ঢাকা অফিস : আগের চেয়ে পুলিশ ভালো হয়েছে দাবি করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছেন, পুলিশকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘পুলিশ আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। এই সার্টিফিকেটটা আপনাদের দিতেই হবে।’
সাংবাদিক ও আইনজীবী নির্যাতন এবং আদালত প্রাঙ্গণে এক তরুণীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় পুলিশের ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই বুধবার সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
গত শনিবার রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের হাতে নির্যাতনের শিকার হন প্রথম আলোর তিন ফটোসাংবাদিক। এর তিন দিন পরেই গত মঙ্গলবার ঢাকার জজ কোর্টে পুলিশ ক্লাবের মধ্য এক তরুণীর শ্লীলতাহানি করে পুলিশ। এঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে সাংবাদিক ও আইনজীবীদের লাঠিপেটা করে পুলিশ।
বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সাহারা খাতুন বলেন, ‘দেশে এক লাখ ৪১ হাজার পুলিশ রয়েছে। এর মধ্যে যে সবাই ভালো হবে, তা বলব না। তবে পুলিশকে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সরকার কাজ করছে।’
গণমাধ্যম পুলিশ ও সরকারের প্রতিপক্ষ কি না- এমন প্রশ্নের সরাসরি জবাব না দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই পুলিশের কাছেই কিন্তু মানুষকে যেতে হয়। যখন তার বাড়িতে চুরি হয়, ডাকাতি হয়, রাস্তায় এটা বিপদে পড়ে তখন কিন্তু পুলিশের কাছেই ছুটে যায়। তখন কিন্তু কারো মুখে শুনি না এই পুলিশ তার সাথে দুর্ব্যবহার করেছে। তবে সবাই যে ভালো হবে, এমন কোনো কথা নয়। তবে আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে।’
আগে পরিস্থিতি খারাপ ছিল ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ডান পা ভাঙা, আগে এ রকম ঘটনাও ঘটেছে।’
এ ছাড়া সাংবাদিকদের পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করে সংবাদ সংগ্রহের পরামর্শ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকুর মন্তব্য বিকৃত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন সাহারা খাতুন।
মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু সাংবাদিকদের পুলিশ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘কোথাও সাংঘর্ষিক অবস্থা সৃষ্টি হলে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করার সময় সংবাদকর্মীরা নিরাপদ দূরত্বে থাকলে অনেক ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়িয়ে যাওয়া যাবে।
সাহারা দাবি করে বলেন, গত সাড়ে তিন বছরে যখনই পুলিশ ব্যত্যয় ঘটিয়েছে, তখনই ব্যবস্থা নিয়েছি। ভবিষ্যতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এরআগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে এক আন্তমন্ত্রণালয় সভায় অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সভায় পরিবহন সেক্টরের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী পাঁচ মাসের মধ্যে সব যানবাহনে ডিজিটাল নম্বরফলক লাগাতে হবে। ছিনতাই ঠেকাতে সব মালবাহী গাড়িতে জিপিএস লাগাতে হবে।
মহাসড়কগুলোতে লাইসেন্স ছাড়া কোনো নসিমন, ইজিবাইক যাতে না চলতে পারে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সমস্যা সমাধানে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনের বক্তব্যের ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন



