নতুন প্রজন্মকে আধুনিক বিশ্বমানের শিক্ষায় উপযুক্ত করতে চাই : নিউজার্সিতে নুরুল ইসলাম নাহিদ

  • PDF

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, পিছু হটার মানুষ কিংবা কোন গতানুগতিক মন্ত্রী আমি নই,  কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি মন্ত্রী হয়েছি। পাকিস্তান আমল গেল, বাংলাদেশ আমলও যাচ্ছে কিন্তু আমরা শিক্ষানীতির কোন পরিবর্তন করতে পারিনি। শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে আমি কাজ শুরু করেছি। নতুন প্রজন্মকে আধুনিক বিশ্বমানের শিক্ষায় উপযুক্ত করে গড়ে তোলাই হবে আমাদের প্রধান কাজ। আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দুর্নীতি, দারিদ্র ও নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করতে চাই। গত শনিবার নিউজার্সির পেটারসনে গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া এক বিশাল নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। খবর বাংলা প্রেস’র

গত ২৭ মে শনিবার নিউজার্সির পেটারসন সিটির সেন্ট জেরারড মাজেলা চার্চের হল রুমে অনুষ্ঠিত বিশাল নাগরিক সংবর্ধনা সভায় শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ উপস্থিত প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বাপ-দাদার যোগ্যতা দিয়ে মন্ত্রীত্ব পাইনি। নিজের যোগ্যতা আর আপনাদের ভালবাসায় আমি মন্ত্রী হয়েছি। আপনাদের এই ভালবাসার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ। তিনি বলেন, আমেরিকায় থাকলে সব শিশুরাই ইংরেজি শিখতে পারবে, আপনাদের সন্তানদের প্রয়োজন বাংলা শিক্ষার ব্যবহার ও বাংলা চর্চা। শিশুদের বাংলা শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ আরও বলেন, প্রতি বছর শতকরা ৪২ জন ছাত্র স্কুল থেকে ঝড়ে পড়ছে। তাই আমি প্রতিদিন কোন না কোন স্কুলে যাই। সেখান থেকে আমি ছাত্রদের কাছ থেকে আমি শিক্ষা নেই। ঝড়ে পড়ার কারন খুঁজে বের করে তাদেরকে স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করি। এ প্রসঙ্গে তিনি একটি গল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, একদিন এক গ্রামে গিয়ে দেখি কিছু শিশু ন্যাংটা হয়ে খেলাধুলা করছে। তাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম স্কুলে যাওনি কেন? উত্তরে তারা ত‘গরীব মানুষের আবার লেখাপড়ার কিসের!’ আমি তাদের বাবা-মার সাথে কথা বলি। তারাও ছেলে-মেয়েদের সাথে তাল মিলিয়ে বলেন, দু’বেলা পেটে খাওন জোটেনা, লেখাপড়া করামুা কেমনে? এদের এ  ধরনের কথা শুনে মর্মাহত হই। আজও গ্রামে-গঞ্জে অনেক শিশুই ধনী গরীব নামক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে বলে আমি মনে করি। তাই ১ম শ্রেনী থেকে ১০ম শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বিনামুল্যে বই বিতরনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জানুয়ারী মাসের মধ্যেই সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বই বিতরন সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে। এ কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এতে সর্বমোট ১৯ কোটি বইয়ের প্রয়োজন হয়েছে। আগামী বছরে বইয়ের প্রয়োজন পড়বে ২৭ কোটি। স্কুল থেকে ঝড়ে পড়া ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা অনেকটা হ্রাস পেয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা বাড়াইনি বরং পরীক্ষা আমি কমিয়েছি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি বৃত্তি পরীক্ষার্থীদের  জন্য একই প্রশ্ন পত্রে সব পরীক্ষা হতে হবে ফলে ভাল স্কুল, খারাপ স্কুল একই স্টান্ডার্ডে চলে আসবে। এসএসসি ও এইচএসিসি পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রতি বছর একই দিন নির্ধারন করে দেয়া হয়েছে এবং ৬০ দিনের মধ্যেই ফলাফল ঘোষনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসএমএস করে ১০ সেকেন্ডের মধ্যে ফলাফল জানতে পারছে। বর্তমানে সব কিছুই একটা সিস্টেমের মধ্যে চলে এসেছে। আগের দিনের মত ছাত্র-ছাত্রীদের নোট বই পড়া আর নকল করে পাশ করার দিন শেষ হয়েছে। টেক্সট বই ঠিকমত না পড়লে ভাল ফলাফল করতে পারবে না। এজন্য আমরা সাড়ে তিন লাখ শিক্ষককে ট্রেনিং দিয়েছি। ছাত্র-ছাত্রীদের কম্পিউটার ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে। সব কিছুরই একটা পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষাখাতে ও বই বিতরনে অর্থ  বরাদ্দের কথা শুনে অনেক বন্ধুই আমাকে বলেন, আমি খুন হব। আমি খুন হলে কি হবে, আইনতো আর খুন হবে না। শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ রসিকতা করে বলেন, বাংলাদেশ থেকে এমএ পাশ করে আমেরিকায় আসলে যে ধরনের চাকরি পাওয়া যায়? তার চেয়ে প্লাম্বার হয়ে আসলে সহজেই ভাল চাকরি জোগাড় করা যায়। তিনি বলেন, আমরা এখনও অন্ধকার যুগে পড়ে আছি। আমাদের সামগ্রিক কোন পরিবর্তন হয়নি। অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আমাদেরকে আলোকিত মানুষ হতে হবে। এক সময় কাবুলিওয়ালারা আসতো আমাদের দেশে, তারা বলতো আসলি নেহি মাঙ্গতা, সুদ মাঙ্গতা। আমরা ঋণ করে ঘি খেয়েছি তাই এখন সুদ দিতে দিতেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। টিআইবি’র রিপোর্ট যার পক্ষে যায় তারা বলেন, খুব ভাল হয়েছে আর যার বিপক্ষে যায় তারা বলেন খুব খারাপ হয়েছে। এটা মিথ্যা, এ রিপোর্ট মানি না। আমি শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে দুর্নীতি কমিয়েছি। এ কৃতিত্বের অংশীদার আপনারা। কারন দেশে থাকা আত্মীয়-স্বজনদের ভোটে আপনারাই আমাকে মন্ত্রী বানিয়েছেন।

