
বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আমেরিকানদের যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি সমাজ ও অর্থনীতির মূলধারায় অংশগ্রহণের আহবান
এখন সময় রিপোর্ট : ডেমোক্রেটিক দলীয় কংগ্রেসওম্যান ইয়েভেট ক্লার্ক বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোন বিশেষ ধর্মীয় গোষ্ঠীর একচ্ছত্র অধিকার ভোগ করার সুযোগ সৃষ্টি করেনি। এখানে সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সমান অধিকার প্রয়োগের দ্বার অবারিত করেছে এবং এটাই যুক্তরাষ্ট্রের সৌন্দর্য ও বৈচিত্র। যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের সকল জাতি গোষ্ঠীর মিলন কেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত আমেরিকানদের যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি, সমাজ ও অর্থনীতির মূলধারায় ক্রমবর্ধমান হারে অংশগ্রহণের আহবান জানান।
নিউইয়র্কের ১১ তম কংগ্রেসনাল ডিষ্ট্রিক্ট থেকে নির্বাচিত ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সংক্রান্ত কংগ্রেসনাল কমিটির সদস্য জ্যামাইকান বংশোদ্ভুত দ্বিতীয় প্রজন্মের আমেরিকান ইয়েভেট ক্লার্ক আরো বলেছেন যে, মুসলিম আমেরিকানদের কোনঠাসা করার লক্ষ্যে যে কংগ্রেসনাল হিয়ারিং এ তিনি তার আপত্তি উত্থাপন করে জোরের সাথে বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুসলমানদের অবদান অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর চেয়ে কোন অংশে কম নয়।
তারা ক্রমেই মূলধারার সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে। সেখান থেকে তাদেরকে প্রান্তিক একটি পর্যায়ে ঠেলে দেয়া অর্বাচীনতা ছাড়া কিছু নয়। যেসব বাংলাদেশী আমেরিকান ভোটার হয়েছেন তাদেরকে প্রতিটি নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং যারা ভোটার হননি তাদেরকে ভোটার হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন সবসময় খেয়াল রাখে যে কারা নির্বাচনের সময় স্বতস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসে। এব্যাপারে হিসপানিকরা এগিয়ে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদেরকে গুরুত্ব দেয়া হয়। একই গুরুত্বের অধিকারী হওয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশীদের প্রতিও আহবান জানান।
মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা), ব্রুকলীন ওয়েষ্ট চ্যাপ্টারের উদ্যোগে চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে প্এিস-১৭৯ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী সীরাত সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশনে গত ২৮ এপ্রিল শনিবার রাতে বিশেষ অতিথির ভাষণ দানকালে কংগ্রেসওম্যান এসব কথা বলেন। মুনা ব্রুকলীন ওয়েষ্ট চ্যাপ্টারের সভাপতি প্রফেসর কাজী মু: ইসমাইলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে যথাক্রমে বাংলাদেশ থেকে আগত বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ ও মুফাসসিরে কোরআন মাওলানা সাইয়েদ কামালউদ্দিন জাফরী ও মাওলানা রাফীক বিন সাঈদী বক্তব্য রাখেন। বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, মুনা’র ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট ডা: সাইদুর রহমান চৌধুরী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জিল্লু মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন। সম্মেলনের সভাপতি প্রফেসর কাজী মু: ইসমাইল কংগ্রেসওম্যানকে মুনা’র পক্ষ থেকে একটি প্ল্যাক প্রদান করেন। এছাড়া লং আইল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. শওকত আলী, বিশিষ্ট সাংবাদিক আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু, নিউইয়র্কের দু’জন ব্যবসা সফল ব্যক্তিত্ব মাহফুজুল মাওলা নান্নু ও আবদুল মালেককে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য বিশেষ সম্মাননা দেয়া হয়। তাদের হাতে প্ল্যাক তুলে দেন কংগ্রেসওম্যান ইয়েভেট ক্লার্ক। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আবু সামিহা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।
ইয়েভেট ক্লার্ক কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার পটভূমি ব্যাখ্যা করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসীদের দেশ এবং এদেশে প্রত্যেকের অধিকার সংবিধানে বিধিবদ্ধ, যার ব্যতিক্রম ঘটার কোন উপায় নেই। কিন্তু প্রতিটি নাগরিককে তার অধিকার সম্পর্কে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। তিনি তার পারিবারিক ঐতিহ্য, মূলধারার রাজনীতিতে তার মায়ের সক্রিয় ভূমিকা ও নিউইয়র্কের সিটি কাউন্সিলওম্যান হিসেবে দীর্ঘ একযুগ জনসেবা করা এবং মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সিটি কাউন্সিলে তার নিজের প্রতিনিধিত্ব ও পরবর্তীতে কংগ্রেসে নির্বাচিত হওয়ার বিষয় বর্ণনা করে একইভাবে সকলকে মূলধারায় সক্রিয় হওয়ার আহবান জানান।
সম্মেলনের প্রধান অতিথি মাওলানা সাইয়েদ কামালউদ্দিন জাফরী বলেন, ইসলাম ছাড়া মানব রচিত কোন বিধান দ্বারা বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হলে দু’টি বিশ্বযুদ্ধ ছাড়াই সে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতো।
শান্তির জন্য মানূষ ইসলামের দিকে ছুটে আসছে। তিনি বলেন, আমরা এমন এক পৃথিবীতে বসবাস করছি, যেখানে মানুষ মানুষের উপর নানাভাবে জুলুম চাপিয়ে দিচ্ছে। মানবাধিকারের লংঘন নিত্যনৈমিত্যিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় শক্তি নিপীড়িতের পক্ষে মুখ খোলার পরিবর্তে নিপীড়কের হাতকেই শক্তিশালী করছে। এটি
ভারসাম্যপূর্ণ কোন ব্যবস্থা নয় এবং এধরণের অবস্থা টিকিয়ে রেখে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা দুরাশা মাত্র। তিনি কোরআনের বাণী ‘কোন জনগোষ্ঠী যদি নিজেরা নিজেদের পরিবর্তন না আনে তাহলে আল্লাহ তাদের অবস্থার পরিবর্তন করেন না,’ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, আমরা যদি শান্তির উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তন না করি তাহলে কিভাবে আমাদের পক্ষে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব?
সম্মেলনের বিশেষ অতিথি মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মাওলানা রাফীক বিন সাঈদী বলেন, ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান ষড়যন্ত্রই প্রমাণ করে যে ইসলাম এক মহাশক্তি। এ শক্তিকে দাবাতে না পারলে ষড়যন্ত্রকারীরা কামিয়াব হতে পারবে না বলেই তারা ইসলামের বিরোধিতা করতে এক জোট হয়ে নেমেছে। ইসলামকে বিজয়ী করার জন্য আল্লাহ স্বয়ং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পাশাপাশি তিনি ইসলামের অনুসারীদের উপর কিছু দায়িত্বও অর্পন করেছেন। সে দায়িত্ব পালনের সাথে ইসলামের বিজয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তিনি তার পিতা কারারুদ্ধ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সরকারের দায়ের করা মামলাকে সম্পূর্ণ চক্রান্তমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বর্ণনা করে সকলের কাছে তার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
সম্মেলনে নিউইয়র্কের বেশ কয়েকজন পেশাজীবিকে স্ব স্ব ক্ষেত্রে কাজ করার সীকৃতি হিসাবে ক্রেষ্ট দেয়া হয়।









