
এখন সময় রিপোর্ট : বিদেশে দেশের কোন রাজনৈতিক দলের শাখা বিধি সম্মত নয়। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সে সুযোগ নেই। তবে দেশের কোন রাজনৈতিক দলের সমর্থক গোষ্ঠি বিভিন্ন নামে সংগঠিত হতে বাঁধা নেই। সংগঠিত হয়ে তারা যেমন নিজ নিজ দলের সমর্থনে ভূমিকা রাখতে পারেন তেমনি জাতীয় স্বার্থে ও উন্নয়নেও ভূমিকা রাখতে পারেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসে বাংলাদেশের দুটি বড় রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নামে দল কোন্দলেন অভাব নেই। আওয়ামী লীগের বিভক্ত নেতৃত্ব’র ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সুযোগ হয়েছিল দলীয় সভানেত্রীর একটি কমিটি ঘোষণার মাধ্যমে, কিন্তু কমিটিতে পদ বঞ্চিতদের বিদ্রোহে সামান্য পরিবর্তন করে একই নামের আরেকটি সংগঠন (কর্পোরেশন) জন্ম লাভ করে বিভক্তিকে টিকিয়ে রাখা হয়।
অপর বড় দল বিএনপি’র কোন কমিটি (কেন্দ্র অনুমোদিত) যুক্তরাষ্ট্রে নেই। এ সুযোগে নেতৃত্ব দানে আগ্রহী নেতাদের দল উপদলের সংখ্যা বেড়েই চলছে। একই ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ না হয়ে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন ব্যানারে অনুষ্ঠান সমাবেশ চালিয়ে যাচ্ছে। কেন্দ্র থেকে আসা দলীয় নেতারাও এসব অনুসষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে এ প্রতিযোগী প্রতিদ্বন্দিদেও মধ্যে নিজেদের অজান্তেই উৎসাহ যোগিয়ে যাচ্ছেন- এমন মন্তব্য পর্যবেক্ষকদের। তারা মনে করেন, এর ফলে সাধারণ সমর্থক ও কর্মীরা নেতৃত্ব সম্পর্কে বিভ্রান্ত ও দ্বিধাদ্বন্দে ভুগছেন। দলের কেন্দ্র থেকে একটি সংগঠন ঘোষণা করলে এ দ্বিধাদ্বন্দের অবসান হয়- তা সত্বেও কোন অজানা কারণে হচ্ছে না। শোনা যায় গত বছরের মে মাসে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সফরের সময় কেন্দ্রীয় অনুমোধনেনে একটি সংবর্ধনা কমিটি গঠিত হয়। সে কমিটিতে আহবায়ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা লগ্নের নেতৃত্বদানকারী ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার। বিএনপি নেতা কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি ও দলটির অবস্থা অবস্থান জানতে প্রথম পর্যায়ে এখন সময়’র পক্ষ থেকে তাঁর মুখামুখি হন- আরীফ মুহাম্মদ।
প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র প্রতিষ্ঠা কিভাবে হয়েছিল? আপনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আপনার সঙ্গে আর কারা ছিলেন?
ডা. মুজিবুর রহমান মজুমদার : ১৯৮৮ সালে স্বৈরাচার বিরোধী এরশাদ হটাও আন্দোলনের সময় তৎকালীন বিএনপি’র মহাসচিব অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ও ড. কামাল হোসেন নিউ ইয়র্ক সফরে আসেন। তখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সহযোগিতা করার জন্য বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিএনপিতে আমন্ত্রণ জানান। তারপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র কার্যক্রম শুরু করি। সাংগঠনিকভাবে ১৯৮৮ সালে আমাকে (ডা. মুজিব) সভাপতি ও ইহসানুল হক মিলনকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে আরো ছিলেন-জিল্লুর রহমান জিল্লু, ডা. ফয়জুল কবির, ডা. হামিদুজ্জামান, গোলাম মাওলা মানিক, ফারুক বখত চৌধুরী, নিয়াজ আহমেদ, গিয়াস উদ্দিন মজুমদার, ইলিয়াস মাস্টার ও হেলাল উদ্দিনসহ অনেকেই। কারা প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশ নেত্রী খালেদা জিয়ার স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে লবিং করেছি। নিউ ইয়র্কে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছি।
প্রশ্ন : যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপিতে বিভক্তি কবে দেখা দেয়। এর কারণ কি?
ডা. মুজিব : নেতৃত্বের দ্বন্দ নিয়ে ১৯৯১ সালে তৎকালীন সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্রুপিং করে দলের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে। পরে ৯৫ সালে ডা. হামিদুজ্জামান ও জিল্লুর রহমান জিল্লুর নেতৃত্ব নিয়ে বিভেদ দেখা দেয়। ২০০১ সালে নেতা-কর্মীদের রায়কে অবজ্ঞা করে অন্যায়ভাবে আব্দুল লতিফ স¤্রাটকে সভাপতি করে কমিটি চাপিয়ে দেয়। পরে একদিকে স¤্রাট ও কামাল পাশা বাবুল অন্যদিকে সোলেমান ভূইয়া ও জিল্লুর রহমান জিল্লুর নেতৃত্বে বিএনপি দু’ভাগ হয়ে যায়। তখন থেকে মূলত বিএনপি দু’গ্রুপ পৃথক কর্মসূচি পালন করে। এর আগে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ থাকলেও আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি পালন করেছি।
প্রশ্ন : বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র বৈধ কোন কমিটি আছে কিনা?
