দ্বিধা বিভক্ত আদেশ : হয়রানি না করার নির্দেশ
আগামী সাত দিনের মধ্যে নি¤œ আদালতে আত্মসমর্পণ
ঢাকা অফিস : বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলসহ দলের অন্যান্য নেতার জামিন দিয়েছেন হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চের একজন বিচারপতি। তবে অন্য বিচারপতি এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল সোমবার বিকেল চারটা ২০মিনিটে বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পর্যায়ক্রমে দুই মামলায় এ আদেশ দেন।
জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী পুলিশ প্রতিবেদন হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের জামিনের আদেশ দেন। কিন্তু বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার আবেদনকারীদের সাত দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জমিনের আবেদন করতে বলেন।
এ পর্যায়ে বিএনপি নেতাদের আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বেঞ্চ বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিলেও পুলিশ এই সাত দিনে বিএনপি নেতাদের হয়রানি করতে পারে।
এ বিষয়ে তিনি আদালতের নির্দেশনা চাইলে বেঞ্চ বলে, বিষয়টি যেহেতু এখন তৃতীয় বেঞ্চে যাবে, সেহেতু আপনারা সাত দিন সময় পাচ্ছেন। এই সময়ে বিএনপি নেতাদের হয়রানি না করার জন্যও আদেশ দেয় আদালত।
আদালত থেকে বেরিয়ে বিএনপির নেতাদের আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, একজন বিচারপতি জামিনের আদেশ দিয়েছেন। অন্য বিচারপতি এক সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার বা হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এতে এ সময়ের মধ্যে তাদের গ্রেফতার বা হয়রানি করা যাবে না।
হরতাল চলাকালে সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মামলায় এ আদেশ দেন হাইকোর্ট।
আগাম জামিন নিতে আসা নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ছাড়াও ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আসম হান্নান শাহ, সাদেক হোসেন খোকা, এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, আমানউল্লাহ আমান, ফজলুল হক, নাজিমউদ্দিন আলম, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি প্রমুখ।
সচিবালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কাছে গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মির্জা ফখরুলসহ ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের বিরুদ্ধে গত ২৯ এপ্রিল পুলিশ মামলা করে। এসব মামলায় কেবল মাহবুব উদ্দিন আগাম জামিন পেয়েছিলেন।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদালতে বিএনপির নেতাদের জামিনের আবেদন শুনানির জন্য উপস্থাপন করেন মওদুদ আহমদ। সে সময় দুটি মামলায় করা আবেদনে কেউ কেউ এসেছেন, কেউ কেউ আসতে পারছেন না উল্লেখ করে মওদুদ বলেন, আদালত অনুমতি দিলে তারা আসবেন। তারা আশপাশে রয়েছেন। তারা বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনুমতি দেয়া হলে তারা আসবেন।
বিএনপির নেতাদের আইনজীবী এম বদরুদোজ্জা বলেন, পৃথক তিনটি আবেদনে ৪৪ জনের জামিন চাওয়া হয়েছিল।
হরতালে ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মামলায় আগাম জামিনের আবেদন জানাতে বিএনপির বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা গত রোববার সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় অবস্থান নেন।
সূত্র জানায়, গত রোববার বিভিন্ন সময়ে বিএনপির নেতারা সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় প্রবেশ করেন। রাতে তারা সেখানেই অবস্থান করেন। সকাল নয়টা থেকে বিএনপির অন্য নেতারা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতির কক্ষে জড়ো হতে থাকেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির নেতা এমকে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, আমানউল্লাহ আমান, ফজলুল হক, নাজিমউদ্দিন আলম ও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আসম হান্নান শাহ ও সাদেক হোসেন খোকা গতকাল সোমবার দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে আসেন।









