ঢাকা অফিস : মন্ত্রিসভা বর্তমান সরকারের ‘রূপকল্প-২০২১’ এর আলোকে শিল্প ও কৃষি উভয় খাতের সেক্টরের শ্রমজীবী মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও অধিকার নিশ্চিত করতে জাতীয় শ্রমনীতির খসড়া অনুমোদন করেছে। বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। কেবিনেট সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়া বলেন, বিশেষ করে শিশুশ্রম বিষয়ে কতিপয় অভিমতসহ শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা খসড়া নীতি অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
তিনি বলেন, বিভিন্নভাবে এই নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। কতিপয় বিধি কার্যকর হবে এ্যাক্টের মাধ্যমে কতিপয় আইন করে এবং বাদবাকী বাস্তবায়ন করা হবে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে।
মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
কেবিনেট সচিব বলেন, ঢাকাস্থ আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) কর্মকর্তা এবং সরকার, চাকরিদাতা ও চাকরিজীবীদের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল মহলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে এই নীতি প্রণয়ন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটি হবে দেশের তৃতীয় শ্রমনীতি এবং গত ৩২ বছরের মধ্যে একটি। এতে শ্রমিকদের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের অধিকাংশ অন্তর্ভূক্ত থাকবে।
তিনি বলেন, ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু তার শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রথম শ্রমনীতি প্রণয়ন করেছিলেন। ১৯৮০ সালে দ্বিতীয়টি ঘোষণা করা হয়েছিল।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে একটি নতুন শ্রমনীতি প্রণয়ন করা খুবই জরুরি ছিল।
তিনি বলেন, শিল্পায়নে পরিবর্তন হয়েছে। শ্রমিক-শিল্পের সম্পর্ক গড়ে তুলতে নতুন শ্রমনীতিতে শ্রমিকদের মর্যাদা, তাদের অধিকার নিশ্চিত করা, ন্যায্য মজুরি, কাজের পরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিনোদনের জন্য একটি কাঠামো প্রণীত হয়েছে। এতে শিল্পে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা এবং বিকল্প শালিশীর মাধ্যমে শ্রম সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংসার সর্বাত্মক গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
নতুন শ্রমনীতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ এবং নারী শ্রমিকদের প্রয়োজনের বিষয়টিতে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এতে দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার প্রেক্ষিতে শিশুশ্রম পুনঃসঙ্গায়িত করা হবে।
মোশাররফ হোসেন বলেন, নতুন নীতিতে শ্রমজীবী মানুষের কল্যাণে কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার পাশাপাশি শ্রমিকের কল্যাণ সম্পৃক্ত থাকবে।