ডা. মুজিব : বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র কোন শাখা নেই। তাই আগের কমিটি থাকার প্রশ্নই আসেনা। তবে ২০১১ সালে মে মাসে বিএনপি চেয়ার্পাসন বেগম খালেদা জিয়া নিউ ইয়র্কে সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র সমর্থক নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আমাকে (ডা. মুজিব) আহবায়ক করে ১১ সদস্যের একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ঐ কমিটির কো-কনভেনর হচ্ছেন-জিল্লুর রহমান জিল্লু, শরাফত হোসেন বাবু, কামাল পাশা বাবুল, সোলেমান ভূইয়া, জসিম উদ্দিন ভূইয়া। সদস্য সচিব- বেলাল মাহমুদ। সদস্য হচ্ছেন- আব্দুল লতিফ স¤্রাট, ডা. গুলজার হোসেন, তোফায়েল আহমেদ লিটন ও ফয়সাল (কানাডা বিএনপি)।
প্রশ্ন : বর্তমানে বিএনপিতে বেশ কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। এ সম্পর্কে আপনার মুল্যায়ন কি?
ডা. মুজিব : নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নিয়ে গ্রুপিং থাকাটা স্বাভাবিক। দলের মধ্যে বিভক্তি থাকলেও ওয়ান এলিভেন সরকারের সময় যে যার অবস্থান থেকে কাজ করেছে। সবাই পৃথকভাবে সোচ্চার ছিলেন। তবে সবাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে পারলে আরো বেশি ভালো হতো।
প্রশ্ন : ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতারের পর যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের মাঝে ঐক্যেবদ্ধ কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। তবে একটি গ্রুপ এখনো পৃথক কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?
ডা. মুজিব : দলের প্রয়োজনে ঐক্য প্রয়োজন। তবে দিন ক্ষণ ঠিক করে ঐক্য হবেনা। ঐক্য চলমান পক্রিয়া। বিশেষ একটি গোষ্ঠি চায়না, আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। ব্যক্তি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে দেশের প্রয়োজনে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন।
প্রশ্ন : বাংলাদেশে সরকার বিরোধী আন্দোলন, বিরোধী দলীয় নেতা কর্মীদের উপর হামলা মামলা প্রবাস থেকে কি ধরণের ভূমিকা রাখা উচিত বলে আপনি মনে করেন।
ডা. মুজিব : আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ফ্যাসীবাদী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। দেশে গণতন্ত্রের লেবাসে স্বৈরতন্ত্র চলছে। দেশকে ভারতের অঙ্গ রাজ্য বানানোর জন্য দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে নানাবিদ কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ সঙ্গে আঁতাত করে সরকার বাংলাদেশে বিডিআর ধ্বংশের পর সেনাবাহিনীকেও ধ্বংশের ষড়যন্ত্র করছে । সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডসহ সর্বশেষ সাংবাদিকদের সন্ত্রাসী হামলায় প্রমাণ করে সরকারের সমালোচনাকারী রাখতে চায়না। সরকারের বিভিন্ন অবৈধ কর্মকান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাকি ফোরামে বিএনপি কাজ করে যাচ্ছে। যার বহি:প্রকাশ ঘটেছে স্টেট ডিপার্টমেন্টের মানবাধিকার রিপোর্ট। দেশের জন্য প্রবাস থেকে আন্তর্জাতিক ফোরামে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে শুধু জাতীয়তাবাদী দলকে কাজ করলে হবে না, দেশ প্রেমিক সকল নাগরিককে সরকারের ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে।
প্রশ্ন : আপনি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন, কিন্তু আপনি নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেিরন নি, অর্থাৎ নেতৃত্বের কোন পর্যায়ে দীর্ঘদিন আপনাকে দেখা যায় নি- এর কারণ কি?
ডা. মুজিব : নিজের পেশাগত ও গবেষণার কাজে দলের কার্যক্রম থেকে বেশ কিছুদিন নেপথ্যে ছিলাম। যার কারণে ইচ্ছা থাকলেও মাঠে সক্রিয় থাকতে পারিনি। আবার দলের প্রয়োজনে ব্যক্তি স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে অনেক ছাড় দিতে হয়েছে। সর্বশেষ বিএনপি চেয়ারপার্সনের নিউ ইয়র্ক সফরের সময় সহকর্মীদের সাথে নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে নেত্রীর সফরকে সফল করেছি।
এখন সময় : সময় দেয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ!
ডা. মুজিব : আপনাকে, এখন সময় পরিবারের সকল সদস্য ও সম্মানিত পাঠকদেরকে ধন্যবাদ!











