সুজনের গোলটেবিল বৈঠকে অভিমত

ঢাকা অফিস : সুশাসনের জন্য নাগরিকসুজন আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে আলোচকরা বলেছেন, কোনো দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। নির্বাচন অবশ্যই নিন্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে। জাতীয় প্রেসক্লাবে মঙ্গলবার ‘চলমান রাজনৈতিক সঙ্কটের উত্তরণ কোন পথে’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সহ-সভাপতি এম হাফিজউদ্দিন খানের সঞ্চালনায় বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সম্পাদক ড বদিউল আলম মজুমদার। আলোচনায় অংশ নেন ড কামাল হোসেন, এএসএম শাহজাহান, অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ, অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন, আবদুল লতিফ ম-ল, ড হামিদা হোসেন, ড শাহদীন মালিক, ইনাম আহমেদ চৌধুরী, রাশেদ খান মেনন এমপি, ফজলুল আজিম এমপি, সৈয়দ আবদুল মান্নান, মাহমুদুর রহমান মান্না, অধ্যাপক তারেক শামসুর রহমান, ড পিয়াস করিম, হুমায়ুন কবির হিরু, রুহিন হোসেন প্রিন্স, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম চৌধুরী বাবুল, অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন খান, অধ্যাপক কামাল আতাউর রহমান, সাংবাদিক মুনির হায়দার, আবুল হাসনাত প্রমুখ।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, আমাদের রাজনৈতিক সঙ্কট দিন দিন জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। এর জন্য প্রধানত দু’টি কারণ দায়ী। প্রথমটি হচ্ছে রাজনৈতিক অপসংস্কৃতি তথা অসহযোগিতা, অসহিষ্ণুতা, অশ্রদ্ধা ও আগ্রাসী আচরণ। দ্বিতীয় কারণটি হলো, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী। এতে বলা হয়, ভবিষ্যতে নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করতে হলে এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করাতে হলে তত্ত¦াবধায়ক সরকার ইস্যুসহ পঞ্চদশ সংশোধনী সংশোধনের লক্ষ্যে সমঝোতা হওয়া আবশ্যক। তবে শুধু সমঝোতা হলেই হবে না, সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান হতে হবে।
আলোচনায় ড কামাল হোসেন বলেন, আমরা গভীর সঙ্কটের মধ্যে রয়েছি। জাতি, দল, মত নির্বিশেষে সবাই এ সঙ্কট থেকে মুক্তি পেতে চায়। সংবিধানে জনগণকে সব ক্ষমতার মালিক বলা হলেও জনগণের নিয়ন্ত্রণে থাকে না রাজনীতি। জনগণ একদিনের জন্য ক্ষমতার অধিকারী হয়। তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতিতে মনোনয়ন বাণিজ্য ঢুকে পড়েছে। মনোনয়ন বাণিজ্য ও দলীয়করণ অত্যন্ত ক্ষতিকর, তা বন্ধ করতে হবে।
এমাজউদ্দীন আহমদ বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে রাজনীতি কেন, কোনো কিছুই স্থায়িত্ব লাভ করে না। চলমান সঙ্কট থেকে বের হয়ে আসতে হলে তত্ত¦াবধায়ক বা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যে নামেই হোক, এ ধরনের সরকারের বিকল্প নেই।
অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিরপেক্ষ হতে হবে। এএসএম শাহজান বলেন, জাতীয় স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে বর্তমানে সংলাপের বিকল্প নেই। এ সংলাপে নাগরিক ও গণমাধ্যমকেও সম্পৃক্ত করতে হবে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন রাজনৈতিক দলের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনী আইন অনুযায়ী আপনারা আর জোট করে নির্বাচন করতে পারবেন না। দলকে যার যার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, পার্লামেন্ট বাতিল করে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্য থেকে কোয়ালিশনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা যেতে পারে।
ড শাহদীন মালিক বলেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল নিজেরাই নিজেদের সঙ্কট ডেকে আনছে। আপাতত আমি সঙ্কট উত্তরণের কোনো পথ দেখছি না। বিরোধী দল রাজপথে আন্দোলন করতে পারে, তবে তাতে সরকারের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হবে বলে আমি মনে করি না।
আগামী নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন কি না এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে ড হামিদা হোসেন বলেন, ‘না’ ভোটের অপশন থাকলে অবশ্যই আমি না ভোট দেব। কেননা আমার আর কোনো বিকল্প জানা নেই।
ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, আগামী নির্বাচন একটি অন্তর্বর্তীকালীন নিন্দলীয় সরকারের অধীনে হতে হবে; তা দেশের সব জনগণের আকাঙ্ক্া। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একটি রূপরেখা তৈরি করে জনসমক্ষে উপস্থাপন করার জন্য সুজনকে আহ্বান জানান।
সৈয়দ আবদুল মান্নান দুই নেত্রীকে সংলাপে বসার জন্য সুজনকে উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
ড পিয়াস করিম বলেন, রাজনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় যে প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করার কথা তা একদমই করছে না। দ্বিদলীয় ব্যবস্থার বাইরে একটি জোরালো নাগরিক প্লাটফরম তৈরি করতে হবে।
রাশেদ খান মেনন বলেন, অবৈধভাবে যারা ক্ষমতা দখল করেছে তাদের কাউকেই আমরা পরে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারিনি। তত্ত¦াবধায়ক সরকারের কথা আমরা বহুদিন ধরে বললেও এ ব্যবস্থার সংস্কার হওয়া জরুরি।
ফজলুল আজিম এমপি বলেন, চলমান সমস্যার সমাধানে আমাদের সবাইকে একত্র হতে হবে। এ মুহূর্তে প্রয়োজন সংলাপ। সমস্যাটা রাজনৈতিক, আর তাই রাজনৈতিকভাবে সঙ্কটের সমাধান করতে হবে। মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, এ দু’টি দল বসলেই যে সব সমস্যার সমাধান হবে আমি মনে করি না। আপাতত সমাধান হিসেবে দু’টি দল বসে মারামারি, সংঘাত বন্ধ করুক; আমরা সাধারণ নাগরিকরা শান্তিতে জীবনযাপন করতে চাই।
রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, আর যাই হোক কোনো দলীয় সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। তিনি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল চিন্তার অধিকারীদের একত্র হওয়ার আহ্বান জানান।









