Tuesday,
December 18 - December 24 , 2012 > Volume 13 > Issue 04



ইউনিট সাড়ে ১৪ টাকা দরে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ শিল্পে

  • PDF

বিদ্যুৎ নিয়ে বৈষম্য

ঢাকা অফিস : নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ পেতে প্রায় আড়াইগুণ বেশি টাকা গুনতে হবে দেশের শিল্প খাতের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। শিল্প কারখানায় এই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধাভোগী (কিউ) শ্রেণীর জন্য বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করেছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম অনুযায়ী ইউনিট প্রতি দাম ধরা হয়েছে ১৪ টাকা ৯৯ পয়সা করে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) নতুন এই বিদ্যুৎ কাঠামো নিয়ে গ্রাহকদের বৈষম্যের বিষয়টি আলোচিত হলেও শেষ পর্যন্ত তা ঘোষণা করা হলো। আর এই বিতর্কিত ঘোষণার মধ্য দিয়ে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিদ্যুৎ বৈষম্য সৃষ্টি করলো।

সোমবার বিকেলে কমিশন কার্যালয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের নতুন এই দাম ঘোষণা করেন।

এদিকে, শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক দর নিয়ে ব্যবসায়ীদের একটি মহল খুশি হলেও বড় একটি অংশ এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। তাদের দাবি ক্যাপটিভের তুলনায় বেশি দাম দিতে হবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত পেতে। যার ফলে শিল্পোৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে দামও বেড়ে যাবে উৎপাদনশীল সকল পণ্যের।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিইআরসি’র চেয়ারম্যান সৈয়দ ইউসুফ হোসেন জানান, ভোল্টেজের তিনটি পর্যায়ে এই সেবা আগামী ১ জুন থেকে কার্যকর হবে। বর্তমানে ১১ কেভি, ৩৩ কেভি এবং ১৩২ কেভি লাইনের জন্য বিভিন্ন শ্রেণীর গ্রাহকরা গড়ে সাড়ে পাঁচ টাকা দরে বিদ্যুৎ কিনছেন।

নিরবচ্ছিন্ন এই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ১৩২ কেভি লাইনে ইউনিট প্রতি বিদ্যুতের দাম ১৩ দশমিক ৮৮ টাকা, ৩৩ কেভি লাইনে ১৪ দশমিক ৪৫ টাকা ও ১১ কেভি লাইনে ১৪ দশমিক ৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ৮টি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত পাঁচ’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এ বিশেষ শ্রেণীর গ্রাহককে দেয়া হবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

গত মাসে পিডিবি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের জন্য আগ্রহী আবাসিক গ্রাহকদের জন্য ১৩ দশমিক ১৫ টাকা ও শিল্পে ১৬ দশমিক ৭৩ টাকা (১৩২ কেভি লাইন), ১৭ দশমিক ৫২ টাকা (২২ কেভি লাইন) ও ১৮ দশমিক ২৩ টাকা (১১ কেভি লাইন) নির্ধারণের সুপারিশ প্রস্তাব পাঠায়। কমিশন প্রস্তাবের আবাসিক গ্রাহক পর্যায়ের বিষয়টি বাদ দিয়ে প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি ও কমিশনের সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠক করে এ দর চূড়ান্ত করে। তবে কমিশনের ঐ শুনানীতে কোন ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি।

বিদ্যুতের নতুন এ কাঠামোতে বৈষম্য তৈরির বিষয়ে বিইআরসি চেয়ারম্যান বলেন, ভর্তুকির কারণে সকল গ্রাহককে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেয়ার মতো ক্ষমতা দেশের নেই। তাই দেয়া হচ্ছে না।

জানা গেছে, শিল্পে এখন দুই হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন। সর্বশেষ গত মাসে বিদ্যুতের দাম বাড়নোর পর এখন ক্ষুদ্র শিল্পে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ফাট রেটে ছয় দশমিক ২ টাকা, অফ-পিক সময়ে পাঁচ দশমিক ১৬ টাকা এবং পিক সময়ে সাত দশমিক ৩৩ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। বৃহৎ শিল্পে এ বিদ্যুতের দাম খানিকটা বেশি, ফাট রেটে পাঁচ দশমিক ৯০ টাকা, অফ-পিক সময়ে পাঁচ দশমিক ১৬ টাকা ও পিক সময়ে আট দশমিক ৮ টাকায় বিক্রি করা হয়। আর আবাসিকের জন্য বিতরণ কোম্পানিভেদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সর্বনিম্ন দাম তিন টাকা ০৫ পয়সা আর সর্বোচ্চ দাম ৭ টাকা ৮৯ পয়সা।

এফবিসিসিআই’র প্রথম সহ-সভাপতি জসিম উদ্দিন এ ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় সংবাদ২৪নেট’কে বলেন, বিদ্যুতের এভাবে দাম বাড়ানোর কারণে প্রভাব পড়বে দেশের শিল্পের উৎপাদনে। বিদ্যুতের দামের কারণে উৎপাদন পর্যায়ে খরচ বেড়ে গেলে তার প্রভাব থাকবে ভোক্তা পর্যায়ে এবং রফতানিতেও। বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ কম বলেই অনেক পণ্য এখান থেকে উৎপাদিত হয়ে বিদেশে রফতানি হয়।

এদিকে উদ্যোক্তারা বলেছেন, শিল্পের উন্নয়নে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগটি ভাল হলেও দামের কারণে অনেকেই এই সুবিধা নিতে পারবে না। তাছাড়া যারা সুবিধাটি নিতে পারবেন বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতির ওপর পর্যালোচনা করে তারাও সুবিধা পাওয়া নিয়ে দ্বিধান্বিত আছেন।

Share this post

Add comment




You are here: প্রথম পৃষ্ঠা ইউনিট সাড়ে ১৪ টাকা দরে নিরবিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ শিল্পে