ঢাকা অফিস : মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ভারতের অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জি আগামী ৫ মে ঢাকা সফরে যাচ্ছেন। প্রভাবশালী এই দুই দেশের দুই কর্তাব্যক্তির একই দিনে ঢাকা সফরে আসা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। তাদের এই আসন্ন সফরের মূল এজেন্ডা কি এই প্রশ্ন এখন সবার। তবে এই প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর মিলছে না। বিশেষ করে হিলারির সফর নিয়েই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বেশি কৌতূহল। হিলারির এই সফরকে অনেকটা নাটকীয় বলেই মনে করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর থেকে গত ২৬ তারিখ আকস্মিকভাবেই ঘোষণা করা হয় হিলারি ক্লিন্টন আগামী ৫ মে ঢাকা সফরে যাবেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এক তিক্ত সম্পর্ক তৈরি হয়। ড. ইউনূস ইস্যুতে হিলারির ফোন এবং চিঠিকে রীতিমতো উপেক্ষা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
গত বছরের শেষের দিকে দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া-বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক ঢাকা সফরে এসে সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ড ইউনূস ইস্যুর সম্মানজনক সুরাহা না হলে হিলারি ক্লিন্টন ঢাকা সফরে আসবেন না। ড ইউনূস ইস্যুর কোনো সুরাহা হয়নি। কিন্তু হিলারি ঢাকা সফরে আসছেন। আর এটা নিয়েই চলছে এখন আলোচনা। একই দিনে প্রণব মুখার্জি ঢাকা সফরে আসায় আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। প্রশ্ন আসছে, ড. ইউনূসের চেয়েও কি অন্য কোনো বিষয় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য, যে কারণে অতীতের তিক্ততাকে দূরে রেখে এই সফরে আসছেন হিলারি। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, চীনকে মোকাবিলার জন্য ভারতকে এশিয়ার নেতৃত্বে বসাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর এই এজেন্ডা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে সহায়ক শক্তি হিসেবে পেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর এই কারণে শেষ মুহূর্তে এসে ঢাকা সফরের বিষয়টি চূড়ান্ত করেছেন হিলারি। তিনি চীন থেকে ফেরার পথে ঢাকা আসবেন। ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে যাবেন দিল্লি।
হিলারির এই সফরে কি হবেএই আলোচনা এখন সর্বত্র। টিকফা বা সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে কোনো চুক্তি হবে কি না তা নিয়ে চলছে আলোচনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে বলেন, হিলারির সফরে কোনো চুক্তি হবে কি না তা আমাদের জানা নেই। টিকফার ব্যাপারে মার্কিন সরকারের ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে। তারা বারবার বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান জানতে চাইছে। তবে টিকফা সই হবে কি না সেই সিদ্ধান্ত আসবে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে।
এদিকে একটি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, হিলারির এই সফরে কোনো চুক্তি সই হবে না। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকফাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানাবেন হিলারিকে।
হিলারি সফরের অগ্রবর্তী দল এরই মধ্যে ঢাকা এসে পৌঁছেছেন। গতকাল সোমবার তারা বৈঠক করেছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল বিভাগের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে।
হিলারি ক্লিন্টন এই সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা: দীপু মনি, বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। তিনি ৫ তারিখ একটি বিশেষ বিমানে বিকাল ৪টায় ঢাকা পৌঁছবেন। ৬ তারিখ বেলা সাড়ে ৩টায় তিনি ঢাকা ছেড়ে যাবেন। অন্যদিকে প্রণব মুখার্জি ঢাকা পৌঁছবেন ৫ তারিখ রাত ৯টায়। তিনি ঢাকা ছেড়ে যাবেন ৬ তারিখ সন্ধ্যা ৬টায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী পালন উৎসবে যোগ দিতে ঢাকা এলেও প্রণব মুখার্জি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী দলের নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠক করবেন।
একই সময়ে ঢাকা অবস্থান করলেও হিলারি-প্রণব কোনো সাক্ষাত্ হবে কি না তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। তবে হিলারি-প্রণব সাক্ষাৎ হোক না হোক এই দুই নেতা বর্তমান সরকারের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা যে জানিয়ে যাবেন তা নিশ্চিত।









