিশের বাড়াবাড়ির কারণে দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। মূলত রাজনৈতিকভাবে পুলিশ আশ্রয়-প্রশ্রয় পায় বলে তারা হিংস হয়ে ওঠে। এখন প্রকাশ্যে পুলিশ নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। এটা সরকারের জন্য ভয়াবহ অশনি সংকেত। বিশিষ্ট এ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেন, পুলিশের অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ আতংকগ্রস্ত। পুলিশকে দিয়ে তদন্ত করলে এর কোন সুরাহা হবে না। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক কারণে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাংবাদিক ও আইনজীবীদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এই পথ থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিকের মতে, পুলিশ স্বাধীনভাবে কাজ করলে দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার সুযোগ নেই। তাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। মানুষ অপহরণ, গুম আতংকের পাশাপাশি এখন সাংবাদিক, আইনজীবী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পুলিশের হাতে মার খাচ্ছে। সরকারের উচিত দুষ্টদের চিহ্নিত করে পুলিশের সুনাম ফিরিয়ে আনা। আর না হয় সরকারই বেকায়দায় পড়ে যাবে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন সদস্য অপরাধে যুক্ত হওয়ার পর দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাহলে এসব ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে বলে তিনি মনে করেন। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেছেন, পুলিশ আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। অপরদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহম্মেদ বলেছেন, পুলিশের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পুলিশের মাঠপর্যায়ের সদস্যরা সিনিয়র কর্মকর্তাদের কোন আদেশই পালন করছে না। যে যার মতো দায়িত্ব পালন করছেন। আইনের লোক হয়েও তারা আইনকে তোয়াক্কা করছে না। মাঝেমধ্যে দেখা যাচ্ছে পুলিশ প্রকাশ্য অসহায় নারীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালাচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেলে যে কাউকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। আবার কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে তার নিস্তার নেই। থানার হাজতখানার ভেতর আটক ব্যক্তিদের ওপর চলছে অমানুষিক নির্যাতন। দেশের আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পরিবর্তে নিজেরাই অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। ডাকাতি-ছিনতাই থেকে শুরু করে সব অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে কিছু অসাধু পুলিশ। পুলিশের এই বেপরোয়া আচরণে রাজনৈতিক নেতা, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো সোচ্চার হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে পুলিশের মারমুখী আচরণে হতবাক হচ্ছে শীর্ষপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতারা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো পর্যন্ত পুলিশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি উচ্চ আদালতও বলেছেন, পুলিশ ব্যর্থ।
সূত্র জানায়, যে কোন দলীয় সরকারের আমলেই পুলিশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে। দলীয় আনুগত্য পাওয়ার পর কাউকে পরোয়া করে না। নিজের মতোই করে তারা চাকরি করে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বেশি বেপরোয়া। কর্তাব্যক্তিদের নির্দেশ পালন করছে না তারা। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ওই সব পুলিশ সদস্য হয়ে ওঠে বেশি উচ্ছৃংখল। এখন সাংবাদিকরা পুলিশের আক্রোশের শিকার হচ্ছেন বেশি। আদালত থেকে শুরু করে কোথাও পুলিশের কাছে নিরাপদ ভাবছেন না সাধারণ লোকজন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ বাহিনীতে অতি উৎসাহী পুলিশ চাকরি করছে। তাদের মধ্যে একটি অংশ আছে যে দল ক্ষমতায় আসে তারা তাদের লেজুড়বৃত্তি করে। আরেকটি চক্র আছে তারা দলীয় ক্যাডার হিসেবে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ এলে কর্তাব্যক্তিরা তা আমলে নেন না। তাছাড়া সাংবাদিকদের নির্যাতন করার পর পুলিশ এমন কথাও বলেছে, সাংবাদিক মারলে এই দেশে কিছুই হয় না। বরং বহাল তবিয়তে চাকরি করা যায়। এমনকি পদোন্নতি পর্যন্ত হয়। ঢাকার বাইরে পুলিশের আচরণ আরও ভয়াবহ। যে যাকে পাচ্ছে তাকে আটক করে মিথ্যা মামলা ঠুকে দিচ্ছে। হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ২৬ মার্চ বরিশালের স্বরূপকাঠিতে তš§য় নামে এক স্কুলছাত্রকে মাদক মামলায় গ্রেফতার করে এসআই কবির হোসেন। তার পকেটে ৫০ গ্রাম গাঁজা ঢুকিয়ে দেয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৬ মাসের কারাদণ্ড দেয়। নির্যাতন করার ফলে তš§য় পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।
মঙ্গলবার দিনদুপুরে সিএমএম কোর্ট এলাকায় এক তরুণী পুলিশের হাতে নির্যাতিত হওয়ার পর সারাদেশে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই দিন দুপুরে ওই তরুণী তার বাবা এবং মায়ের সঙ্গে একটি মোটরসাইকেল করে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে যান। সেখান থেকে বের হওয়ার পথে মোটরসাইকেলটি পুলিশ ক্লাবের সামনে পৌঁছলে পুলিশ গতিরোধ করে। মোটরসাইকেলটি চোরাই অভিযোগ করে পুলিশ তার বাবাকে থানায় নিয়ে যেতে চায়। এ সময় তরুণী এর প্রতিবাদ করলে পুলিশের এক সদস্য তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ক্লাবের ভেতরে নিয়ে যায়। সেখানে পুলিশ তার শ্লীলতাহানি করে বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে সাংবাদিকদের মধ্যে ঘটনাটি জানাজানি হয়। তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে এসআই জামান ও এসআই জাহাঙ্গীরসহ পুলিশের অন্য সদস্যরা লাঠিপেটা শুরু করে। এতে তিন সাংবাদিকসহ ১০-১২ জন আইনজীবী আহত হন। টেলিভিশন চ্যানেলের ক্যামেরাম্যানরা ওই দৃশ্য ধারণ করতে গেলে কোতোয়ালি থানার ওসি সালাউদ্দিন চিৎকার করে বলতে থাকেনÑ ভালো করে ভিডিও করেন। আমাদের কিছুই হবে না। লালবাগ জোনের এসি রাজিব আল মাসুদও সাংবাদিকদের অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেন এবং বলতে থাকেনÑ আইনজীবীরা জঙ্গি। তাদের সহযোগিতা করছেন সাংবাদিকরা। যদিও দুই এসআইকে সাময়িক সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাছাড়া একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে কমিটিতে রাখা হয়েছে এসি রাজিবকে।