নিউজার্সির পেটারসন প্রবাসী আলহাজ্ব শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য প্রদান করেন নিউজার্সির কংগ্রেসম্যান বিল পাসকেন, পেটারসন সিটির নব নির্বাচিত বাংলাদেশি কাউন্সিলম্যান আখতারুজ্জামান ফয়সল, ফেঞ্চুগঞ্জ সমিতির সম্পাদক শাহজাহান শাহ্‌ , মাওলানা আব্দুল আহাদ, আবুল হোসেন সুরমাত, আব্দুল হাসিম মামুন ও ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ। বিশেষ অতিথি হিসেবে মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন, ডা. আকামত আলী, খলিলুর রাজা চৌধুরী ও কামাল আহমেদ। অনুষ্ঠানে কোরান থেকে তেলাওয়াত করেন হাফিজ সৈয়দ খুবের আহমদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যথাক্রমে- এজিএম আহমদ আবু ও লোকমান হোসেন। নিউজার্সির কংগ্রেসম্যান বিল পাসকেন প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল

ইসলাম নাহিদের নানা কর্মকান্ডের প্রসংশা করে ইউএস কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রধান অতিথির হাতে একটি সনদ পত্র তুলে দেন। এছাড়াও প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ ও কংগ্রেসম্যান বিল পাসকেনের হাতে প্ল্যাক প্রদান করেন জুবের আহমেদ ও শাহীন মালিক।

সব শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন, সমকালীন সঙ্গীতের জনপ্রিয় শিল্পী কৌশলী ইমা, চ্যানেল আইয়ের সেরাকন্ঠ দীপ্তি এবং কুশিয়ারা পারের বাউল শিল্পী জিল্লুর রহমান।

Share this post

Add comment


You are here: কমিউনিটি বিশ্ববাংলা নতুন প্রজন্মকে আধুনিক বিশ্বমানের শিক্ষায় উপযুক্ত করতে চাই : নিউজার্সিতে নুরুল ইসলাম নাহিদ