
এখন সময় রিপোর্ট : বহুল আলোচিত চিটাগাং এসোসিয়েশন অব নর্থ আমেরিকা’র নির্বাচনে আজম-বাদল পরিষদ পূর্ণ প্যানেলে জয়ী হয়েছে। দীর্ঘ ৪ বছর ধরে বিগত কমিটির বিরুদ্ধে মামলা ও আন্দোলন করে কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম চট্টগ্রামবাসির মধ্যে আলোচিত ও পরিচিত হয়ে উঠেন। আবার দীর্ঘকাল চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি পদে আসিন থাকা মোহাম্মদ হানিফের বিরুদ্ধে মামলা করে শেষমেশ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তারই (মোহাম্মদ হানিফ) সঙ্গে জোট বেধে সমালোচনার মুখেও পড়েন। অবশ্য সংশ্লিষ্ট কেউ কেউ একে কাজী আজমের নির্বাচনে জয়ের কৌশল হিসেবে দেখেছেন। এই বিবেচনায় কাজী আজম সফল হয়েছেন। এবং সর্বশেষ জিয়া-আকবর পরিষদকে পরাজিত করে পূর্ণ প্যানেলে জয় ছিনিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে আজম-বাদল পরিষদ।
গত ৬ মে রবিবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ব্রুকলীনের ম্যাকডোনাল্ড এভিন্যুতে অবস্থিত পিএস ২৩০, উডসাইডের ঢাকা ক্লাব, পেনসেলভেনিয়া ও কানেকটিকাটসহ মোট ৪ টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত সকাল ৯ টা থেকে টানা বিকাল ৭ টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রায় আড়াই হাজার ভোটার ভোট দেন।
নির্বাচনে সভাপতি পদে আজম ১০২১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। একই পদে প্রতিপক্ষ প্রার্থী আব্দুল হাই জিয়া পেয়েছেন ৭৯২ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী প্রার্থী মেহবুবুর রহমান বাদল ৯৮৮ ভোট এবং প্রতিদন্দ্বী আকবর আলী ৭৮০ ভোট পান।
সহ সভাপতি পদে বিজয়ী প্রার্থী মাকসুদুল হক চৌধুরী ১০৩৯ এবং নুর হক ৭১৩ ভোট পেয়েছেন। পরাজিত প্রার্থী তারিকুল হায়দার চৌধুরী ৯৭৫ এবং আবু জাফর এম জাহাঙ্গীর টিপু ৭১০ ভোট পান।
সহ সাধারণ সম্পাদকের দুটি পদে মহিউদ্দীর চৌধুরী খোকন ১০৬৭ এবং আলম বাহার ৯৮০ ভোট পেয়ে জয়ী হন। অপর দু’প্রতিদন্দ্বি প্রার্থী পরিমল দেবনাথ ৬৯৯ এবং সাইয়েদ আহমদ রুমি পেয়েছেন ৬৮৮ ভোট।
কোষাধ্যক্ষ পদে আবু তাহের ১০২৩ ভোট পেয়ে জয়ী হন। পরাজিত প্রার্থী মোহাম্মদ মোক্তাদির বিল্লাহ ৭২৬ ভোট পান।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিজয়ী প্রার্থী মোহাম্মদ আরিফ চৌধুরী ১০৩০ এবং প্রতিদন্দ্বি প্রার্থী ফরিদ আহমদ পেয়েছেন ৬৯২ ভোট।
অন্যান্য পদে বিজয়ীরা হলেন-
শিক্ষা সংস্কৃতি সম্পাদক শাহাবুদ্দীন চৌধুরী লিটন, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক আলী নূর, ক্রীড়া সম্পাদক আশরাফ আলী খান লিটন, দপ্তর সম্পাদক আাকবর বাপ্পি, প্রচার সম্পাদক মাহবুব আলম, প্রকাশনা সম্পাদক এম এ লতিফ।
কার্যকরী পরিষদে বিজয়ীরা হলেন- নাসির উদ্দিন আহমদ, মোহাম্মদ তৌহিদুল আলম, খোকন চৌধুরী, মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, মোহাম্মদ দিদার, শফিকুল আলম ও সজল নাথ।
মোট ২১টি পদের জন্য ৪২ জন প্রার্থী দু’প্যানেলে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার সৈয়দ এম রেজা চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আজম-বাদল পরিষদের সমর্থকরা উল্লাসে মেতে উঠেন। এসময় নির্বাচন কমিশনের অপর দু’সদস্য হেলাল উদ্দীন তসলিম ও এডভোকেট নিজাম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
আনন্দ সভা
নির্বাচনে ঘোষণার পরেই তাৎক্ষণিক বিজয়ীরা আনন্দ সভার আয়োজন করে। সভায় পরাজিত প্যানেলের জিয়া-আকবর পরিষদের প্রার্থীরাও আনন্দ সভায় যোগদেন। জয়ী ও পরাজিত প্রার্থীরা সবাই একসঙ্গে মিলিত হলে এক অন্যরকম পরিবেশ তৈরী হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এম রেজা বলেন, আজ থেকে আমেরিকায় বসবাসকারী চট্রগ্রামবাসী ঐক্যের সেতুবন্ধন রচিত হলো। নির্বাচনে সহযোগিতার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পেরেছি। এখন থেকে সব বিবাদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভবে সমিতিকে কাঙ্খিত গন্তব্যে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
বিজয়ী সভাপতি কাজী সাখাওয়াত হোসেন আজম বলেন, আজ থেকে আমাদের মাঝে আর কোন প্যানেল নেই, আমরা এক ও অভিন্ন। সমিতির উন্নয়নে সবাই এক সঙ্গে কাজ করে যাবো। তিনি বলেন, আজম-বাদল পরিষদের জয় চট্রলাবাসীর জয়। দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষিত একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে নির্বাচন কমিশন। জিয়া ভাইসহ সাবেক ও বর্তমান সবার পরামর্শ নিয়ে আমরা কাজ করবো।
অপর সভাপতি পদপ্রার্থী আব্দুল হাই জিয়া নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে চট্রগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে কারো মধ্যে সন্দেহ নেই। নির্বাচন কমিশনাররা শতভাগ নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছেন। আজ থেকে চট্রলাবাসী কাজী আজমের নেতৃত্বে সমিতির উন্নয়নে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, নির্বাচন কমিশনের সদস্য আফসার উদ্দীন, আকবর আলী ও শাহজাহান প্রমুখ।