গত বছরের জুলাই মাসে বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবেদীন ফারুককে লাঞ্ছিত করার পরও তেজগাঁও জোনের তৎকালীন এডিসি হারুন অর রশীদ ও এসি বিপ্লব সরকারকে সরকার পদোন্নতি দিয়েছে। কিছুদিন আগারগাঁওয়ে প্রথম আলোর তিন ফটো সাংবাদিককে পিটিয়ে আহত করার পর এসি শহিদুলসহ ১০ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন শেরে বাংলানগর থানার ওসি (তদন্ত) আহম্মেদ কবির। ইন্ডিপেনডেন্ট পত্রিকার সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার বিভাস চন্দ্র সাহা বাস চাপায় মারা যাওয়ার পর ধানমণ্ডি থানার ওসি মনিরুজ্জামান সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এমনকি তার নির্দেশে সাংবাদিক ও পথচারীর ওপর গুলি করা হয়। এ ব্যাপারে সাংবাদিক সংগঠনগুলো আন্দোলন করে এলেও ওসির বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ওসি মনিরুজ্জামানের পক্ষে ওকালতি করছেন ঢাকার এক তরুণ সংসদ সদস্য।
মঙ্গলবার বরিশালের হিজলায় পাসপোর্ট যাচাই করার অজুহাতে এক গৃহবধূর শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বরিশাল জেলা পুলিশের বিশেষ শাখার এএসআই শাহজালালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ওইদিন দুপুরে নির্যাতিক গৃহবধূ অপর এক নারীকে সঙ্গে নিয়ে ডাকবাংলোয় যান। গৃহবধূর সঙ্গে থাকা নারীকে ডাকবাংলো থেকে বের করে দেন এএসআই শাহজালাল। শাহজালাল ওই গৃহবধূকে জড়িয়ে ধরে অনৈতিক কাজের প্রস্তাব দেয়। এ সময় গৃহবধূ চিৎকার করলে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে। একই দিন পাবনা জজ আদালতের হাজতখানায় পুলিশ উজ্জ্বল হোসেন নামে এক যুবককে পিটিয়ে আহত করেছে। উজ্জ্বল জেলহাজত থেকে মামলার শুনানির জন্য জজ আদালতের হাজতখানায় নেয়া হয়। পরে তার পরিবার তাকে খাবার দিতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উজ্জ্বল প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে হাবিলদার মোসলেম উদ্দিন তাকে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে উজ্জ্বল জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে পাবনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
৬ মে সবুজবাগ থানার এসআই দীপক ও এএসআই কামরুজ্জামান মেকানিক্যাল বাদলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তারা বাদলের ভাই আশরাফুজ্জামান বাবুর কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে ব্যর্থ হলে পুলিশ বাদলের প্যান্টের পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দিয়ে তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা ঠুকে দেয়। ফেনীতে পুলিশের হাতে এসি ল্যান্ড লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় তোলপাড় হয়। এরকম শত শত ঘটনা ঘটছে দেশের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে।
কিছুদিন আগে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে বলেছে, পুলিশ ও র্যাব গুম, অপহরণের মতো ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি সংবাদকর্মীদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেছে। সরকার পুলিশকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করছে।
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু বলেছেন, পুলিশ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। পুলিশের মধ্যে কেউ অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়লে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হচ্ছে না। সম্প্রতি পুলিশের কিছু সদস্য যেসব ঘটনা ঘটিয়েছে তার তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। সরকার বেকায়দায় ফেলতে পুলিশের মধ্যে কাজ করছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিএফইউজের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী জানান, পুলিশের ভেতর দুটি বিষয় কাজ করছে। একটি হল ক্ষমতার দাপট, আরেকটি আইনের অপব্যবহার। আইনকে বাস্তবায়ন করার জন্য একশ্রেণীর পুলিশ নিজেরাই আইন ভঙ্গ করছে। বিগত সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যরা সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে উচ্ছৃংখল কাজ করছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। দু’একজন উচ্ছৃংখল সদস্যের জন্য পুরো পুলিশ বাহিনীকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না। তার পাশাপাশি পুলিশের মধ্যে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা নিজেদের স্বার্থে এ কাজ করতে হবে। অন্যদিকে সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি একটি চক্র সেনাবাহিনীতেও বিশৃংখলা করার চেষ্টা চালায়। কিন্তু সরকার কঠোর হস্তে দমন করায় তা ভেস্তে গেছে।
প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, সরকার নিজেদের স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করায় তারা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের পাশাপাশি সাংবাদিক-আইনজীবীসহ সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। এটা সরকারের জন্য ভয়াবহ বিপদ এবং গণতন্ত্রের জন্য অশনি সংকেত। পুলিশের মধ্যে যারা অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে তাদের গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। আর তা না হলে সুশাসন ফিরে আসবে না।
(যুগান্তর’র সৌজন্যে)





