ঢাকা অফিস : বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে মালয়েশিয়ার পাশাপাশি কাতারকে পাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ।
কাতারের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী শেখ আহমদ বিন জাবের আল ছানির সঙ্গে আলোচনা শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছি। সব পক্ষ সম্মত হলে আমরা ত্রিপক্ষীয় চুক্তি করতে পারি। তবে এটা ব্যাপক আলোচনার বিষয়।”রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের আগ্রহের জবাবে কাতারের মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর মতো প্রকল্পে অংশ নেওয়ার বিষয়কে কাতার সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে।
২৯০ কোটি ডলারের পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংক ১২০ কোটি ডলার দেওয়ার জন্য চুক্তি করলেও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে গত বছর তা স্থগিত করে দেয়। ফলে এ প্রকল্পের জন্য চুক্তিবদ্ধ অন্য দাতা সংস্থাগুলোর অর্থায়নও আটকে যায়।
এই পরিস্থিতিতে পদ্মা সেতুর কাজ শুরুর জন্য গত ১০ এপ্রিল মালয়েশিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে বাংলাদেশ। ওই সফর শেষে দেশে ফিরে যোগাযোগ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছিলেন, মে মাসের শেষ দিকে মালয়শিয়া এ বিষয়ে চুক্তির প্রস্তাব দিতে পারে।
অবশ্য গত ২০ মে মন্ত্রী বলেছিলেন, বিকল্প অর্থায়নের ব্যবস্থা না হলে প্রয়োজনে নিজস্ব অর্থেই পদ্মা সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। এ সরকারের মেয়াদেই নির্মাণ করা হবে এই সেতু।
মালয়শিয়ার সাথে চুক্তি হবে এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই উল্লেখ করে যোগাযোগ মন্ত্রী সেদিন বলেছিলেন, প্রস্তাবে মালয়শিয়া ও বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয় থাকবে। দুই দেশ একমত হলেই এ বিষয়ে চুক্তি হবে।
কাতারের সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, জনশক্তি প্রশিক্ষণ, বিমান বন্দর উন্নয়ন ও নদী খননসহ কয়েকটি প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করেন দীপু মনি।
কাতারে বিশ্বকাপ
বৈঠকে কাতারের মন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য অবকাঠামো তৈরিতে ব্যাপক জনশক্তির প্রয়োজন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ জনশক্তি জোগান দিতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে দীপু মনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখার বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি ‘ওয়ার্কিং গ্র“প’ গঠন করা হয়েছে। এ বিষয়ে দু’দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
গত মাসে কাতারের আমির ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা চলাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকে বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে দোহা।



