
মোহাম্মদ আজাদ : আসছে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি একজন অতিমাত্রায় দুর্বল প্রার্থী। অর্থনীতি, বিদেশনীতি, সামাজিক রক্ষণশীলতার প্রশ্নে বক্তা এমনকি নির্বাচনী ক্যাম্পেইন সবদিক থেকেই ডেমক্র্যাট প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ওবামার চাইতে রিপাবলিকান প্রার্থী মিট রমনি একজন দুর্বল প্রার্থী। প্রথমেই ধরা যাক, অর্থনীতির প্রশ্ন। প্রেসিডেন্ট ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর আমেরিকার অর্থনীতিক অবস্থা ছিল বিপর্যস্ত। বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ১০ পার্সেন্ট। প্রেসিডেন্ট ওবামা ক্ষমতা গ্রহণের পর গত তিন বছরে অর্থনীতির চাকা অনেকটা সচল করতে সক্ষম হয়েছেন। আমেরিকার বেকার সংখ্যা এখন গড়ে ৮ পার্সেন্ট। এছাড়া প্রতি মাসেই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন চাকরির বাজার। জজ ডব্লিও বুশ ক্ষমতা গ্রহণের পর সবচাইতে বেশি চাকরি হারিয়েছিল ওয়াইহো অঙ্গরাজ্য। ওয়াইহোতে এখন বেকারত্বের সংখ্যা হচ্ছে ৭.৯ পার্সেন্ট। কিন্তু মিট রমনি ম্যাসামুসেটসের গভর্নর থাকাকালীন সময়ে সেই অঙ্গরাজ্যে নতুন কোন চাকরির বাজার সৃষ্টি করতে পারেনি। বরং সেখানে উল্টো কর্মচারী ছাটাই বা বরখাস্ত করেছিলেন সেটা এখন ইতিহাস হয়ে আছে।
এরপর আসবে বিদেশনীতি। বিদেশনীতি দিয়ে মিট রমনি প্রেসিডেন্ট ওবামাকে কোন দিক দিয়ে ধরবেন? ওবামা বিন লাদেনকে হত্যা, ইরানকে চাপে রাখা, ইসরাইলের সাথে সম্পর্কের ধারাবাহিকতা, রাশিয়ার সাথে সুসম্পর্কসহ কোন দিক দিয়েই বিদেশনীতিতে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে দুর্বল বলা যাবে না। রক্ষণশীলতা নিয়ে মিট রমনি অত্যন্ত দুর্বল। কারণ রিপাবলিকানদের ভোট ব্যাঙ্ক হচ্ছে এখানকার রক্ষণশীল সমাজ। ম্যাসাচুসেটের গভর্নর থাকাকালীন সময়ে গভর্নর রমনি উদারনীতি সকলের জানা আছে। সিনেটর রিকসেনটোরাম একবার রমনিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ম্যাসাসুটসের গভর্নর নির্বাচনের সময় আপনি বলেছিলেন, আপনি একজন লিবারেল। এরপর সেখানকার সিনেট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আপনি বলেছিলেন, আমি মেডারেট, আর এখন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে আপনি বলছেন, আপনি কনসারভেটিড কিন্তু আগামীকাল আপনি কি বলবেন? সুতরাং দেখা যাচ্ছে, মিট রমনি নিজেকে রক্ষণশীল পরিচয় দিতে পারবেন না। এখানে আরো প্রশ্ন আসতে পারে মিট রমনির নিজস্ব ধর্ম মরমনিজম নিয়ে। এখানকার রক্ষণশীল খৃস্টানরা মরমন ধর্মালম্বীদের সহ্য করতে পারেন না। প্রাইমারী লড়াই চলাকালীন সময়ে একবার কংগ্রেসম্যান রন পলের ৩৫ পার্সেন্ট সমর্থক বলেছিলেন নভেম্বরের নির্বাচনে তারা মিট রমনিকে ভোট দিবেন না। এরা সবাই সব ধরনের যোগ্যতা থাকার পর প্রার্থীকে হতে হবে একজন চৌকষ বক্তা। যেরকম বক্তা ছিলেন, প্রয়াত রোলান্ড রিগ্যান, সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন এবং বর্তমান প্রেসিডেন্ট ওবামা। কিন্তু মিট রমনির একজন চৌকষ বক্তা হিসেবে খ্যাতি নেই। তিনি দিতে পারেন না জ্বালাময়ী বক্তৃতা। কিন্তু তার প্রতিন্দ্বন্দ্বি ডেমক্র্যাট প্রার্থী প্রেসিডেন্ট ওবামা যে জ্বালাময়ী বক্তৃতা করতে পারেন সেটা এরই মাঝে প্রমানিত হয়েছে। এরপর আসবে ক্যাম্পেইন বা প্রচারাভিযান। নির্বাচনী প্রচারাভিযানে প্রেসিডেন্ট ওবামা যে কলাকৌশল জানেন সেটা মিট রমনির কাছে অনুপস্থিত। প্রেসিডেন্ট ওবামাকে নির্বাচনী কলাকৌশলের মাস্টার বলা হয়। অনেকে তাকে বলেন, হি ইজ এ গ্রেট ক্যাম্পেইন। অর্থনৈতিক অবস্থার দিক থেকেও মিট রমনি অতিশয় দুর্বল। নিজস্ব প্রচারের জন্য যেখানে প্রেসিডেন্ট ওবামার কাছে রয়েছে ২১ মিলিয়ন ডলার, সেখানে মিট রমনির হাতে আছে মাত্র ৭ মিলিয়ন ডলার। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ওবামা একবার স্বল্প সময়ে ৪২ বিলিযন ডলার ফান্ড রেইজিং করে আমেরিকার সব প্রেসিডেন্টের রেকর্ড ভঙ্গ করেছিলেন। সবকিছু পর্যালোচনা করলে মিট রমনিকে এখন পর্যন্ত দুর্বল প্রার্থীই বলা যায়।









