ইলিয়াস আলীর মেয়ের হাত থেকে শরবত খেয়ে অনশন ভাঙলেন খালেদা

  • PDF

ঢাকা অফিস : এম ইলিয়াস আলীর মেয়ের হাত থেকে শরবত খেয়ে অনশন ভেঙেছেন বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়া। এর মধ্যে দিয়ে গুলিস্তানের মহানগর নাট্যমঞ্চ প্রাঙ্গণে শেষ হয়েছে ১৮ দলীয় জোটের সাত ঘণ্টার গণঅনশন।

জ্যেষ্ঠ নেতাদের মুক্তি, এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে রোববার সকাল সোয়া ১০টায় এ অনশন কর্মসূচি শুরু হয়। খালেদা জিয়া সেখানে পৌঁছান বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে।

বিএনপি ও শরিক দলের নেতা-কর্মীরা সকাল থেকেই মিছিল নিয়ে অনশনস্থলে আসতে থাকেন। দুপুরের মধ্যে নেতা-কর্মীদের ভিড়ে জনসভার রূপ পায় পুরো এলাকা। এ কর্মসূচি সামনে রেখে সকাল থেকেই আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

অনশন শুরুর পর বিভিন্ন দল ও জোটের নেতারা মঞ্চ থেকে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে এবং নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবি জানিয়ে অনশনে বক্তব্য দিতে থাকেন।

খালেদা জিয়া বিকেল ৫টায় এম ইলিয়াস আলীর মেয়ে সাইয়ারা নাওয়ালের হাত থেকে শরবত খেয়ে অনশন ভাঙেন। একইসঙ্গে অনশন ভাঙেন অন্যারও।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, মাহবুবুর রহমান, তরিকুল ইসলাম, জমির উদ্দিন সরকার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, নজরুল ইসলাম খান, আবদুল মঈন খান, সহসভাপতি এম মোরশেদ খান, আবদুল্লাহ আল নোমান, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শাহজাহান ওমর, ফজলুর রহমান পটল, মাহমুদুল হাসান, শামসুজ্জামান দুদু, আবদুস সাত্তার উকিল, আবদুল হালিম, হায়দার আলী, যুগ্ম মহাসচিব বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মিজানুর রহমান মিনু, সালাহউদ্দিন আহমেদসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যরা মহানগর নাট্যমঞ্চে এই গণঅনশনে অংশ নেন।

১৮ দলীয় জোট নেতাদের মধ্যে ছিলেন শরিক খেলাফত মজলিশের চেয়ারম্যান মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক, জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদের সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ, মিয়া গোলাম পারওয়ার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য রেদোয়ান আহমেদ, ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব আবদুল লতিফ নেজামী, এনডিপির চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মূর্তজা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামিক পার্টির সভাপতি আবদুল মবিন খান, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ন্যাপ-ভাসানীর শেখ আনোয়ারুল হক, বাংলাদেশ ন্যাপ এর সভাপতি জেবেল রহমান গণি, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার লুৎফর রহমান, এনপিপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুজ্জামান ফরিদ, ডিএল এর সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন মনি।

সাবেক সচিব আসাফ উদদৌলা, আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এমাজ উদ্দিন আহমেদ এ কর্মসূচির প্রতি সংহতি অবস্থান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এম জি মোহাম্মদ আলীসহ পেশাজীবী নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচি পরিচালনা করেন বিরোধী দলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম।

ঢাকা ছাড়াও সারাদেশে জেলা ও উপজেলায় পর্যায়ে সকাল থেকে এই অনশন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপিসহ ১৮ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

হরতালে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় মামলায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিএনপি ও ১৮ দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের ১৮ নেতাকে বুধবার কারাগারে পাঠানো হলে পরদিন হরতাল পালন করে বিরোধী দল।

গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী হরতালের পর রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারনের কার্যালয়ে ১৮ দলীয় জোটের বৈঠকে গণঅনশন কর্মসূচিসহ তিন দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়।

কৃষি উপকরণ ও ডিজেলের দাম বাড়া এবং কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যয্য মূল্য না পাওয়ার প্রতিবাদে আগামী ২৩ মে জেলা ও উপজেলায় ডিসি ও টিএনওর কাছে স্মারকলিপি দেবে ১৮ দল। এছাড়া ২৭ মে সরকারের ব্যর্থতা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ করবে জোট।

এর আগে গত বছরের ১৩ জুলাই রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণঅনশন করেছিল বিএনপি।

Share this post

Add comment


You are here: মূল পাতা প্রতিদিনের খবর ইলিয়াস আলীর মেয়ের হাত থেকে শরবত খেয়ে অনশন ভাঙলেন খালেদা