তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে অনঢ় বিএনপি ছাড় দেবে না আ. লীগ

  • PDF

ঢাকা অফিস : তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অনঢ় থাকলেও এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেবে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। বাতিল হওয়া তত্ত্বাবধায়ক ফিরিয়ে না আনার সিদ্ধান্তে এখনো অটল রয়েছে তারা।

আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প চিন্তা থাকলে তা নিয়ে সংসদেই আলোচনা করতে চায় ক্ষমতাসীনরা। সংসদের বাইরে এ ব্যাপারে কোনো আলোচনায় বসার কোন আগ্রহই নেই তাদের।

তবে এ বিষয়ে কোনো ফর্মুলা থাকলে সেটা প্রধান বিরোধী দল বিএনপির দিক থেকেই আসতে হবে বলে মনে করছে মহাজোট নেতা আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে আগে কোনো প্রস্তাবই তুলবে না সরকারপক্ষ।

এমনকি বিষয়টি নিয়ে আওয়ামী লীগ এতো আগে কোনো আলোচনায়ও যেতে চাচ্ছে না বলে দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

এদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট আন্দোলনে নেমেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেবে না বলে ঘোষণাও দিয়েছে তারা।

কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে যাওয়া এই তত্ত্বাবধায়ক সরকারে কোনোভাবেই আর ফিরে যেতে চায় না আওয়ামী লীগ।

এ পরিস্থিতিতে সমাধানের পথ বের করতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহল থেকে দুই দলের মধ্যে সংলাপের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কিন্তু আওয়ামী লীগের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বাতিল হয়ে  যাওয়া তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার সুযোগ যেমন কম, তেমনি সেরকম কোন ইচ্ছাও নেই তাদের।

যদিও নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশলী করা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনার ব্যাপারে আওয়ামী লীগ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে দলীয় সূত্র।

অবশ্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিকল্প কোনো প্রস্তাব বা ফর্মুলা থাকলে সেটা বিরোধী দলকে সংসদে এসে তুলে ধরতে হবে বললেও বিষয়টি নিয়ে এখনই আলোচনা করতে হবে এমনটি ভাবছেন না আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা।

তারা বরং ভাবছেন, নির্বাচনের এখনো দেড় বছর বাকি রয়েছে। এ বিষয়ে আলোচনার জন্য এখনো প্রচুর সময় পড়ে রয়েছে।

তারা আরো মনে করছেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিকল্প কেনো ফর্মুলা দেওয়া না হলে সংসদীয় গণতন্ত্রে যে পদ্ধতিতে নির্বাচন হয় সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেই আগামী নির্বাচন হবে।

ক’দিন আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেন। সুত্র জানায়, তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন- অনির্ধারিত কোনো সরকারের কাছে ক্ষমতা দেওয়া হবে না। নির্বাচন কমিশনকে আরো শক্তিশালী করার জন্য আলোচনা হতে পারে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বাংলানিউজকে বলেন, ‘নির্বাচনের এখনো এক বছর ৬ মাস বাকি। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা আমাদের গরজ না, আমাদের দাবিও না। এটা বিএনপির গরজ, দাবি। তাদের কোনো প্রস্তাব থাকলে সংসদে এসে বলুক।’

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘খালেদা জিয়া গত অধিবেশনে গিয়ে দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট বক্তৃতা দিলেন, কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কথা তো বললেন না।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনার প্রধান কেন্দ্র জাতীয় সংসদ। সংসদে এসেই আলোচনা করতে হবে।’

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক বাতিলের পর সেই আলোকে সংসদে আলোচনা করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করা হয়েছে। এটা আর ফিরিয়ে আনার সুযোগ নেই। আসলে বিএনপির আন্দোলন তত্ত্বাবধায়ক না। তারা নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য আন্দোলন করছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলছে, আদালত যাতে বসতে না পারে সেটাও তাদের উদ্দেশ্য।’

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। নির্বাচন কমিশনকে কিভাবে আরো শক্তিশালী করা যায় সে বিষয়ে সংসদে আলোচনা হতে হবে। বিএনপিকে সংসদে এসে তাদের কথা বলতে হবে। এটাই আওয়ামী লীগের অবস্থান।’

Share this post

Add comment


You are here: মূল পাতা প্রতিদিনের খবর তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে অনঢ় বিএনপি ছাড় দেবে না আ. লীগ